ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

যন্ত্রের সংগ্রহশালা মঞ্জু মেকার সময়কে যত্নে রেখেছেন ধরে

যন্ত্রের সংগ্রহশালা মঞ্জু মেকার সময়কে যত্নে রেখেছেন ধরে
×

দোকানে যন্ত্র মেরামতে ব্যস্ত মঞ্জুরুল হক

মহিউদ্দিন রানা, ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ)

প্রকাশ: ২৯ নভেম্বর ২০২৫ | ০৬:৫৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

আধুনিকতার ছোঁয়ায় বদলে গেছে মানুষের জীবন। বিনোদন চলে এসেছে হাতের মুঠোয়। মানুষের হাতে স্মার্ট ফোন, ঘরে টেলিভিশন। তবে ব্যতিক্রম ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের দত্তপাড়ার মঞ্জুরুল হক (৬৫)। বর্তমান প্রজন্মের জন্য তিনি যত্ন সহকারে ধরে রেখেছেন হারানো দিনের স্মৃতি।
এক সময় গ্রামীণ ও শহুরে বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম ছিল সাদাকালো টেলিভিশন, রেডিও এবং ভিসিপি। মঞ্জুরুল হকের সংগ্রহে ৮০ ও ৯০ দশকের বিনোদন উপভোগের প্রায় সব মাধ্যমই রয়েছে। তিনি পৌর এলাকার দত্তপাড়ায় বাড়ির সামনে দোকানে ৪০ বছর ধরে সাদাকালো ও রঙিন টিভি, ভিসিপিসহ বিভিন্ন যন্ত্র মেরামতের কাজ করছেন। আধুনিক প্রযুক্তির আধিপত্যে এখন তেমন কাজ নেই। তবে মাঝেমধ্যে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ তাঁর কাছে এসব যন্ত্র মেরামতে ছুটে আসেন।

সরেজমিন মঞ্জুরুল হকের সংগ্রহশালায় সেই সময়ের সাদাকালো টিভি, ভিসিপি, রেডিও, সিডিআরসহ বিভিন্ন যন্ত্র পাওয়া যায়। দত্তপাড়া গ্রামের সত্তোর্ধ্ব নাজিম উদ্দীন বলেন, আমি আশির দশক থেকে মঞ্জু মেকারের সঙ্গে পরিচিত। তখন আশপাশের গ্রামের মানুষ টিভি, ভিসিপি ও রেডিও ঠিক করতে তাঁর কাছে আসতেন। এখন সময় বদলেছে। রেডিও হারিয়ে গেছে। ঘরে ঘরে স্মার্ট টিভি ও ইন্টারনেট। তার পরও মঞ্জু মেকারের কাছে পুরোনো যন্ত্র মেরামত করানোর আনন্দ আলাদা। তাঁর হাতের স্পর্শে নষ্ট যন্ত্রও জীবন্ত হয়ে ওঠে।

মঞ্জুরুল হক বলেন, আমি আশির দশক থেকে টিভি, সিডি, ভিসিপি, রেডিওসহ বিভিন্ন যন্ত্র মেরামতের কাজ করছি। অনেকে তাল মেলাতে না পেরে পেশা ছেড়ে দিয়েছেন। কারণ, স্মার্ট বা এলইডি টিভি মেরামতে যে প্রযুক্তি ও জ্ঞান দরকার, তা আমাদের কাছে নেই। আগের মতো কাজ আসে না। পেশার মায়াও ছাড়তে পারি না।

তিনি বলেন, মাঝেমধ্যে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ এসে আমাকে খোঁজ করেন বর্তমান সময়ে দুর্লভ টিভিসহ বিভিন্ন যন্ত্র মেরামতের জন্য। খুব ভালো লাগে তখন। আমার কাছে এটি শুধু যন্ত্র ঠিক করা নয়; হারানো দিনের স্মৃতি জীবন্ত রাখা। 

আরও পড়ুন

×