মেহেরপুরে ঘন কুয়াশা, বেড়েছে শীতের তীব্রতা
মেহেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১০:৩২
গত তিন দিন ধরে মেহেরপুর জেলায় সূর্যের দেখা না মিললেও তাপমাত্রা ১২ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছিল। হঠাৎ মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশা পড়তে শুরু করেছে। একই সঙ্গে বাড়ছে শীতের তীব্রতা। ফলে আজ ভোর থেকে ঘন কুয়াশার কারণে স্বাভাবিক চলাফেরা ব্যাহত হচ্ছে। সড়কগুলোতে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলছে যানবাহন। সকালে ঘর থেকে বের হওয়া মানুষেরা শীত নিবারণে আগুন জ্বালিয়ে তাপ নিচ্ছেন। বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষজনের ভোগান্তি বেড়েছে। অন্যদিকে বাড়তি শীতের পোশাক নিয়ে চলাফেরা করছেন শ্রমজীবী ও কর্মজীবী মানুষ। ফসলে মাঠে যেতে পারছেন না কৃষক।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল ছয়টায় মেহেরপুরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এসময় বাতাসের গড় আদ্রতা ছিল ৯৬%। যা এ বছরের মধ্যে মেহেরপুরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বলে মনে করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা বলছেন, গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে আজ ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত জেলায় হাড় কাঁপানো শীতের সঙ্গে চলছে উত্তরের হিমেল হাওয়া। হাড় কাঁপানো শীতে শুধু জনজীবন নয়, জবুথবু হয়ে পড়েছে পশু-পাখিও। কনকনে ঠান্ডায় বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। হিমেল হাওয়া আর হাড় কাঁপানো শীতে ঘর থেকে বের হতে পারছেন না মানুষ। ছিন্নমূল মানুষের মাঝে নেমে এসেছে হাহাকার। খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করছেন তারা।
সদর উপজলোর বন্দর গ্রামে সবজি ক্ষেতে করা শ্রমিক শরিফুল ইসলাম বলেন, গত তিনদিন সূর্যের দেখা মেলেনি। বুধবার রাত থেকে শুরু হয়েছে ঘন কুয়াশা। রাস্তায় কিছু দেখা যাচ্ছে না। প্রচণ্ড শীতে কাজ করা খুব কষ্ট সাধ্য হয়ে গেছে। আর কাজ না করলে খাওয়া জুটবে না। তাই বাধ্য হয়ে জমিতে কাজ করছি।
বুড়িপোতা গ্রামের ভ্যানচালক আলমাস হোসেন বলেন, উত্তরের হীমেল হাওয়ায় ভ্যান চালানো কষ্টসাধ্য হয়ে গেছে। তবুও পেটের তাগিদে ভ্যান নিয়ে বের হয়েছি। বাজারে সবজি নিয়ে এসেছি। বিক্রি হলেই চলে যাবো। আজ আর ঘর থেকে বের হবো না।
পৌর বড় বাজারে ফুটপাতের কাপড় ব্যাবসায়ী আব্দুল আওয়াল বলেন, এবছর শীত তেমন একটা অনুভূত না হওয়ায় গরম কাপড়ের ব্যাবসা খুব একটা হচ্ছিল না। হঠাৎ কয়েকদিন তীব্র শীত পড়ায় এখন কাপড় মোটামুটি বিক্রি হচ্ছে। আমরা কম দামে কাপড় বিক্রি করে দিচ্ছি। আমাদের এখানে প্রকারভেদে একশ টাকা থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত শীতের গরম কাপড় ফুটপাতে বিক্রি করছি। ক্রেতারা তাদের সাধ্যের মধ্যে থেকে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক ড. সৈয়দ এনামুল কবীর বলেন, এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে যেসব শীতবস্ত্র এসেছে সেগুলো বিতরণ করা হয়েছে। যেখানেই শীতার্ত মানুষের কষ্ট হচ্ছে সেখানেই উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা ছুটে যাচ্ছেন। এছাড়া আরও শীতবস্ত্র চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। শুধু সরকারিভাবেই নয়, সমাজের বিত্তবানদের প্রতিও ছিন্নমূল অসহায় শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
