ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন : হলফনামা বিশ্লেষণ
প্রার্থীদের অধিকাংশের আয়ের উৎস ব্যবসা ও কৃষিখাত
ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন আসন
তানভীর হোসাইন, ময়মনসিংহ
প্রকাশ: ০৩ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৮:১৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
ময়মনসিংহের বিভিন্ন আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের চেয়ে সম্পদে এগিয়ে আছেন বিএনপি প্রার্থীরা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানা গেছে।
ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনের বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের হলফনামায় পেশা হিসেবে ব্যবসার কথা উল্লেখ করেছেন। কৃষি খাত থেকে তাঁর বার্ষিক আয় তিন লাখ টাকা, ব্যবসা থেকে ২৬ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। নিজ নামে তাঁর কাছে নগদ অর্থ রয়েছে ১৭ লাখ ৯ হাজার টাকা। তাঁর কাছে থাকা সব অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য দেখানো হয়েছে দুই কোটি টাকা।
এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান। কৃষি, বাড়ি ভাড়া ও ব্যবসা থেকে তাঁর কোনো আয় নেই। নগদ অর্থ আছে আড়াই লাখ টাকার। ব্যাংকে আছে এক লাখ ৯ হাজার টাকা। সঞ্চয়পত্র আছে ছয় লাখ ৩৯ হাজার টাকার। নিজের নামে স্বর্ণ আছে ২০ ভরি। তাঁর কোনো ব্যাংক ঋণ নেই।
একই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বিএনপি নেতা সালমান ওমর রুবেল। বাড়ি ভাড়া থেকে তাঁর বার্ষিক আয় ২৭ লাখ ২৬ হাজার টাকা। ব্যবসা থেকে আয় এক কোটি এক লাখ ৭২ হাজার টাকা। শেয়ার বাজার থেকে আয় ১৮ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। নিজের ও স্ত্রীর নামে রয়েছে নগদ ১৩ লাখ টাকা, বিভিন্ন ব্যাংকে আছে এক কোটি ৭৮ লাখ টাকা, বন্ড কেনা রয়েছে এক কোটি ৩৭ লাখ টাকার, সঞ্চয়পত্র কেনা আছে এক কোটি ৪৪ লাখ টাকার, বীমা আছে এক কোটি ১২ লাখ টাকার। এগুলোসহ রুবেলের সব অস্থাবর সম্পত্তির আনুমানিক মূল্য দেখানো হয়েছে ১০ কোটি ১৫ লাখ টাকা। স্থাবর সম্পত্তির মূল্য দেখানো হয়েছে ছয় কোটি ৫০ লাখ টাকা। তাঁর ব্যাংক ঋণ চার কোটি ৬৩ লাখ টাকা।
ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনে বিএনপির প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদার। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা ২২টি। কৃষি খাত থেকে তাঁর বার্ষিক আয় চার লাখ ২৫ হাজার টাকা, ব্যবসা থেকে আয় চার লাখ ৬০ হাজার টাকা। নিজের কাছে নগদ অর্থ আছে ১৫ লাখ ৩৭ হাজার টাকা, স্ত্রীর কাছে নগদ অর্থ আছে ৩১ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। মোট অস্থাবর সম্পত্তির আনুমানিক মূল্য দেখানো হয়েছে ৬৯ লাখ ৫২ হাজার টাকা। নিজের ও স্ত্রীর স্থাবর সম্পত্তির মূল্য দুই কোটি ৮২ লাখ টাকা। তাদের ঋণ এক কোটি তিন লাখ টাকা।
এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ার হাসান। ব্যবসা থেকে তাঁর বার্ষিক আয় চার লাখ ৫৪ হাজার টাকা। তাঁর কাছে নগদ আছে ছয় লাখ টাকা। নিজের স্বর্ণ আছে ২০ ভরি, স্ত্রীর আছে ৯ ভরি। স্থাবর-অস্থাবর মিলিয়ে তাঁর মোট সম্পত্তি ৭৮ লাখ টাকার।
ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের বিএনপি প্রার্থী আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ পেশা হিসেবে উল্লেখ করেছেন ব্যবসা। তাঁর স্ত্রী ও মেয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী চাকরিজীবী। কৃষি খাত থেকে তাঁর বার্ষিক আয় ৫১ হাজার ৭৫০ টাকা, বাড়ি ভাড়া থেকে আয় চার লাখ ৫ হাজার টাকা। ব্যাংকে তাঁর নগদ টাকা আট লাখ ছয় হাজার। নিজের ও স্ত্রীর নামে ৩০ ভরি স্বর্ণ রয়েছে। নিজ নামে সম্পত্তি উল্লেখ করেছেন এক কোটি টাকার। যৌথ মালিকানায় সম্পদ দেখিয়েছেন এক কোটি ৬০ লাখ টাকার।
এই আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ কামরুল আহসান কৃষি ও বাড়ি ভাড়া থেকে মোট আয় দেখিয়েছেন ৯ লাখ টাকা। তাঁর হলফনামায় অর্জিত দুই শতাংশ জমির মূল্য দেখানো হয়েছে সাত লাখ ৩৩ হাজার টাকা।
ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনের বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ জাকির হোসেন। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা পাঁচটি। কৃষি খাত থেকে তাঁর বার্ষিক আয় দুই লাখ ৪৭ হাজার টাকা, বাড়ি ভাড়া থেকে পান ৩৫ লাখ ২০ হাজার টাকা, শেয়ারবাজার থেকে পান ৯ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। তাঁর কাছে নগদ অর্থ আছে তিন কোটি ৪০ লাখ টাকা, ব্যাংকে আছে ১৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। তাঁর অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য ছয় কোটি ৪৬ লাখ টাকা। স্থাবর সম্পত্তির মূল্য আট কোটি ৮২ লাখ টাকা।
এই আসনে প্রার্থী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ। তাঁর নামে মামলা দুটি। বর্তমান পেশা হিসেবে উল্লেখ করেছেন আইনজীবী। আগের পেশা হিসেবে দেখিয়েছেন সাংবাদিকতা। কৃষি খাত থেকে তাঁর বার্ষিক আয় চার লাখ ৭২ হাজার টাকা, বাড়ি ভাড়া থেকে পান তিন লাখ ১৫ হাজার টাকা, চাকরি ও অন্যান্য উৎস থেকে মোট আয় দেখিয়েছেন ২৫ লাখ টাকা। নিজের ও স্ত্রীর নামে নগদ অর্থ আছে ১০ লাখ টাকা। বিভিন্ন ব্যাংকে তাঁর মোট সঞ্চয়পত্র ও এফডিআর কেনা রয়েছে এক কোটি ৬৬ লাখ টাকার। তাঁর অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য দুই কোটি ১৩ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। নিজের ও স্ত্রীর নামে স্থাবর সম্পত্তি দেখিয়েছেন ১৭ কোটি টাকার। অংশীদারি ব্যবসায় তাঁর ভাগে দেখানো হয়েছে ছয় কোটি ৫০ লাখ টাকা। তাঁর স্ত্রীর নামে বিভিন্ন ব্যাংকে ৭০ লাখ টাকা ঋণ দেখানো হয়েছে।
ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনের বিএনপি প্রার্থী মাহবুবুর রহমান পেশায় চিকিৎসক। তাঁর কাছে নগদ অর্থ রয়েছে এক কোটি ৩০ লাখ টাকা। বন্ড ও ঋণপত্র কেনা রয়েছে দুই কোটি ৭০ লাখ টাকার। নিজের নামে স্বর্ণ ২০ ভরি, স্ত্রীর নামে ৪০ ভরি। তাঁর স্থাবর সম্পত্তি দেখানো হয়েছে ১৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকার। বিভিন্ন ব্যাংকে তাঁর ঋণ দেখানো হয়েছে পাঁচ কোটি ৭৮ লাখ টাকার।
একই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা। বাড়ি ভাড়া থেকে তাঁর বার্ষিক আয় তিন লাখ ৭২ হাজার টাকা। চাকরি থেকে তাঁর বার্ষিক বেতন দেখিয়েছেন ২৭ লাখ ৬২ হাজার টাকা। তাঁর কাছে নগদ আছে এক কোটি ২৫ লাখ টাকা। নিজের ও স্ত্রীর নামে ব্যাংকে জমা আছে প্রায় ১৩ লাখ টাকা। নিজের স্বর্ণ আছে ২০ তোলা, স্ত্রীর আছে ৩ তোলা।
ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনের বিএনপি প্রার্থী ইয়াসের খান চৌধুরী পেশা হিসেবে দেখিয়েছেন তথ্যপ্রযুক্তি বৈজ্ঞানিক। তাঁর নামে স্বর্ণ আছে ৫০ ভরি, স্ত্রীর নামে আছে দুই কোটি ২০ লাখ টাকার স্বর্ণ। তাঁর অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে এক কোটি সাত লাখ ৫০ হাজার টাকার, স্ত্রীর নামে দেখানো হয়েছে ১১ কোটি ৬৪ লাখ টাকার সম্পত্তি। তাঁর স্থাবর সম্পদ এক কোটি ৩৫ লাখ টাকার, স্ত্রীর রয়েছে পাঁচ কোটি টাকার সম্পদ। তাঁর নামে ব্যাংক ঋণ দেখানো হয়েছে ১১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।
এই আসনে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির নেতা এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম। পেশায় আইনজীবী তিনি। বাড়ি ভাড়া থেকে তাঁর বার্ষিক আয় এক লাখ ২৬ হাজার টাকা। নিজ পেশা থেকে বার্ষিক বেতন দেখিয়েছেন চার লাখ ২০ হাজার টাকা। অন্যান্য উৎস থেকে তাঁর আয় এক কোটি ৩৩ লাখ টাকা। নিজের ও স্ত্রীর কাছে আছে নগদ প্রায় ১৫ লাখ টাকা, নিজের ব্যাংক হিসাবে জমা আছে ৬৮ হাজার টাকা। নিজের স্বর্ণ আছে সাড়ে ৯ লাখ টাকার।
ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে বিএনপির প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু। তাঁর কাছে নগদ অর্থ রয়েছে ১১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। তাঁর অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য ৪২ কোটি ২৪ লাখ টাকা, স্ত্রীর নামে আছে সাত কোটি ৩৯ লাখ টাকার সম্পত্তি। তাঁর স্থাবর সম্পত্তি দেখানো হয়েছে ২৫০ কোটি টাকার। তাঁর ব্যাংক ঋণ আছে ৫০ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।
এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ ছাইফ উল্লাহ পাঠান। পেশা হিসেবে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন ব্যবসা। কৃষি থেকে তাঁর বার্ষিক আয় ৫০ হাজার, ব্যবসা থেকে আয় তিন লাখ ৬০ হাজার টাকা। তাঁর কাছে নগদ আছে ২২ লাখ ৬০ হাজার টাকা। তাঁর স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য ২৫ লাখ টাকা।
একই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন বিএনপি নেতা মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম। তাঁর নামে মামলা ২২টি। তাঁর কাছে নগদ অর্থ রয়েছে ৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা। প্রথম স্ত্রীর কাছে আছে ১২ লাখ ৭৭ হাজার টাকা, দ্বিতীয় স্ত্রীর কাছে আছে ৫৮ হাজার টাকা। ব্যাংকে আছে তিন কোটি ৭১ লাখ। বন্ড কেনা রয়েছে ৪৭ লাখ টাকার। তাঁর কাছে থাকা চারটি জিপ গাড়ির মূল্য দেখানো হয়েছে তিন কোটি ২০ লাখ ৮০ হাজার টাকা। নিজের ও দুই স্ত্রীর নামে ৮০ ভরি স্বর্ণ দেখানো হয়েছে হলফনামায়। তাঁর অস্থাবর সম্পত্তি দেখানো হয়েছে ২০ কোটি টাকার বেশি। স্থাবর সম্পত্তি দেখানো হয়েছে ২৪ কোটি টাকা।
- বিষয় :
- হলফনামা
