ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ক্যাম্পাস

১৬ দেশের ২৫০ ছাত্রী মাতলেন মধু উৎসবে

১৬ দেশের ২৫০ ছাত্রী মাতলেন মধু উৎসবে
×

ছবি: সমকাল

আহমেদ কুতুব, চট্টগ্রাম

প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৩:১৪

মাটির ওপর ত্রিকোণাকৃতির লোহার রড দিয়ে তৈরি বিশেষ খাঁচায় বসানো মৌমাছির বক্স। দ্বিস্তরের কাঠের বক্সের প্রথম স্তরে মৌমাছির ডিম তৈরি হয়। এর ওপরের স্তরে মৌচাকের মোমে দেখা মেলে মধু। পাহাড়ের ঢালে আম, কাঁঠালসহ নানা প্রজাতির ফল ও ফুল বাগানের ফাঁকে ফাঁকে রয়েছে বিশেষ মৌমাছির বেগুনী ঘর। তিন মাস ধরে এই ফল ও ফুল বাগানে চলে মৌমাছির চাষ।

সেখান থেকে গতকাল মঙ্গলবার আহরণ করা হয় প্রাকৃতিক মধু। ১৬ দেশের ২৫০ শিক্ষার্থী ঘুরে ঘুরে দেখেন পাহাড়ের ঢালে বসানো মৌচাক। সেই মৌচাক থেকে মধুর চাক সংগ্রহ করে যন্ত্র দিয়ে ছাত্রীদের সামনেই প্রক্রিয়াজাত করা হয় মধু। প্রাকৃতিক এ মধুর স্বাদ নেন বিদেশি শিক্ষার্থীরা, যাদের সবাই আগামী সপ্তাহে শিক্ষাজীবন শেষ করে চলে যাবেন নিজ নিজ দেশে। নিজ হাতে চাক থেকে মধু সংগ্রহ করে খেতে পেরে আনন্দে আপ্লুত হন একেকজন শিক্ষার্থী।

গ্র্যাজুয়েট অর্জন করা শ্রীলঙ্কার শিক্ষার্থী আবিরামি সিভালগানানথান বলেন, অন্যরকম অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। সরাসরি বাগানের চাক থেকে মধু সংগ্রহ করে খেয়েছি। এটি স্মৃতিমধুর হয়ে থাকবে। নেপালের শিক্ষার্থী অর্চি বলেন, পাহাড়ের দেশ আমার। তবে চট্টগ্রামের পাহাড়ের মৌচাক থেকে নিজেরাই মধু সংগ্রহ করে খেতে পারার আনন্দটাই অন্যরকম।

এভাবেই কুয়াশাভেজা সকালে মধু উৎসবের আনন্দে মেতে ওঠেন বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, ভুটান, কম্বোডিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, লাওস, মিয়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, তিমুর লেস্তে, ভিয়েতনাম ও ইয়েমেনের ২৫০ ছাত্রী। 

এর আগে চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ লিঙ্ক রোডের স্থায়ী ক্যাম্পাসের ভেতর নতুন নামকরণ করা ‘গ্র্যাজুয়েট হিলে’ একে একে আম, পেয়ারা, কমলা, লেবুসহ বিভিন্ন ফলগাছ লাগান গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি অর্জন করা ছাত্রীরা। সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত বৃক্ষরোপণ করা হয়। গাছ লাগিয়ে পাহাড়ের ওপর কেউ তোলেন সেলফি, কেউ তোলেন গ্রুপ ছবি। এরপর দুপুর পর্যন্ত পাহাড়ের ঢালে মৌচাক থেকে চলে মধু খাওয়ার উৎসব।    

এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন চট্টগ্রামের উদ্যোগে গতকাল গ্র্যাজুয়েট হিল ট্রি প্লান্টেশন এবং হ্যানি টেস্টিং এক্সপেরিয়েন্স ফেস্টিভ্যাল এর আয়োজন করে। এতে ১৬ দেশের আড়াইশ দেশি-বিদেশি গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী অংশ নেন।

উৎসবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়টির রেজিস্ট্রার ব্রি. জেনারেল (অব.) মো. সালাউদ্দিন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বিভাগের পরিচালক তপু চৌধুরী, আলওয়ার মধু জাদুঘর ও গবেষণা কেন্দ্রের গবেষক সায়েদ মোহাম্মদ মঈনুল আনোয়ার প্রমুখ।

রেজিস্ট্রার ব্রি. জেনারেল (অব.) মো. সালাউদ্দিন বলেন, আমাদের ২৫০ ছাত্রী গ্র্যাজুয়েট হয়েছেন। তারা ২০০টি ফলদ গাছ লাগিয়েছেন। তাদের কেউ পাঁচ বছর পর ক্যাম্পাসে এলে দেখতে পারবেন এ গাছগুলো বড় হয়েছে, ফল দিচ্ছে। তখন তারা আনন্দ উপভোগ করবেন। তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে মধু ও মৌচাক প্রকল্প চালু করেছি। মূলত মেয়েদের উদ্যোক্তা তৈরির মনোভাব নিয়েই হাতেকলমে অভিজ্ঞতা অর্জন করতেই এ আয়োজন করেছি। এ কার্যক্রম চালু থাকবে।

আলওয়ার মধু জাদুঘর ও গবেষণা কেন্দ্রের গবেষক সায়েদ মোহাম্মদ মঈনুল আনোয়ার বলেন, ২০ বছর ধরে মধু নিয়ে গবেষণা করছি। স্কুল, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে মধু ও মৌমাছির শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলাম। তারই অংশ হিসেবে যৌথভাবে এখানে কাজ করছি।

আরও পড়ুন

×