ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বাড়িতে পালিত ভালুক, হরিণ ও বানর বনবিভাগের হাতে দিলেন নবদ্বীপ

বাড়িতে পালিত ভালুক, হরিণ ও বানর বনবিভাগের হাতে দিলেন নবদ্বীপ
×

খাগড়াছিতে সাবেক ইউপি সদস্যর বাড়িতে পালন করা হচ্ছিল বিলুপ্তপ্রায় ভালুক। ছবি: সমকাল

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ | ১৯:২০ | আপডেট: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ | ২০:১০

নিজের বাড়িতে পরম মমতায় বিলুপ্তপ্রায় একটি ভালুক, ছয়টি হরিণ ও দুইটি বানর পালছিলেন খাগড়াছড়ির নবদ্বীপ চাকমা। মঙ্গলবার বিকেলে স্বেচ্ছায় এসব প্রাণী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিঞার হাতে দেন তিনি। এ সময় ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের একজন প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলেন।       

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য ও জেলা বিএনপি নেতা অনিমেষ চাকমার উদ্যোগে এসব প্রাণী হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। অনিমেষ চাকমা বলেন, নবদ্বীপ চাকমা রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে বেড়ে উঠেছেন। একসময় ইউপি সদস্যও ছিলেন। তিনি ছোটবেলা থেকেই হাটে-বাজারে হরিণের মাংস বিক্রি করা, প্রকৃতি ধ্বংস করা থেকে মানুষদের বিরত করার চেষ্টা করে আসছেন।

নবদ্বীপ চাকমা পেশায় একজন ঠিকাদার। তিনি বুদ্ধের ‘জীবহত্যা মহাপাপ’ এই নীতিবাক্য মেনে বন্যপ্রাণীর জীবনরক্ষার চেষ্টা করেন বলে জানান তিনি। 

আহত বন্যপ্রাণী সংগ্রহ করে তাদের লালন-পালন করে স্বস্তি পান বলেও জানান তিনি।

নবদ্বীপ চাকমা বলেন, ভালুকটি বনে আহত অবস্থায় পেয়েছিলাম, বানরটিও সুস্থ ছিল না। আর হরিণগুলো ছোট থেকেই পালছিলাম। দীর্ঘদিন ধরে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে এসব হস্তান্তর করতে চাচ্ছিলাম। কিন্তু কোনো মাধ্যম পাচ্ছিলাম না। অবশেষে অনিমেষ চাকমার মাধ্যমে এসব প্রাণীর নিরাপদ ঠিকানা করতে পেরেছি। এসব ভেবেই ভালো লাগছে। 

খাগড়াছড়ির বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিঞা বলেন, বিলুপ্তপ্রায় বন্যপ্রাণী রক্ষায় নবদ্বীপ চাকমা এবং অনিমেষ চাকমার মতো মানুষদের এগিয়ে আসতে হবে। 

তিনি বলেন, সাফারি পার্কের প্রতিনিধিকে অনুরোধ করে ডেকে আনা হয়েছে। প্রাণিগুলো শিগগিরই তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। 

আরও পড়ুন

×