ঢাকা বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

গফরগাঁওয়ে দ্বিতীয় দিনের অবরোধ, ছয় ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ

গফরগাঁওয়ে দ্বিতীয় দিনের অবরোধ, ছয় ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ
×

গফরগাঁওয়ে ট্রেন অবরোধ। ছবি: সমকাল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ ও গফরগাঁও প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ | ২১:১৯

ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনে মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বাচ্চুকে বিএনপি মনোনয়ন দেওয়ায় উত্তাল হয়ে উঠেছে এলাকা। এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে মনোনয়নবঞ্চিত বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা দ্বিতীয় দিনের মতো গফরগাঁও পৌরশহর ও রেললাইন অবরুদ্ধ করে রাখে। দফায় দফায় অগ্নিসংযোগ, রেললাইনে স্লিপার ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। দুই দফায় ৬ ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে।

শনিবার বিকেলে আক্তারুজ্জামান বাচ্চুর মনোনয়ন পাওয়ার খবর পৌঁছলে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন মনোনয়নবঞ্চিত ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান ও তাঁর ভাতিজা মুশফিকুর রহমানের অনুসারীরা। তারা শনিবার বিকেলে গফরগাঁও স্টেশনে তাণ্ডব চালায়। স্টেশন মাস্টারের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে রেললাইনের ওপর আগুন ধরায়।

বিক্ষোভের ধারাবাহিকতায় আজ রোববার সকাল ৯টা থেকে দ্বিতীয় দিনের মতো পৌরশহরে অবরোধ শুরু হয়। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা শহরের অর্ধশতাধিক স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে ও গাছ ফেলে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে। এতে শহরের সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। অভ্যন্তরীণ সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়েন।

আজ সকাল থেকে স্টেশনের ইয়ার্ড, শিবগঞ্জ ও কাচারি ক্রসিংয়ে রেললাইনের ওপর কাঠের গুঁড়ি ও স্লিপার ফেলে অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষোভকারীরা। অনেকে রেললাইনে শুয়ে পড়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বলাকা কমিউটার ট্রেন স্টেশনে আটকা পড়ে।

খবর পেয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এন এম আব্দুল্লাহ আল মামুন সেনাবাহিনী ও পুলিশ নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। শেষে সেনা পাহারায় প্রায় তিন ঘণ্টা পর দুপুর ১২টার দিকে আটকা পড়া ট্রেনটি স্টেশন ত্যাগ করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেনাসদস্যরা চলন্ত ট্রেনের সঙ্গে প্রায় এক কিলোমিটার হেঁটে ট্রেনটিকে নিরাপদ দূরত্বে পৌঁছে দেন। পরে দ্বিতীয় দফায় আবারও ট্রেন অবরোধ করা হলে বিকেল সাড়ে ৪টায় সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে তা সরিয়ে নেওয়া হয়।

রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ইনচার্জ সিরাজুল ইসলাম জানান, রেলের অনেক যন্ত্রাংশ পুড়ে যাওয়ায় কর্তৃপক্ষ বিপাকে পড়েছে। কয়েকটি ট্রেন শিডিউল বিপর্যয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন

×