ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

আম্মারের মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ বিশিষ্টজনের

আম্মারের মন্তব্যের তীব্র  প্রতিবাদ বিশিষ্টজনের
×

সালাহউদ্দিন আম্মার

 রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি 

প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৮:২০

রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন শিক্ষক ও বিভিন্ন সংগঠন। গতকাল সোমবার তারা বলেছেন, ‘আওয়ামীরাও নেটওয়ার্কের কার্যক্রম বন্ধ করতে পারেনি। কে বন্ধ করবে? দুঃসাহস কার?’     

এর আগে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক বন্ধের আহ্বান জানান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার। ‘ক্যাম্পাসে ছাত্র প্রতিনিধিদের এখতিয়ারবহির্ভূত তৎপরতা বন্ধ হোক’ শিরোনামে গত রোববার একটি বিবৃতি দেয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক। এই বিবৃতির প্রতিক্রিয়ায় আম্মার গতকাল এ আহ্বান জানান। 
বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক একেএম মাসুদ রেজা ফেসবুকে লিখেছেন, শিক্ষক নেটওয়ার্কের জন্ম ২০২৪ সালের আগস্টের পরে নয়; নেটওয়ার্কের জন্ম ২০১৪ সালে। আওয়ামীরাও নেটওয়ার্কের কার্যক্রম বন্ধ করতে পারেনি। এই নেটওয়ার্ক তার নাম-পরিচয় লুকিয়ে নিজেদের কার্যক্রম কখনও পরিচালনা করেনি। জুলাইয়ের গণআন্দোলনে শিক্ষক নেটওয়ার্কের সক্রিয়তার কথা গোটা দেশবাসীর জানা আছে!

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের নেতাসহ অনেকেই আম্মারের বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন-রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সমন্বয়ক মাহাইর ইসলাম ফেসবুকে লিখেছেন, ‘কোথাকার কোন ধইঞ্চা শিক্ষক নেটওয়ার্ক নিয়ে কথা বলল, আর নেটওয়ার্কের লোকজন তার প্রতিউত্তরে নিজেদের ডিফেন্ড করা শুরু করল! আজব, এসবের আদৌ কোনো প্রয়োজন আছে? শিক্ষক নেটওয়ার্কের লোকজনের কয়েক বছরের ত্যাগ ও তিতিক্ষার কাছে ওর মতো কয়েকশ ধইঞ্চাকে বহুবার বিক্রি করা যাবে!’
গত রোববার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিদের এখতিয়ারবহির্ভূত কার্যক্রমের নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক। এতে বলা হয়, রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের নেতৃত্বে নানা ধরনের ‘মব’ প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। ডিনদের পদত্যাগ করানো, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের হয়রানি তৎপরতা চলমান। রাকসুর জিএস প্রশাসনের কাছে জবাবদিহি না চেয়ে বরং ছয়জন ডিনের পদত্যাগ দাবি করেন। কেবল তাই নয়; নিজেই যেন ‘প্রশাসন’ হয়ে অত্যন্ত ঔদ্ধত্যপূর্ণ ভাষায় ডিনদের বিরুদ্ধে হুমকি দেন। এমনকি এখতিয়ারবহির্ভূতভাবে নিজে পদত্যাগপত্র লিখে এনে বিভিন্ন বিভাগে গিয়ে ডিনদের খুঁজতে থাকেন, সম্ভবত লাঞ্ছিত করার উদ্দেশ্যে। ১২ জন ডিনের প্রত্যেকেই আওয়ামী শাসনামলে নির্বাচিত হলেও বাকি ছয়জন হয়তো রাকসু জিএসের বিবেচনায় ‘রাজনৈতিক বিবেচনায় উত্তীর্ণ’। ফলে তাদের পদত্যাগের দাবি ওঠেনি; তাদের নিয়ে অবমাননাকর কিছু বলাও হয়নি। এই উদ্ভূত অসম্মানজনক পরিস্থিতিতে ‘প্রগতিশীল শিক্ষক’ হিসেবে পরিচিত ছয়জন ডিন দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ক্যাম্পাসে ‘ত্রাসের রাজত্ব’ কায়েম করতে রাকসুর জিএস ভব্যতার সকল সীমা ছাড়িয়ে বারবার ঘোষণা করতে থাকেন, লীগপন্থি শিক্ষকরা ক্যাম্পাসে ঢুকলে ‘কলার ধরে টেনে এনে প্রশাসন ভবনের সামনে বেঁধে রাখা হবে’। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা যা করছেন, তা রাকসুর এখতিয়ারবহির্ভূত এবং তাদের আচরণও ‘আগ্রাসী’ ও ‘সন্ত্রাসীদের’ মতো। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আমরা এর জবাবদিহি প্রত্যাশা করি। কেননা, রাকসুর নেতাদের এ রকম আচরণ কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করেনি; এটা সরাসরি বিদ্যায়তনিক স্বাধীনতার ওপরে হামলা। এর ‘স্পাইরাল অ্যাফেক্ট’ পড়েছে সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।

আরও পড়ুন

×