ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বোরো ধান রোপণে ব্যস্ত হাওরপাড়ের কৃষক

বোরো ধান রোপণে ব্যস্ত হাওরপাড়ের কৃষক
×

তাহিরপুরের শনির হাওরে বোরো বীজ ধান রোপণে ব্যস্ত কৃষক। শুক্রবারের তোলা। ছবি: সমকাল

তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৭:১৯

তাহিরপুরের হাওরে বোরো ধান রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক। হাওরের পানি দ্রুত সরে যাওয়ার কারণে এবার সময়মতোই কৃষকরা জমিতে বীজ ধান রোপণের সুযোগ পেয়েছেন।

উপজেলার শনির হাওর, মাটিয়ান হাওর, মহালিয়া হাওর, আঙ্গারুলি হাওর, বর্ধিত গুরমার হাওর ও বর্ধিত মাটিয়ান হাওর ঘুরে এমন দৃশ্যই দেখা গেছে। হাওরের অধিকাংশ জমিতে কৃষকদের ধান রোপণের কাজ এরই মধ্যে অনেকদূর এগিয়ে গেছে। চাষিদের জমিতে সহায়তা করছেন তাদের পরিবারের সদস্যরাও।

তাহিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসসূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে ছোট-বড় ২৩টি হাওরের ৩০ ভাগ জমিতে এখন পর্যন্ত ধান রোপণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

এদিকে বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হওয়ায় অনেক কৃষক পিতার সঙ্গে জমিতে কাজ করতে দেখা গেছে অনেক শিক্ষার্থীকে। পরিবার বলছে, পড়ালেখার পাশাপাশি মা-বাবার সঙ্গে জমিতে কাজ করায় সন্তানরা বাবার কষ্ট ও ত্যাগের মর্ম অনুধাবন করতে পারবে। তা ছাড়া এতে ছোট কৃষকদের শ্রমিক খরচ কমে যায়। অনেকে আবার পরিবারের সদস্য ও শ্রমিকদের জন্য খাবার নিয়ে জমিতে যাচ্ছে; আবার কেউ হালিচারা সংগ্রহ করছে।

শনির হাওরপাড়ের শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের মারালা গ্রামের কৃষক মিয়া হোসেন জানান, হাওরের পানি নামতে অন্য কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। শনির হাওরের স্লুইসগেটের পাশাপাশি বড় একটি ভাঙা রয়েছে। সেদিক দিয়েও হাওরের পানি দ্রুত নামছে, যার কারণে জমিতে কাজ শুরু করা গেছে দ্রুত।

তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের গোবিন্দশ্রী গ্রামের কৃষক সেলিম আখঞ্জি বলেন, বোরো ধানের চারা রোপণের এখনই চূড়ান্ত সময়। তাদের এলাকায় হাওরের পানি ধীরগতিতে নামছে, যে কারণে জমিতে ধান রোপণ কিছুটা বিলম্ব হবে।

হাওরপাড়ের নোয়ানগর গ্রামের কৃষক আবদুল কাদির জানান, নোয়ানগর গ্রামের জমি সবই পড়েছে শনির হাওরে। গ্রামের কৃষকরা প্রতিদিনই তাদের জমিতে ধান রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তাহিরপুর উপজেলার উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মনির হোসেন জানান, জমিগুলো বোরো চাষের উপযোগী করে তুলতে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পরামর্শ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে কৃষকের কষ্ট না হয়।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান, শনির হাওরে এ বছর ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিদের প্রণোদনার বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কৃষকরা বোরো রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তিনি আরও জানান, উপজেলা বিভিন্ন হাওরে এ পর্যন্ত ৩০ ভাগ জমিতে বোরো ধান রোপণ করা হয়েছে।

ইউএনও মো. মেহেদী হাসান মানিক বলেন, হাওরগুলো ঘুরে দেখেছেন। মাটিয়ান হাওরের নাওটানা খালটি সরকারি ব্যবস্থাপনায় কেটে দেওয়ায় রক্ষা পেয়েছে প্রায় ১০ হাজার একর জমি।

আরও পড়ুন

×