ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

দেড় যুগের আইনি লড়াই শেষে স্বপ্ন দিল ধরা

২৭তম বিসিএস থেকে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক

দেড় যুগের আইনি লড়াই শেষে স্বপ্ন দিল ধরা
×

সাজ্জাদুর রহমান

বেলাব (নরসিংদী) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৮:২৭ | আপডেট: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৯:৫৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

দেড় যুগের আইনি লড়াই শেষে স্বপ্ন ধরা দিয়েছে মোহাম্মদ সাজ্জাদুর রহমানের। বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তবে জীবন থেকে হারিয়ে গেছেন তাঁর মা; সেই সঙ্গে হারিয়ে গেছে গুরুত্বপূর্ণ সময়। তিনি বেলাব উপজেলার বিন্নাবাইদ ইউনিয়নের বীরকান্দা গ্রামের প্রয়াত আব্দুল জলিল বেস্তীর সন্তান। দীর্ঘদিন বীরকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে কর্মরত ছিলেন।
জানা যায়, ২০০৭ সালে ২৭তম বিসিএস পরীক্ষা বাতিলের কারণে অনেকের মতো মোহাম্মদ সাজ্জাদুর রহমানের জীবনেও নেমে আসে দীর্ঘ অনিশ্চয়তা। সে সময়ের তরুণ এই চাকরিপ্রার্থী আজ একজন অভিজ্ঞ স্কুল শিক্ষক। তবে বিশ্বাস ছিল, আদালতে গিয়ে নিশ্চয় সফল হবেন। সেই বিশ্বাস থেকেই দীর্ঘ ১৮ বছর আইনি লড়াই চালিয়ে গেছেন। অবশেষে চলতি বছর ১৮ ডিসেম্বর উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ২৭তম বিসিএসের ৬৭৩ জনকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নব-নিয়োগ শাখা। তাদের মধ্যে মোহাম্মদ সাজ্জাদুর রহমানের ক্রমসংখ্যা ১৫। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি বিসিএস ক্যাডার হিসেবে যোগ দেবেন কর্মস্থলে।

বিসিএস ক্যাডার হিসেবে নিয়োগের সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ায় মোহাম্মদ সাজ্জাদুর রহমানের বাড়িতে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। রয়েছে কিছু আক্ষেপও। তিনি জানান, তাঁর বয়স যখন সাড়ে ৩ বছর তখন বাবা মারা যান। তারপর মায়ের হাত ধরেই তাঁর পথচলা। মা সবসময় স্বপ্ন দেখতেন, তিনি যেন বড় হয়ে বিসিএস ক্যাডার হন। ২০০৭ সালে ২৭তম বিসিএস বাতিলের খবর শুনে তাঁর মা প্রথমবার স্ট্রোক করেন। এরপর ২০২৪ সালে দ্বিতীয়বার স্ট্রোক করার কিছুদিন পর মারা যান। তিনি বলেন, ‘আজ মা যদি বেঁচে থাকতেন তাহলে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন। বিশ্বাস করুন, আমার এইটুকু আসার ক্ষেত্রে আমার মায়ের অবদানই বেশি। আমাকে নিয়ে যদি কিছু লিখেন তাহলে এর সব কৃতিত্ব আমার মাকে দিয়ে লিখবেন।’ কথাগুলো যখন বলছিলেন, তখন তাঁর চোখ ছলছল করছিল। কণ্ঠ ভারি হয়ে আসছিল।

মোহাম্মদ সাজ্জাদুর রহমান বেলাব সরকারি পাইলট মডেল হাই স্কুল থেকে এসএসসি, নটর ডেম কলেজ থেকে এইচএসসি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগ থেকে স্নাতক সম্মান এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর শিক্ষাজীবনও ছিল উজ্জ্বল।

২০০৫ সালের ৯ অক্টোবর তিনি বীরকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে যোগদান করেন। শ্রেণিকক্ষেই কাটিয়েছেন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়। একদিকে শিক্ষকতা, অন্যদিকে ২৭তম বিসিএস বাতিলের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই। দীর্ঘ ১৮ বছর নিজের স্বপ্নকে বুকে আগলে রেখে শিক্ষার্থীদের হাতে হাত রেখে গড়ে তুলেছেন। বিসিএস ক্যাডার হিসেবে নিয়োগের সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার খবরে এক মাসের বেতন রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়ে শিক্ষকতা পেশায় ইস্তফা দিয়েছেন তিনি।
 

আরও পড়ুন

×