খুলনা মহানগর
পরিচ্ছন্ন শহর গড়ার কারিগরদের প্রচারে ম্লান নগরীর সৌন্দর্য
খুলনা নগরীর নতুন রাস্তা মোড়ে ভাস্কর্য ‘বীর বাঙালি’ ও ফোয়ারা ঢেকে গেছে নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে। অতি প্রচারের কারণে শীত মৌসুমে চত্বরের বাগানে ফুলের চারা রোপণও বন্ধ রাখা হয়েছে- জাহিদুল ইসলাম
হাসান হিমালয়, খুলনা
প্রকাশ: ২৫ নভেম্বর ২০২৫ | ০৭:২০ | আপডেট: ২৫ নভেম্বর ২০২৫ | ০৭:২০
| প্রিন্ট সংস্করণ
খুলনা নগরীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মোড় ‘শিববাড়ী’। বিভিন্ন সড়কের সংযোগস্থল ওই মোড়ে ‘অর্জন’ নামে মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য ও ফোয়ারা রয়েছে। ছিল ফুলের বাগান।
কয়েক মাস আগে ভাস্কর্য ঘিরে ফেস্টুন লাগাতে শুরু করেন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা।
এখন পুরো মোড়টি ফেস্টুনে ভরে গেছে, ঢেকে গেছে ভাস্কর্য। অতি প্রচারের কারণে শীত মৌসুমে বাগানে ফুলের চারা রোপণও বন্ধ রাখা হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাস তুলে ধরতে নগরীর দৌলতপুর নতুন রাস্তা মোড়ে ‘বীর বাঙালি’ নামের ভাস্কর্য স্থাপন করেছে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)। প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের হাত থেকে সেটিও রক্ষা পায়নি। ব্যানার-ফেস্টুনের আগ্রাসনে ঢাকা পড়েছে ওই ভাস্কর্য।
এ ছাড়া নগরীর ময়লাপোতা মোড়ের ষাটগম্বুজ মসজিদের রেপ্লিকা, নগরীর রয়েল মোড়ের রয়েল বেঙ্গল টাইগারসহ নগরীর সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য স্থাপিত সব স্থাপত্যই ঢেকে গেছে প্রার্থীদের ফেস্টুন-বিলবোর্ডে। সড়কের মাঝে কিংবা গুরুত্বপূর্ণ মোড়– সবখানে একই দশা। বাণিজ্যিক বিলবোর্ডগুলো দখল করে চলছে প্রচার। অতিমাত্রায় ব্যানার-ফেস্টুন ও বিলবোর্ডের কারণে শ্রীহীন হচ্ছে নগরী। সৌন্দর্যখচিত মোড়গুলো রূপ নিয়েছে তালি দেওয়া ছেঁড়া কাঁথার মতো!
নাগরিক নেতারা অভিযোগ করেন, অতীতে দিবসভিত্তিক কর্মসূচি এবং নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এসব কাজ করতেন। তখন বিএনপি-জামায়াত নেতারা এর সমালোচনা করতেন। প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর তাদের আত্মপ্রচার কিছু ক্ষেত্রে আগের তৎপরতাও ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব বাবুল হাওলাদার বলেন, ‘মানুষ প্যানা থেকে মুক্তি চেয়েছিল; কিন্তু বাস্তবতা হতাশাজনক। প্যানা-ফেস্টুন শুধু সৌন্দর্য ম্লান করছে না, প্লাস্টিক ও রং পরিবেশের ক্ষতি করছে। নগরীর যেটুকু সবুজায়ন রয়েছে, সেগুলোও ঢেকে ফেলছে। নির্বাচন কমিশন, কেসিসিসহ দায়িত্বরত প্রতিষ্ঠানগুলোর এখনই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
সরেজমিন নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও মোড় ঘুরে দেখা গেছে, বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের ব্যানার-ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে মোড়গুলো ভরে আছে। ভাস্কর্য, ফোয়ারা, ফুলের বাগান কিছুরই বাছ-বিচার নেই। সড়কের মাঝে ডিভাইডারেও লাগানো হয়েছে ফেস্টুন। পাশাপাশি অসংখ্য নেতার ছবিসহ বিলবোর্ড কদর্যরূপ নিয়েছে। কিন্তু নেতাদের চোখে তা ধরা পড়ছে না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থার ব্যবস্থাপক সমকালকে বলেন, ‘বিভিন্ন দিবস-কর্মসূচি, ঈদ-পূজাসহ উৎসবে আওয়ামী লীগ নেতারা বিলবোর্ড দখল করতেন। মাঝে কিছুদিন বন্ধ ছিল। এখন আবার সেই তৎপরতা শুরু হয়েছে। যে কয়দিন বিলবোর্ড দখল থাকে, ভাড়া নেওয়া কোম্পানি ওই কয়দিনের বিল কেটে রাখেন। গত ১১ মাসের মধ্যে দেড়-দুই মাসের বিল কাটা গেছে। কিছু বললে নেতাকর্মীরা উল্টো তেড়ে আসেন।’
নগরীর শিববাড়ী মোড়ে আড্ডারত আযম
খান কমার্স কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আরমান হোসেন বলেন, ‘ছবি দেখে ভোট দেওয়ার দিন শেষ। ব্যক্তির চরিত্র, তাঁর তৎপরতা দেখেই ভোট দেব। বরং অতিরিক্ত প্রচারে শহরের সৌন্দর্যের বারোটা বাজালে তারা ভোট পাবেন না।’
খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও খুলনা-২ আসনের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘আমি প্যানামঞ্জু হতে চাই না। প্যানা-ফেস্টুন লাগানোও পছন্দ করি না। ভাস্কর্য ও ফোয়ারা ঘিরে লাগানো সব ফেস্টুন আগামী দুই দিনের মধ্যে খুলে ফেলা হবে। অনুমতি ছাড়া যারা বিলবোর্ড ব্যবহার করেছেন, তাদেরও খুলে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
খুলনা মহানগর জামায়াতের আমির ও খুলনা-৩ আসনের প্রার্থী মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘বিএনপি প্রার্থীরা সরালে আমরা ১৫ মিনিটের মধ্যে সব ফেস্টুন সরিয়ে ফেলব। এ ছাড়া তপশিল ঘোষণার পর এমনিতেই সব খুলে ফেলা হবে।’
- বিষয় :
- পরিচ্ছন্ন নগরী
