বিপজ্জনক বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার দাবি
নান্দাইলের বিয়ারা গ্রামে কাগজ-কলমে ৫ ফুট বোরিং দেখিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া হয়। তবে ঝুঁকিপূর্ণ লাইনে নেওয়া বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে এক হাজার ২০০ ফুট দূরে মৎস্য খামারে সমকাল
নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৮:২৫ | আপডেট: ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১২:৪১
| প্রিন্ট সংস্করণ
নান্দাইল উপজেলায় অনুমোদিত সেচের জায়গায় নামমাত্র বোরিং দেখিয়ে নিয়ম বহির্ভূতভাবে মৎস্য খামারে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিয়ারা গ্রামে প্রায় এক হাজার ২০০ ফুট দীর্ঘ লাইনে বাঁশের খুঁটি দিয়ে এই সংযোগ নেওয়া হয়েছে। দূরবর্তী স্থানে বিপজ্জনক বিদ্যুৎ সংযোগটি এলাকাবাসীর ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই লাইনটি দ্রুত বিচ্ছিন্ন করার দাবি জানিয়ে একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, গাঙ্গাইল ইউনিয়নের বিয়ারা গ্রামের সুজন মিয়া একটি সেচপাম্পে বিদ্যুৎ সংযোগ নেন। কাগজে-কলমে তিনি ৫ ফুট বোরিং দেখিয়ে সংযোগ নিলেও বাস্তবে সেই বিদ্যুৎ তিনি ওই পাম্পে ব্যবহার করছেন না। এক হাজার ২০০ ফুট দূরে আরেকটি পাম্প বসিয়েছেন দেখিয়ে সেখানে থাকা একটি মৎস্য খামারে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন। বাঁশের খুঁটির সঙ্গে জোড়াতালির ওই লাইনে মৎস্য খামারে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়ায় যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা সেলিম মিয়া জানান, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়ার কারণে যে কোনো সময় সেখানে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই তারা দুর্ঘটনা এড়াতে ওই অবৈধ সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করার দাবি জানান।
সুজন মিয়ার বাড়িতে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর ভাই মিলন মিয়া বাঁশের খুঁটি দিয়ে দীর্ঘ বিদ্যুৎ লাইন টানার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, তাদের মূল পাম্পটি অকেজো হয়ে পড়েছে। তাই এভাবেই নতুন পাম্পে বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে বাধ্য হয়েছেন। সেচের লাইন দিয়ে মৎস্য খামারে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অবৈধ হলে লাইন কেটে দেব। আশপাশে এমন অনেক লাইন আছে, সেগুলোও কাটতে হবে।’
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নান্দাইল জোনাল অফিসের ডিজিএম প্রার্থ চক্রবর্তী জানান, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা সেচ প্রকল্প কমিটির সভাপতি ইউএনও ফাতেমা জান্নাত বলেন, অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে সেচ লাইন চালানোর কোনো সুযোগ নেই। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএমকে বলে দেবেন তিনি।
