ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

রাস্তার পাশে সীমানা প্রাচীরের ধস ঠেকাতে বাঁশের খুঁটি

রাস্তার পাশে সীমানা প্রাচীরের  ধস ঠেকাতে বাঁশের খুঁটি
×

আড়াইহাজার ইমদাদুল উলুম আলিম মাদ্রাসার হেলে পড়া সীমানা প্রাচীর সমকাল

আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৭:৫১

| প্রিন্ট সংস্করণ

বাঁশের খুঁটি দিয়ে ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার পৌরসভার আড়াইহাজার ইমদাদুল উলুম আলিম মাদ্রাসার হেলে পড়া সীমানা প্রাচীর। ঝুঁকিপূর্ণ এই দেয়ালের পাশের সড়ক দিয়ে চলাচল করছে পথচারী, স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা। দ্রুত এটি সংস্কার না করলে যে কোনো মুহূর্তে ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, আড়াইহাজার পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মুকুন্দি এলাকায় আড়াইহাজার ইমদাদুল উলুম আলিম মাদ্রাসাটি ১৯৮২ সালে স্থাপিত হয় এবং ১৯৯৬ সালে এমপিওভুক্ত হয়। সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য মাদ্রাসার দক্ষিণাংশে মাদ্রাসার নিজস্ব জায়গার ওপর দিয়ে একটি রাস্তা নির্মিত হয়। ২০১৯ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সিআরডিপি-২ এর আওতাধীন দিঘিরপাড় চৌরাস্তা থেকে মাদ্রাসা হয়ে মুকুন্দি পর্যন্ত রাস্তাটি সিসি ঢালাই করা হয়। রাস্তাটি দিয়ে নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর আড়াইহাজার জোনাল অফিস ও কমিউনিটি ক্লিনিকে যেতে এবং যানজট এড়াতে এই রাস্তাটি বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহার করায় প্রতিদিন শত শত অটোরিকশা, পল্লী বিদ্যুতের গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে। 

ব্যস্ততম এই রাস্তার কারণে মাদ্রাসার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ২০২৪ সালে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩০৫ মিটার লম্বা একটি সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে। এর মধ্যে রাস্তার ফুটপাত থেকে ছয় ফুট দূরত্বে মাদ্রাসার সামনের দক্ষিণ অংশে রাস্তার পাশে প্রায় ১২০ মিটার সীমানা প্রাচীর রয়েছে। ছয় মাস আগে আড়াইহাজার পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ওই সিসি ঢালাইয়ের এক পাশে পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। পর্যাপ্ত দূরত্ব থাকা সত্ত্বেও ড্রেনের জন্য পৌরসভার ঠিকাদার মাদ্রাসার সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে ভেকু দিয়ে মাটি উত্তোলন করেন। এতে সীমানা প্রাচীর হেলে পড়ে। বিপজ্জনক ফাটল দেখা দেয় সীমানা প্রাচীরের বেশ কয়েকটি স্থানে। এ ছাড়া মাদ্রাসার প্রবেশ গেট ড্রেন করার সময় ধস দেখা দিলে ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তা ভেঙে ফেলতে হয়। 

এদিকে হেলে পড়া মাদ্রাসার সীমানা প্রাচীরটি এখন শঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রাচীরটি ধসের হাত থেকে রক্ষার জন্য বাঁশের খুঁটি দিয়ে ঠেকিয়ে রেখেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। প্রাচীরের সামনে ব্যস্ত পাকা সড়ক হওয়ায় যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
মাদ্রাসার শিক্ষকরা জানান, দেয়ালটি যে কোনো সময় ধসে পড়তে পারে। এতে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী হাফসা আক্তার বলে, প্রতিদিন ভয়ে ভয়ে এই রাস্তা পার হয়ে মাদ্রাসায় যাই। 
স্থানীয় বাসিন্দা আমজাদ হোসেন বলেন, দেয়ালটি বিপজ্জনকভাবে হেলে আছে। যখন তখন ধসে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এই দেয়ালের পাশ দিয়ে শিক্ষার্থীসহ প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ যাতায়াত করেন।

আড়াইহাজার পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মোঃ বশির উল্লাহ জানান, সড়কটি দিয়ে প্রতিনিয়ত হাজারো মানুষ শত শত গাড়ি নিয়ে চলাচল করে থাকে। শিক্ষার্থীসহ এলাকার শিশুরা এ দেয়ালের পাশে খেলাধুলা ও যাতায়াত করে। যে কোনো মুহূর্তে দেয়ালটি ধসে পড়ে হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে। প্রাচীরটি দ্রুত সংস্কার করে নতুন দেয়াল নির্মাণ করা প্রয়োজন।

আড়াইহাজার ইমদাদুল উলুম আলিম মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম বলেন, মাদ্রাসার ফান্ডে টাকা না থাকায় হেলে পড়া ঝুঁকিপূর্ণ এই সীমানা প্রাচীর দ্রুত সংস্কারের জন্য আড়াইহাজার পৌরসভাকে অনুরোধ করা হয়েছে। তারা মাদ্রাসার প্রবেশ গেট করার জন্য বরাদ্দ দিয়েছে। প্রাচীর নির্মাণের জন্য বরাদ্দের আবেদন জানিয়েছি। তারা আশ্বাস দিয়েছেন। 

এ ব্যাপারে আড়াইহাজার পৌরসভার প্রকৌশলী সাফায়েত সাদী জানান, মাদ্রাসার প্রবেশ গেট করার জন্য বরাদ্দ দিয়েছি। প্রাচীরের সংস্কারের বিষয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর যদি অনুমতি দেয় তাহলে পৌরসভা থেকে করে দেওয়া হবে। 
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপপ্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম জানান, পৌরসভা থেকে মাদ্রাসার গেট নির্মাণ করে দিচ্ছে। আর প্রাচীরটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগ 
থেকে করে দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৫-২০ দিনের মধ্যে প্রাচীরের কাজটি সম্পন্ন করার আশা প্রকাশ করেন তিনি। 

আরও পড়ুন

×