বিএনপির প্রার্থী টিএস আইয়ুবসহ যশোরে দুটি আসনে ৬ জনের মনোনয়ন বাতিল
বিএনপির মনোনীত প্রার্থী টিএস আইয়ূব
যশোর অফিস
প্রকাশ: ০২ জানুয়ারি ২০২৬ | ২৩:৫০
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোরে আরও দু'টি সংসদীয় আসনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হয়েছে। এতে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীসহ ছয় প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। শুক্রবার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এ সিদ্ধান্ত দেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশেক হাসান।
রিটার্নিং অফিস সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যশোর-৩ (সদর) ও যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর ও বসুন্দিয়া ইউনিয়ন) আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করেন জেলা রিটার্নিং অফিসার। যশোর সদরে ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী ও দলটির শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক মুহাম্মদ শোয়াইব হোসেন ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) প্রার্থী নিজাম উদ্দিন অমিতের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। ইসলামী আন্দোলনের শোয়াইব আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে ঋণখেলাপি ছিলেন। আর জাগপার নিজাম দলীয় মনোনয়ন ও হলফনামার কপি জমা দিতে ব্যর্থ হন।
মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার পর যশোর-৩ আসনে এখন বৈধ প্রার্থী হিসেবে থাকছেন জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী আব্দুল কাদের, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও দলটির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জাতীয় পার্টির খবির গাজী ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) রাশেদ খান।
এদিকে যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর ও বসুন্দিয়া ইউনিয়ন) মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন ১০ জন প্রার্থী। এর মধ্যে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী টিএস আইয়ূব, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, স্বতন্ত্র প্রার্থী ফারহান সাজিদ ও জাতীয় পার্টির জহুরুল হকের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী টিএস আইয়ূবের ঢাকা ব্যাংকে খেলাপি ঋণ রয়েছে। তার প্রার্থীতা গ্রহণ না করতে সম্প্রতি জেলা রিটার্নিং অফিসারকে চিঠি দিয়েছিলেন ব্যাংকটির ধানমন্ডি মডেল ব্র্যাঞ্চের কর্মকর্তারা। তার ছেলে ফারহান সাজিদও নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ১ শতাংশ ভোটারের নাম ও সই জমা দিয়েছিলেন স্বতন্ত্র এই প্রার্থী। তবে এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ফারহান ভোটারের যে তালিকা দিয়েছেন, সেখানে অসত্য তথ্য দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে ভোটারের তালিকা যাচাই করে দেখা গেছে ১০ জনের মধ্যে অধিকাংশের ব্যাপারে অসত্য তথ্য দেওয়া হয়েছে। যে কারণে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
আরেক প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করলেও দলীয় মনোনয়ন ফরম জমা দিতে পারেননি। ফলে তার মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। এছাড়া জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী জহুরুল হকের মনোনয়ন ফরম অসম্পূর্ণ থাকায় তার মনোনয়নও বাতিল করা হয়। ফলে এই আসনে বৈধ প্রার্থী হিসেবে থাকছেন বিএনপির বিকল্প মনোনীত প্রার্থী মতিয়ার রহমান ফারাজী, জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক গোলাম রসুল, স্বতন্ত্র এম নাজিমউদ্দিন আল আজাদ, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি) সুকৃতি কুমার মণ্ডল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বায়েজীদ হোসাইন ও খেলাফত মজলীশের আশেক এলাহী।
যশোর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, এদিন দু'টি আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে যশোর -৩ ও ৪ আসনে মোট ৬ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। বাতিল হওয়া প্রার্থীরা আপিল করতে পারবেন। এছড়া জেলার বাকি দুটি আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে শনিবার।
যশোর জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলায় ৬টি সংসদীয় আসনে ৪৬ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন। এর মধ্যে বিএনপি থেকে ১০ জন, জামায়াত ইসলামীর ৬ জন, স্বতন্ত্র ১০ জন, ইসলামী আন্দোলনের ৬ জন, জাতীয় পার্টির ৬ জন, বিএনএফ, বাসদ, জাগপা, সিপিবি, খেলাফত মজলিস ও মাইনরিটি জনতা পার্টি থেকে একজন, এবি পার্টির ২ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর আগে ৬টি আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন ৭১ জন প্রার্থী।
- বিষয় :
- যশোর
- যশোর-৪
- বিএনপি
- মনোনয়ন বাতিল
