বাঘাইছড়ি পৌরসভা
৮০ লাখের কাজ ভাগাভাগির পাঁয়তারা
রাঙামাটি অফিস
প্রকাশ: ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৭:৩৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি পৌরসভায় ৮০ লাখ টাকার উন্নয়নকাজের দরপত্র প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক ঠিকাদারের অভিযোগ, পছন্দের সিন্ডিকেটকে কাজ দিতে তাদের লাইসেন্স কৌশলে আটকে রাখা হয়েছিল। পরে বিএনপি নেতার সমর্থনে একটি চক্র নিজেরা ভাগাভাগি করে কাজগুলোর দরপত্র দাখিল করেছে। ইউএনওর কাছে অভিযোগ করেও সমাধান মেলেনি।
সূত্রগুলো জানায়, বাঘাইছড়ি পৌর কর্তৃপক্ষ গত ৭ ডিসেম্বর ছয়টি লটের ৮০ লাখ ৩০ হাজার টাকার উন্নয়নকাজের জন্য অনলাইন দরপত্র আহ্বান করে। দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল ১৪ ডিসেম্বর। কাজের মধ্যে রয়েছে– ১ নম্বর ওয়ার্ডে মাস্টারপাড়া থেকে কাচালং ডিগ্রি কলেজ সড়ক পর্যন্ত আরসিসি সড়ক, বায়তুস শরফ মাদ্রাসা থেকে কাচালং ডিগ্রি কলেজ পর্যন্ত আরসিসি সড়ক ও চৌমুহনী থেকে রিভারঘাট পর্যন্ত আরসিসি সড়ক নির্মাণ; ২ নম্বর ওয়ার্ডের চৌমুহনী ও মুসলিম ব্লকে ওভারহেড ওয়াটার রিজার্ভার নির্মাণ, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে বর্ডার গার্ড প্রাইমারি স্কুলের সামনে ওয়েটিং কাম রেস্টরুম ও কাচালং কলেজে শহীদ মিনার নির্মাণ; ৪ নম্বর ওয়ার্ডে বাবুপাড়া-হাজীপাড়া সড়কের পাশে ইটের গাইডওয়াল ও বাঘাইছড়ি সদর উপজেলা কবরস্থানের বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ডে বটতই-হেডম্যানপাড়া প্রধান সড়ক নির্মাণ।
একাধিক ঠিকাদারের ভাষ্য, ই-টেন্ডারে অংশগ্রহণের জন্য ঠিকাদারি লাইসেন্স নবায়ন করতে হয়। এজন্য তারা সেগুলো জমা দিলে আটকে রাখা হয়। ৮ ডিসেম্বর ১৩ জন ঠিকাদারকে দরপত্রে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা করে তাদের লাইসেন্স ফেরত দেওয়া হয়। কিছু লাইসেন্সে তারিখ ঘষামাজার অভিযোগ তোলেন তারা।
তারা অভিযোগ করেন, একটি চক্র সংঘবদ্ধভাবে কাজ ভাগাভাগির জন্য তাদের লাইসেন্স আটকিয়ে রেখেছিল। তারা বাঘাইছড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ওমর আলীসহ কয়েকজন নেতাকর্মীর সহায়তায় দরপত্র দাখিল করেন। অন্যদের দরপত্র দাখিলের সুযোগ দেননি। এতে সহায়তা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক আমেনা মারজান, কার্যসহকারী আশিকুর রহমান মানিক ও লাইসেন্স পরিদর্শক মাসুম হোসেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঠিকাদার বলেন, দরপত্র ঘোষণার পর থেকেই প্রভাবশালী মহলের আশীর্বাদপুষ্ট সিন্ডিকেট পৌর প্রশাসকের সঙ্গে আঁতাত করে পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে নেয়। নবায়নের জন্য আবেদন করা ঠিকাদারদের লাইসেন্স বই জব্দ করে রাখা হয়, যাতে তারা ইজিপিতে দরপত্র দাখিল করতে না পারেন।
তারা জানতে পেরেছেন, যাদের ইজিপি অ্যাকাউন্ট নেই, তাদের নতুন লাইসেন্স ও নবায়নের জন্য আবেদন করা লাইসেন্স বই আটকে রেখে দরপত্র দাখিলের শেষ সময়ে ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। এর সত্যতাও পেয়েছেন। ৮ ডিসেম্বর শুধু যেসব লাইসেন্স দরপত্রে অংশ নিতে পারবে না, সেগুলোই বিতরণ করা হয়। তিনি বলেন, সব ঠিকাদার যেহেতু এই দরপত্রে অংশ নিতে পারেননি, সেহেতু বাতিল করে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করতে হবে।
উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. আবছার আলীও পেশায় ঠিকাদার। তিনি বলেন, দরপত্রে অনিয়মের বিষয়টি ইউএনওকে জানানো হলেও প্রতিকার মেলেনি। দরপত্র আহ্বানের পর থেকেই পৌর প্রশাসনের সহায়তায় নিয়ন্ত্রণে নেয় সিন্ডিকেটটি। নবায়নের জন্য আবেদন করা ঠিকাদারদের লাইসেন্স বই জব্দ করে রাখা হয়। তারা যাতে ইজিপিতে দরপত্র দাখিল করতে না পারেন, এ জন্যই এই কাজ করা হয় বল অভিযোগ তাঁর।
বাঘাইছড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি ওমর আলী এতে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেন। নিজেকে কাঠ ব্যবসায়ী উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমার কোনো ঠিকাদারি লাইসেন্স নেই। যারা ঠিকাদারি করছেন তারাই দরপত্রে অংশ নিতে পারেন। এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না।’
বক্তব্য জানতে কার্যসহকারী আশিকুর রহমান মানিক, লাইসেন্স পরিদর্শক মাসুম হোসেনের মোবাইল ফোন নম্বরে সংযোগ মেলেনি। পৌর প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা ইউএনও আমেনা মারজান বলেন, পৌরসভার ইজিপি দরপত্রের কার্যক্রম ১৬ ডিসেম্বর শেষ হবে। এসব বিষয় সমাধানে বসা হবে। অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করলে সংযোগ কেটে দেন।
- বিষয় :
- পৌরসভা
