ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

আইএইচটিতে অন্ধকারে পড়াশোনা, ভোগান্তি

আইএইচটিতে অন্ধকারে পড়াশোনা, ভোগান্তি
×

আইএইচটিতে মোম জ্বালিয়ে লেখাপড়া করছেন এক শিক্ষার্থী সমকাল

আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৭:৪৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির (আইএইচটি) বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় ২৪ নভেম্বর থেকে প্রতিষ্ঠানটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এ অবস্থায় কেন্দ্রীয়ভাবে চতুর্থ বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষার ফরম পূরণের ঘোষণা আসে। বাধ্য হয়ে রংপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে শিক্ষার্থীরা হোস্টেলে ফিরে আসেন। মোট ৩৫ জন শিক্ষার্থী বর্তমানে হোস্টেলে অবস্থান করছেন।
সরেজমিন প্রতিষ্ঠান ঘুরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাতে প্রতিষ্ঠানজুড়ে নেমে আসে ঘন অন্ধকার। বিদ্যুৎ না থাকায় কেউ মোমবাতি জ্বালিয়ে, কেউ মোবাইল ফোনের আলোতে পড়াশোনা করছেন। আধুনিকতার ছোঁয়া নেই, মনে হয় যেন তারা ফিরে গেছেন বহুবছর পেছনে।

নৈশপ্রহরী স্বাধীন বলেন, ২০ দিন ধরে বিদ্যুৎ নাই। রাতের বেলায় বহিরাগত ও চোরেরা প্রবেশের চেষ্টা করে। এরই মধ্যে ছাত্ররা হোস্টেলে উঠেছে। বিদ্যুৎ না থাকায় তাদের নিরাপত্তা নিয়ে আমি শঙ্কিত। 
জানা গেছে, ২০২২ সালে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়। দুটি টেকনোলজিতে (ল্যাব ও ফার্মেসি) ৪৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। এর মধ্যে ৩৫০ জন হলে থাকেন। অর্থনৈতিক কোড না পাওয়াই স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠানটিতে ব্যয়ভারের অর্থ বরাদ্দ দেয়। এক বছর ধরে সেই বরাদ্দও বন্ধ। এ কারণে গত এক বছর বিদ্যুৎ বিল দিতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। ১৬ লাখ ৭৩ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় ২৩ নভেম্বর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। এরপর থেকেই অনির্দিষ্টকালের জন্য আইএইচটি বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। পরীক্ষার কারণে হোস্টেলে এসেছেন শিক্ষার্থীরা। এসেই পানির অভাব, রান্নার সংকট ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। দিনে জেনারেটর চালিয়ে পানি তোলা হলেও তা যথেষ্ট নয়। রাতে অন্ধকারের সুযোগে বহিরাগতরা প্রবেশের চেষ্টা করে। 

ফার্মেসি বিভাগের চতুর্থবর্ষের শিক্ষার্থী আসাদুজ্জামান রিপন ও ল্যাবরেটরি বিভাগের শিক্ষার্থী নুর আমিন  বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনা, খাওয়া-দাওয়া সবকিছুই ভোগান্তিতে পরিণত হয়েছে। পরীক্ষা সামনে, কিন্তু এমন পরিবেশে প্রস্তুতি নেওয়া কঠিন।
অধ্যক্ষ ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুস মণ্ডল সমকাল প্রতিবেদককে বলেন, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় প্রতিষ্ঠান আপাতত বন্ধ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের হোস্টেলে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়নি, তারা নিজেরাই অবস্থান করছেন। সমস্যা সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে।

আরও পড়ুন

×