ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

টেকনাফ সীমান্তে গোলাগুলির শব্দে আতঙ্ক

গুলিতে টিনের চাল ছিদ্র, কেঁপে উঠেছে বাড়িঘর

টেকনাফ সীমান্তে গোলাগুলির শব্দে আতঙ্ক
×

টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ে মিয়ানমার থেকে ছোড়া একটি গুলি হাতে স্থানীয় এক বাসিন্দা

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ | ২১:১৭

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার নাফ নদের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বিবদমান কয়েকটি গোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলি হয়েছে। শনিবার ভোরে শুরু হওয়া গোলাগুলি চলেছে টানা বেলা ১১টা পর্যন্ত। ব্যাপক বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠেছে এপারের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ঘরবাড়ি। বেশ কয়েকটি বাড়ির টিনের চালাও গুলিতে ছিদ্র হয়েছে।

সীমান্তের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, রাখাইন রাজ্যে শক্তিশালী অবস্থানে থাকা আরাকান আর্মির সঙ্গে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মি (আরসা) ও আরাকান রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের (আরএসও) মধ্যে সংঘর্ষের এই ঘটনা ঘটে। এই সংঘাতের পর টেকনাফের সীমান্ত এলাকায় প্রচণ্ড আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

বালুখালী গ্রামের বাসিন্দা সরওয়ার আলমের ভাষ্য, গোলাগুলির শব্দ পাওয়ার পরপরই তিনি সন্তানদের নিয়ে ঘরের ভেতর নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নেন। হঠাৎ একটি গুলি টিনের ছাউনি ছিদ্র করে ঘরের ভেতরে পড়ে। গুলিটি হাতে নিলে দেখেন সেটি গরম।

একই গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ভোর থেকে মিয়ানমারের সীমান্তে প্রচণ্ড গোলাগুলির শব্দ হচ্ছিল। এতে আতঙ্কিত হয়ে সবাই ঘর থেকে বেরিয়ে পড়েন। টানা চার ঘণ্টা ধরে গুলির শব্দ পেয়েছেন। এ সময় বাড়িঘর কেঁপে উঠছিল।

গুলির শব্দে ঘুম ভেঙে যায় আব্দুল কুদ্দুসের। তিনি বলেন, কিছুক্ষণ পর ঘরের টিনের চালেও শব্দ পান। পরে দেখেন, সেখানেও গুলি এসে পড়েছে।

হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু বলেন, ভোর থেকে প্রায় চার ঘণ্টা ধরে সীমান্তবর্তী এলাকায় মর্টারশেল বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দ পান। এতে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। সীমান্ত এলাকার বাসিন্দার মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ছোড়া গুলি বাংলাদেশের ভেতরেও এসে পড়ে। 

এই জনপ্রতিনিধি জানিয়েছেন, ওপার থেকে ছোড়া কয়েকটি গুলি হোয়াইক্যং বাজারসংলগ্ন মোহাম্মদ হোসেন ও আব্দুল কুদ্দুসের বাড়ি এবং বালুখালী গ্রামের সরওয়ার আলমের বাড়িতে পড়েছে। এছাড়া উত্তর পাড়াসংলগ্ন নাফ নদে একটি মর্টারশেল পড়েছিল। সেই সেল থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখেছেন।

হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই খোকন কান্তি রুদ্রের ভাষ্য, ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত মিয়ানমার সীমান্ত থেকে এপারে প্রচুর গোলাগুলির শব্দ পেয়েছেন। কয়েকটি বাড়িতে গুলি পড়ার খবরও পাওয়া গেছে। তারা এ বিষয়ে নজরদারি রাখছেন।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইনামুল হাফিজ নাদিম জানিয়েছেন, তারা সীমান্তে গোলাগুলির বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন।

আরও পড়ুন

×