ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ঝিনাইদহ-৪

রাশেদ-ফিরোজে বিভক্ত বিএনপির নেতাকর্মী

রাশেদ-ফিরোজে বিভক্ত বিএনপির নেতাকর্মী
×

রাশেদ খান ও সাইফুল ইসলাম ফিরোজ

জামির হোসেন, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ)

প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ | ১১:০৫

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এখানে দল মনোনয়ন দিয়েছে গণঅধিকার পরিষদ ছেড়ে আসা রাশেদ খানকে। যাচাই-বাছাইয়ে দুজনের মনোনয়নপত্রই বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা। কে কার পক্ষে কাজ করবেন, এ নিয়েই বিভক্ত হয়ে পড়েছেন তারা।

এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য মুর্শিদা জামান পপি। তবে তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। একই দলের অপর মনোনয়নপ্রত্যাশী কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুল ইসলাম হামিদ মনোনয়নপত্র কিনেছিলেন। তবে জমা দেননি। এর পরও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রাশেদ খানের বিপক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সাইফুল ইসলাম ফিরোজ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকায় ভোটের হিসাবনিকাশ নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। এটিই দলের স্থানীয় শীর্ষ নেতারা ছাড়াও শহর ও গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষের মুখে এখন আলোচনার প্রধান খোরাক।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন ৯ প্রার্থী। তাদের মধ্যে সর্বশেষ যাচাই-বাছাইয়ে বিএনপির প্রার্থী রাশেদ খান, স্বতন্ত্র সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা আবু তালিব, ইসলামী আন্দোলনের আব্দুল জলিল, জাতীয় পার্টির এমদাদুল ইসলাম বাচ্চু ও গণফোরামের খনিয়া খানমের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেন ঝিনাইদহ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। বাকি তিন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হরা। তারা হলেন– স্বতন্ত্র মুর্শিদা জামান পপি, ওবাইদুল হক রাসেল ও মীর আমিনুল ইসলাম।

বিএনপির সাধারণ কর্মী ও সমর্থকরা জানান, এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই মাঠে ছিলেন সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, হামিদুল ইসলাম হামিদ ও মুর্শিদা জামান পপি। কিন্তু শেষমুহূর্তে দলীয় মনোনয়ন বোর্ড গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দেওয়া রাশেদ খানকে ধানের শীষের মনোনয়ন দিয়েছে। এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে সাইফুল ইসলাম ফিরোজ ও মুর্শিদা জামান পপি মনোনয়নপত্র জমা দেন। মুর্শিদা জামান পপি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারও করলেও মাঠে রয়ে গেছেন সাইফুল ইসলাম ফিরোজ। তাঁর একাধিক অনুসারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগমুহূর্ত পর্যন্ত প্রার্থী বদল হতে পারে। সেই লক্ষ্যেই তাদের নেতা ফিরোজ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। 

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কালীগঞ্জ পৌর শাখার আহ্বায়ক জুয়েল রানা বলেন, ‘সদ্য বিএনপিতে যোগ দেওয়া রাশেদ খান কালীগঞ্জের ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মীকে চেনেন না। এখনও পর্যন্ত কারও সঙ্গে কোনোদিন সাক্ষাৎও করেননি। তিনি কীভাবে ভোট করবেন? আমরা আমাদের নেতা সাইফুল ইসলাম ফিরোজ ছাড়া কাউকে চিনি না। তিনিই বিএনপির একমাত্র প্রার্থী।’

একই রকম বক্তব্য দিয়ে উপজেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম বলেন, এই উপজেলার মানুষ সাইফুল ইসলাম ফিরোজ ছাড়া আর কাউকে চেনেন না। তাই এবারের নির্বাচনে তাঁর কোনো বিকল্প নেই। জনগণ তাঁকেই এমপি হিসেবে দেখতে চায়। 

উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক তবিবুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, ‘আমরা বিএনপির রাজনীতি করি। বিএনপির প্রতীক ধানের শীষ যাকেই দেওয়া হবে, তাঁর পক্ষেই কাজ করব। রাশেদ খান এ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী। দলীয় নেতাকর্মীরা তাঁর পক্ষেই কাজ করবেন।’

এ বিষয়ে সাইফুল ইসলাম ফিরোজ জানান, একাদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি এখানে ধানের শীষের প্রার্থী ছিলেন। এলাকার সিংহভাগ বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ তাঁর সঙ্গে আছে। সদ্য বিএনপিতে যোগ দেওয়া রাশেদ খান বাইরের মানুষ। তিনি এ আসনের ভোটার নন। এ আসনের অনেকেই তাঁকে চেনেন না। দলীয় নেতাকর্মীর সঙ্গেও তেমন পরিচিতি নেই। যে কারণে নির্বাচনে আশানুরূপ ফল পাওয়া অসম্ভব। 

বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটার নির্বাচনে তাঁকেই চাইছেন উল্লেখ করে সাইফুল ইসলাম ফিরোজ বলেন, তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আমি ভোটের মাঠে থাকতে চাই। দলীয় প্রতীক বিবেচনার জন্য তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি বিনীত 
আহ্বানও জানান।

রাশেদ খান এ বিষয়ে বলেন, এ আসনে নির্বাচন করার জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানই আমাকে পাঠিয়েছেন। এখানে যারা বিএনপির রাজনীতি করেন, তারা অবশ্যই দল বা দলীয় প্রতীক ধানের শীষের পক্ষে কাজ করবেন। এ আসনের অন্য মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাদের মনে কষ্ট থাকতে পারে। এটি শিগগিরই নিরসন হয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদী। রাশেদ খানের প্রত্যাশা, ‘বিএনপিকে ক্ষমতায় বসাতে শিগগিরই আমাদের নেতা তারেক রহমানের নির্দেশে সবাই একসঙ্গে কাজ করবেন।’

আরও পড়ুন

×