কক্সবাজার সৈকতে প্লাস্টিকের দৈত্য
সাগরে প্লাস্টিক বর্জ্যের দূষণের ভয়াবহতা সম্পর্কে পর্যটককে সচেতন করতে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে নির্মাণ করা হয়েছে ‘প্লাস্টিক দানব’ ভাস্কর্য। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় সিগাল পয়েন্ট থেকে তোলা সমকাল
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৭:০২ | আপডেট: ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৮:০৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
সমুদ্র দূষণ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে কক্সবাজার সৈকতে তৈরি করা হয়েছে প্লাস্টিকের দৈত্য। পরিত্যক্ত সামুদ্রিক প্লাস্টিক দিয়ে এক দল স্বেচ্ছাসেবী এই দানব তৈরি করে। এই দানব প্রাণ-প্রকৃতির বিরূপতার সাক্ষ্য দিচ্ছে। কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে নির্মিত সৈকতের সুগন্ধা সিগাল পয়েন্টে প্রদর্শন করা হচ্ছে এ ভাস্কর্যের। পাশাপাশি তিন মাসব্যাপী চিত্রপ্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় এই প্লাস্টিক ভাস্কর্যের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শহীদুল আলম ও বিদ্যানন্দের গভর্নিং বডির সদস্য জামাল উদ্দিন প্রমুখ।
সরেজমিন দেখা যায়, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সিগাল পয়েন্টের বালিয়াড়িতে ঠাঁই দাঁড়িয়ে আছে প্লাস্টিকের তৈরি ভয়ংকর দানব। দানবটি রক্ত-মাংসহীন। প্রতীকী হলেও এর হিংস্র থাবায় প্রতিনিয়ত ক্ষত-বিক্ষত মানবদেহ, প্রকৃতি ও প্রাণবৈচিত্র্য। সৈকতে ঘুরতে আসা যে কেউ এটি প্রথম দেখায় ভয় পেতে পারেন। তবে কাছে গেলে সেটা কেটে যাবে।
দেখা গেছে, একটা অতি বিশাল দৈত্য পৃথিবীকে দুই ভাগ করে ফেলেছে। পৃথিবীর বুক চিরে প্লাস্টিক বের হয়ে যাচ্ছে। বোঝা যাচ্ছে, পৃথিবী এক বুক প্লাস্টিক নিয়ে জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আছে।
জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে মানুষ প্লাস্টিক ব্যবহারে সতর্ক হবে।
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের গভর্নিং বডির সদস্য জামাল উদ্দিন বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্য রিসাইকেলের পাশাপাশি এখানে সচেতনতামূলক ভাস্কর্য প্রদর্শনীর আয়োজন করেছি।
ভাস্কর আবীর কর্মকার জানান, বিদ্যানন্দের ভিন্নধর্মী উদ্যোগ প্লাস্টিক দানবটি তৈরি করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের এক দল শিল্পী। এতে তারা প্লাস্টিক বর্জ্যের পাশাপাশি ব্যবহার করেছেন কাঠ, পেরেক, আঠাসহ কয়েকটি উপকরণ। ভাস্কর্যশিল্পীদের দাবি, এটি ওশান প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি বিশ্বের সর্ববৃহৎ ‘প্লাস্টিক দৈত্য’। এটি বানাতে প্রায় ৬ টন প্লাস্টিক ব্যবহার হয়েছে।
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের দায়িত্বরত স্বেচ্ছাসেবক মুহাম্মদ মুবারক জানান, প্রায় চার মাস ধরে কক্সবাজার, ইনানী ও টেকনাফের সমুদ্রসৈকত থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে অন্তত ৮০ টন সামুদ্রিক প্লাস্টিক বর্জ্য। এসব বর্জ্যের একটা অংশ দিয়ে দানবটি তৈরি করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, এখানে প্লাস্টিক দূষণবিরোধী সচেতনতামূলক পথনাটক ও সংগীতানুষ্ঠান আয়োজন করা হবে।
- বিষয় :
- কক্সাবাজার
