ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

কুড়িগ্রাম-৪ আসন

স্বামী জাপার প্রার্থী, স্ত্রী বিএসপির

স্বামী জাপার প্রার্থী, স্ত্রী বিএসপির
×

কে এম ফজলুল মণ্ডল ও মোছা. শেফালী বেগম 

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ | ১১:৩৮

কুড়িগ্রাম-৪ (চিলমারী, রৌমারী ও রাজিবপুর) আসনে যাচাই-বাছাইয়ে টিকেছে ৮ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র। ২ জানুয়ারি কুড়িগ্রাম জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ তাদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন। তাদের মধ্যে আছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী কে এম ফজলুল মণ্ডল ও তাঁরই স্ত্রী বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) মোছা. শেফালী বেগম। 

স্বামী ও স্ত্রী ভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে সংসদ সদস্য প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি জানাজানির পর স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনা শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে কৌতূহলী হয়ে উঠেছেন ভোটারেরাও। যদিও কে এম ফজলুল মণ্ডলের দাবি, তাদের দাম্পত্য জীবনের বিচ্ছেদ হয়েছে। তবে শেফালী বেগমের বক্তব্য ভিন্ন। তিনি বলেন, আইনি দৃষ্টিতে ফজলুল মণ্ডল এখনও তাঁর স্বামী। দীর্ঘদিন ধরে মনোমালিন্য থাকলেও তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক আইনিভাবে বহাল আছে।

এ আসনের অন্য প্রার্থীরা হলেন– বিএনপির মো. আজিজুর রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. মোস্তাফিজুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. হাফিজুর রহমান, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) শেখ মোহাম্মদ আব্দুল খালেক, বাসদের (মার্কসবাদী) রাজু আহমেদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. রুকুনুজ্জামান।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন, স্বামী-স্ত্রীর ভিন্ন রাজনৈতিক ব্যানারে সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘটনা এ অঞ্চলের রাজনীতিতে বিরল। এতে একদিকে নির্বাচনী উত্তাপ বাড়ছে, অন্যদিকে ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়টি রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। অনেক ভোটার বিষয়টিকে ব্যতিক্রমী হিসেবে দেখলেও রাজিবপুরের আমিনুল ইসলাম ও এরশাদুল ইসলাম, চিলমারীর হুমায়ুন কবির ও মোসলেম উদ্দিন বলেন, তারা ব্যক্তিগত সম্পর্ক নয়, প্রার্থীদের যোগ্যতা, রাজনৈতিক অবস্থান ও উন্নয়নে ভূমিকা রাখার সক্ষমতাকে গুরুত্ব দিয়ে ভোট দেবেন।

জাপা প্রার্থী কে এম ফজলুল মণ্ডলের অভিযোগ, শেফালী বেগম আগে সরকারি চাকরিতে কর্মরত ছিলেন। তাঁর চাকরি ছাড়ার তিন বছর পূর্ণ না হতেই কীভাবে মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হলো, তা বুঝতে পারছেন না। শেফালী বেগমের ভাষ্য, তিনি স্বেচ্ছায় চার-পাঁচ বছর আগে শিক্ষকতা থেকে অবসর নিয়েছেন। তাঁর স্বামীর অভিযোগ ভিত্তিহীন। 

আরও পড়ুন

×