পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল প্রায় ১২ কোটি টাকা
টাকা গণনার সময় তোলা ছবি
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০১:৩০
কিশোরগঞ্জ শহরের ঐহিত্যবাহী পাগলা মসজিদের ১৩টি দানবাক্স আজ শনিবার খোলা হয়। এতে পাওয়া যায় ৩৫ বস্তা টাকা।
পৌনে ১৩ ঘণ্টা গণনা শেষে পাওয়া গেছে ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা। সঙ্গে পাওয়া গেছে মার্কিন ডলারসহ বিদেশি মুদ্রা, সোনা ও রূপার গহনা। আরও ছিল বরাবরের মতই বহু চিঠি ও চিরকুট। এর বাইরে শুক্রবার পর্যন্ত অনলাইনে পাওয়া গেছে ১২ লাখ ৭৯ হাজার ৯৪৩ টাকা।
এর আগে ৩০ আগস্ট পাওয়া গিয়েছিল ৩২ বস্তা টাকা। গণনা করে পাওয়া যায় ১২ কোটি ৯ লাখ ৩৭ হাজার ২২০ টাকা। টাকা রূপালী ব্যাংকে মসজিদের হিসাবে জমা রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রূপালী ব্যাংকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আলী হারেছী।
তিন মাস ২৭ দিন পর আজ সকাল ৭টায় পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা ও পুলিশ সুপার ড. এসএম ফরহাদ হোসেনের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়। দান বাক্সের টাকা ও অন্যান্য উপকরণ ৩৫টি বস্তায় ভরে মসজিদের দোতলায় নিয়ে গণনা করা হয়। পাগলা মসজিদ কমপ্লেক্স মাদ্রাসার শিক্ষক ও ছাত্র, শহরের আল জামিয়াতুল ইমদাদিয়া মাদ্রাসার ছাত্র ও রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তাসহ ৪৬০ জন টাকা গণনায় অংশ নেন। গণনা শেষ করতে পৌনে ১৩ ঘণ্টা সময় লাগে।
দানবাক্সের বাইরেও মানতকারীরা গবাদি পশু, হাঁস-মুরগি, কবুতর, দুধ এবং সবজিও দান করে থাকেন। এগুলো প্রতিদিন বিকেলে উন্মুক্ত নিলামে বিক্রি করে মসজিদের ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হয়। শনিবারের টাকা ছাড়াই এখন পর্যন্ত মসজিদের ব্যাংক হিসাবে ১০৪ কোটি টাকা জমা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা। এছাড়া বিদেশি মুদ্রা ও গহনাগুলো ট্রেজারিতে জমা আছে। সেগুলো উন্মুক্ত নিলামে বিক্রি হবে বলেও জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক। দানের টাকা দিয়ে এখানে একটি ১০ তলা মাল্টিপারপাস মসজিদ ও ইসলামী কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
- বিষয় :
- কিশোরগঞ্জ
- পাগলা মসজিদ
