ছিনতাই করতে গিয়ে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে-পুড়িয়ে হত্যা, আদালতে আসামিদের জবানবন্দি
ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাস। ছবি-সংগৃহীত
শরীয়তপুর সংবাদদাতা
প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ | ২০:৪৫
শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাসকে কুপিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা আদালতে স্বীকার করেছেন গ্রেপ্তার হওয়া তিন আসামি। তারা ছিনতাই করতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন। আসামিদের জবানবন্দির বরাত দিয়ে ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রবিউল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেন। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি শেষে আদালতের নির্দেশে তাদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সোমবার রাতে শরীয়তপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পৃথকভাবে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন আসামিরা। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন সোহাগ খান (২৮), রাব্বি মোল্যা (২৪) ও পলাশ সরদার (২৫)।
পুলিশ সূত্র জানায়, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা আক্তারের কাছে রাব্বি মোল্যা, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট লাভলী শীলের কাছে সোহাগ খান এবং সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আকলিমা আক্তারের কাছে পলাশ সরদার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। পরে বিচারকের আদেশে তাদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
নিহত খোকন চন্দ্র দাস ডামুড্যা উপজেলার তিলই গ্রামের পরেশ চন্দ্র দাসের ছেলে। তিনি কেউরভাঙা বাজারে ওষুধ ও মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ডামুড্যার কনেশ্বর ইউনিয়নের তিলই এলাকায় তাকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে তার শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হলে শনিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ওই রাতেই নিজ গ্রাম তিলইয়ে তার শেষকৃত্যানুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
র্যাব সূত্র জানায়, শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে কিশোরগঞ্জ জেলার পূর্ব কৈলানপুর থানাধীন বাজিতপুর এলাকায় র্যাব-৮ (বরিশাল) ও র্যাব-১৪ (কিশোরগঞ্জ) যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন রোববার রাতে তাদের ডামুড্যা থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ডামুড্যা থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা স্বপন মল্লিক আদালতে আসামিদের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বরাতে ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রবিউল হক জানান, ঘটনার দিন আসামিরা খোকন চন্দ্র দাসকে অনুসরণ করছিল। রাতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে তাকে গতিরোধ করে ধারাল অস্ত্র দিয়ে শরীরের চারটি স্থানে কুপিয়ে জখম করা হয়। এরপর পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
ওসি আরও জানান, ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে তারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে স্বীকার করেছে। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তারা সঙ্গে বোতলে করে পেট্রোল নিয়ে আসে। তবে খোকন দাসের আত্মচিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে তারা কোনো টাকা নিতে না পেরেই পালিয়ে যায়। পরে ওই রাতেই তারা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে আসামিরা।
- বিষয় :
- হত্যা
- ব্যবসায়ী
- আদালত
- জবানবন্দি
- কুপিয়ে হত্যা
