সীমানা প্রাচীরে নদীর জমি দখল
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের নান্দিয়া সাঙ্গুন গ্রামের সুতিয়া নদীর প্রায় এক বিঘা জমি দখল করে সীমানা প্রাচীর দিয়েছেন স্থানীয় এক প্রভাবশালী সমকাল
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৭:৩২
| প্রিন্ট সংস্করণ
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের নান্দিয়া সাঙ্গুন গ্রামে মিলিত হয়েছে ব্রহ্মপুত্র, শীতলক্ষ্যা ও সুতিয়া নদী। ফলে এলাকার নাম হয়েছে ত্রিমোহনী। নান্দিয়া সাঙ্গুন গ্রামের পূর্ব পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সুতিয়া নদীর পার প্রাচীর তুলে দখল করে নিয়েছেন ওয়াহিদুর রহমান নামের স্থানীয় এক প্রভাবশালী।
তিন নদীর মোহনায় সুতিয়া নদীর শুরুতে উঁচু সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করেছেন ওয়াহিদুর রহমান। দখল করে নেওয়া নদীর জমিতে সীমানা প্রাচীরে একটি মাদ্রাসার সাইনবোর্ড সাঁটিয়ে দিয়েছেন তিনি। স্থানীয়রা বলছেন, বছর কয়েক আগেও ওই জমিতে নদীর পানি থইথই করত। কয়েক বছর ধরে সেখানে চর জাগছে। এই চরের এক বিঘা জমি দখল করে নিয়েছেন ওয়াহিদুর রহমান। স্থানীয়রা জানান, ওয়াহিদুর রহমান প্রকাশ্যে ওই চর দখল করে নিয়েছেন। কেউ প্রতিবাদ করারও সাহস পায়নি।
ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নদীর ওই অংশ ছেড়ে দেওয়ার জন্য এক সপ্তাহ সময় দিয়েছে। ওয়াহিদুর রহমান অবশ্য দাবি করেছেন, নদীর পারে জেগে উঠা ওই জমি তাঁরই। সম্প্রতি গিয়ে দেখা যায়, শীতলক্ষ্যা, সুতিয়া ও ব্রহ্মপুত্র নদীর মোহনায় জেগে উঠা চরটি ইট সিমেন্টের দেয়াল দিয়ে দখল করা হয়েছে। অন্য একটি অংশ দখলের কাজ চলছে।
ত্রিমোহনী এলাকার এক বাসিন্দা জানান, ওয়াহিদুর রহমান খুবই প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ তাঁর বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পায় না। তিনি মাদ্রাসার নাম দিয়ে প্রকাশ্যে নদীর জায়গা দখল করে নিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, দখল করে নেওয়া পুরো জমিই নদীর। এক সময় এখানেই নদী ছিল। কয়েক বছর আগে এখানে চর জাগে। বর্ষাকালে এখনও ওই জায়গায় থইথই করে পানি।
অভিযুক্ত ওয়াহিদুর রহমান বলেন, এখানে নদীর জায়গা থাকতে পারে। এখন তো আর নদী নেই। আমি নিজের জমিতে সীমানা প্রাচীর তৈরি করেছি।
শ্রীপুরের ইউএনও সজীব আহমেদ বলেন, নান্দিয়া সাঙ্গুন গ্রামে নদীর জায়গা দখল করে একটি মাদ্রাসা নির্মাণ করার চেষ্টা হচ্ছে, এমন সংবাদ পাওয়ার পর সেখানে উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) পাঠানো হয়। তিনি পুরো এলাকা পরিদর্শন করেছেন। পরে অভিযুক্ত ওয়াহিদুর রহমানকে নদীর জায়গা থেকে সব স্থাপনা এক সপ্তাহের মধ্যে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। যদিও ওয়াহিদুর রহমান দাবি করেছেন, এটা তাঁর নিজের জমি। কিন্তু তাঁর দাবিটি সত্যি নয়। এটি নদীরই জায়গা। এক সপ্তাহের মধ্যে স্থাপনা ও সীমানা প্রাচীর সরিয়ে না নিলে প্রশাসন সেটা ভেঙে দেবে।
- বিষয় :
- সীমানা নির্ধারণ
