ভাতাভোগীদের ‘পকেট কাটছেন’ ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা
মিঠামইন (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৭:৩৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার কলমা ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে ভাতাভোগীদের সেবা দেওয়ার নামে অবৈধ অর্থ আদায় ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ভাতা আবেদন থেকে শুরু করে মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট খোলার প্রতিটি ধাপে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছেন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর দুটি অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, সরকারের বয়স্কভাতা, বিধবাভাতা, গর্ভবতীভাতার আবেদন করতে গেলে ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা শ্যামল চন্দ্র দাস এক হাজার টাকা ‘আবেদন ফি’ দাবি করেন; যা সম্পূর্ণ বেআইনি। পাশাপাশি ভাতার টাকা তোলার সুবিধার কথা বলে মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট খুলতে তাঁর দোকান থেকে নতুন সিম কিনতে বাধ্য করেন সেবাগ্রহীতাদের। প্রতি সিমের দাম রাখেন ৫০০ টাকা। দাম নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুললে অন্য দোকান থেকে কেনা সিম গ্রহণ না করার হুমকিও দেওয়া হয়। এ ছাড়া মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট খোলার সময় ভাতাভোগীর সিম কার্ড নিজের কাছে রেখে দেন শ্যামল এবং পাসওয়ার্ডও সেট করেন তিনি। পরে সরকারি ভাতার টাকা অ্যাকাউন্টে জমা হলে প্রথমেই টাকা তুলে নেন তিনি। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্যের মাধ্যমে সিম কার্ড ভাতাভোগীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা উজ্জ্বল দাস, বিকাশ দাস, রামেশ্বর দাস, নেতা রানী দাসসহ একাধিক ভাতাভোগী বলেন, তারা গরিব মানুষ। ভাতা পাইলে সংসার চলে। কিন্তু আবেদন, সিম কিনা, টাকা তোলা–সব জায়গাতেই টাকা লাগে। না দিলে কোনো কাজ হয় না।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কলমা ইউনিয়ন পরিষদের অধীনে পরিচালনা করা ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট ব্যাংকিং শাখায়ও একচ্ছত্র প্রভাব রয়েছে শ্যামলের। সেখানেও নানা কৌশলে সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি করেন তিনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভাতাভোগী জানান, অ্যাকাউন্টে ১,০০০ থেকে ৩,০০০ টাকার কম ব্যালান্স থাকলে টাকা তোলা যাবে না বলে তাদের বলা হয়। তবে শ্যামলকে ‘কিছু দিলে’ সেই নিয়ম তখনই ভেঙে যায়।
এদিকে গত শনিবার সরেজমিনে কলমা ডিজিটাল সেন্টারে অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানে গিয়ে নতুন চিত্র সামনে আসে। এ সময় উপজেলা সদরের কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিকে ফোন করে সাংবাদিকদের ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা করেন শ্যামল।
স্থানীয় মোহনতলা বাজার কমিটির সভাপতি কৃষ্ণনন্দ দাস বলেন, কলমা ইউপি ডিজিটাল সেন্টারে ভাতাভোগীদের পদে পদে হয়রানি করা হয়। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ডিজিটাল সেন্টারে সৎ ও দক্ষ উদ্যোক্তা নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
কলমা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. এরশাদ উদ্দিন জানান, ইউপি ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা শ্যামলের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি ও নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কিছুদিন আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. দিলশাদ জাহানের কাছে এসব বিষয়ে অভিযোগ দিয়েছেন দুই ভুক্তভোগী।
কলমা ইউপি চেয়ারম্যান রাধাকৃষ্ণ দাস বলেন, ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা শ্যামল চন্দ্র দাসের নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে তাঁর কাছে অনেক ভাতাভোগী মৌখিক অভিযোগ দিয়েছেন। এ বিষয়ে উজ্জ্বল দাস এবং বিকাশ দাস নামে দুজন ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। সম্প্রতি ইউএনও বদলি হওয়ায় এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার সময় পাননি।
এ বিষয়ে অষ্টগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিলভিয়া স্নিগ্ধা সমকালকে বলেন, তিনি এখানে নতুন যোগ দিয়েছেন। এ বিষয়ে শিগগিরই তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
- বিষয় :
- ভাতাভোগী
