নির্বাচনী হলফনামা
দশ বছরে শফিউলের আয় বেড়েছে ৩, সম্পদ ৬ গুণ
মোহাম্মদ শফিউল আলম
আবদুল্লাহ আল মামুন, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৭:৫৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকে ২০১৫ সালে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন মোহাম্মদ শফিউল আলম। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নে প্রার্থী হয়েছেন। ২০১৫ সালে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, চাকরি খাত থেকে তাঁর বার্ষিক আয় ৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা। কৃষি, ব্যবসা কিংবা অন্য কোনো খাত থেকে তাঁর আয় নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু এবার হলফনামায় বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ১৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এ হিসাবে ১০ বছরের ব্যবধানে তাঁর আয় বেড়েছে প্রায় তিনগুণ।
২০১৫ সালে তাঁর স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ছিল প্রায় ৯ লাখ ৭৮ হাজার টাকা। তখন স্বর্ণ, আসবাব এবং দালানের পরিমাণ উল্লেখ করলেও দাম উল্লেখ করেননি তিনি। এখন তা বেড়ে হয়েছে ৫৭ লাখ টাকা। এ হিসাবে তাঁর সম্পদ বেড়েছে প্রায় ছয়গুণ। বেড়েছে তাঁর চাকরিজীবী স্ত্রী বিলকিছ আক্তারের সম্পদও। আগে স্ত্রীর কোনো সম্পদের তথ্য দেননি তিনি। শুধু ২২ হাজার টাকার একটি ডিপিএস থাকার কথা উল্লেখ করেন শফিউল আলম। এখন তাঁর স্ত্রীর কাছে থাকা সম্পদের পরিমাণ ৩৮ লাখ টাকা। এ হিসাবে তাঁর স্ত্রীর সম্পদ বেড়েছে প্রায় ৩৭ গুণ। ২০১৫ সালে শফিউলের হাতে নগদ টাকা ছিল ৫ লাখ। এবার হয়েছে ২৭ লাখ ৮৪ হাজার।
কোন খাত থেকে কত আয় করেন
শফিউল তাঁর এবারের নির্বাচনী হলফনামায় দুটি খাত থেকে আয় দেখিয়েছেন। বেসরকারি চাকরি থেকে ১৪ লাখ ২৯ হাজার টাকা ও শেয়ার কিংবা সঞ্চয়পত্র থেকে তিনি আয় দেখিয়েছেন ৯৮০ টাকা। তাঁর স্ত্রী নিজেকে চাকরিজীবী উল্লেখ করলেও ব্যবসা থেকে ৫০ হাজার টাকা শেয়ার ও সঞ্চয়পত্র থেকে ৯৯ হাজার টাকা, শিক্ষাগত পেশা থেকে ২ লাখ টাকা এবং চাকরি থেকে আলাদাভাবে বছরে এক লাখ ২৯ হাজার ৫০০ টাকা আয় দেখিয়েছেন।
যা আছে ২০১৫ সালের হলফনামায়
২০১৫ সালের হলফনামায় অস্থাবর সম্পদের বিবরণে বলা হয়েছে, শফিউলের কাছে নগদ রয়েছে ৫ লাখ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া ডিপিএস ও বন্ডে বিনিয়োগ রয়েছে ৩০ হাজার টাকা এবং প্রভিডেন্ট ফান্ড ও পোস্টাল সেভিংস সার্টিফিকেটে জমা আছে ৩ লাখ টাকা। তাঁর কাছে দুই ভরি স্বর্ণালংকার রয়েছে। ৯৮ হাজার টাকার গাড়ি আছে তাঁর।
যা আছে আয়কর নথিতে
আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রামের চাকরিজীবী মোহাম্মদ শফিউল আলমের ২০১৪-১৫ করবর্ষের আয়কর রিটার্নে তাঁর আয়ের প্রধান উৎস হিসেবে চাকরির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম কর অঞ্চলের সার্কেল-৭৬ (বেতন) এ দাখিল করা রিটার্ন অনুযায়ী, ওই করবর্ষে
তাঁর মোট বেতন ও ভাতাদি ছিল ৫ লাখ ৬৩ হাজার ৫৯৮ টাকা। সেবার তিনি মোট ৫ হাজার ৯৮২ টাকা আয়কর পরিশোধ করেন। ওই সময় তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১২ লাখ ২৩ হাজার ৪১ টাকা।
এ প্রসঙ্গে মোহাম্মদ শফিউল আলম সমকালকে বলেন, ‘জ্ঞাত আয় বহির্ভূত কোনো সম্পদ নেই। আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি পরিচালক ছিলাম। পদোন্নতি পেয়ে এখন পরিচালক হিসেবে
আছি। স্বাভাবিকভাবে আয় বেড়েছে। অস্বাভাবিক কিছু নেই।’
- বিষয় :
- হলফনামা
