১৬ মাস পর কবর থেকে তোলা হলো ইমতিয়াজের লাশ
ছবি: সমকাল
নোয়াখালী প্রতিনিধি ও চাটখিল সংবাদদাতা
প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ | ২২:৫৩
নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় জুলাই আন্দোলনে নিহত ইমতিয়াজ হোসেনের লাশ ১৬ মাস পর কবর থেকে উত্তোলন করে মর্গে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার দুপুরে লাশ তোলার সময় জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহাদত হোসেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও চাটখিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আলমগীর উপস্থিত ছিলেন।
ইমতিয়াজ (২২) উপজেলার হাটপুকুরিয়া-ঘাটলাবাগ ইউনিয়নের পশ্চিম গোবিন্দপুর গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের দিন বিকেলে চাটখিল থানা থেকে অস্ত্র লুট হয়। লুট করা অস্ত্র বহন করার সময় অসতর্কতাবশত নিজ অস্ত্র থেকে বের হওয়া গুলিতে গুরুতর আহত হন ইমতিয়াজ। তাঁকে শুরুতে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালে ভর্তির পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। ইমতিয়াজের বাবা সাবেক ইউপি সদস্য ও স্থানীয় বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান তাঁর ছেলের নাম জুলাই আন্দোলনে শহীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেন এবং বিভিন্নভাবে কিছু সহযোগিতাও পান। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় নেতারা নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের কাছে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরে ভুয়া শহীদ ইমতিয়াজের নাম বাদ দেওয়ার জন্য আবেদন করেন।
নিহতের পরিবারের দাবি, এটি কোনো দুর্ঘটনা ছিল না। গত ৫ আগস্ট 'আওয়ামী সন্ত্রাসীদের' গুলিতে ইমতিয়াজ নিহত হয়েছেন। এমন অভিযোগে গত বছর ১৮ মে নিহতের বাবা হাবিবুর রহমান নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলায় নোয়াখালী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এইচ এম ইব্রাহীম, সাবেক মেয়র নিজাম উদ্দিন মোহাম্মদ উল্ল্যাহ, বেলায়েত হোসেনসহ ৫৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত পরিচয় ৭০-৮০ জনের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়।
আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য গত বছর ১৭ জুন চাটখিল থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। এরপর গত বছর ১১ নভেম্বর আদালত লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য নির্দেশ দেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চাটখিল থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক মো. আলমগির হোসেন জানান, আদালতের নির্দেশে বুধবার দুপুরে লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করা হয়।
ইমতিয়াজের বাবা মো. হাবিবুর রহমান বলেন, আমার ছেলে জুলাই যোদ্ধা। সে জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছে। ৫ আগস্ট আমার সাথে বিজয় মিছিলে যায় সে। আমার ছেলেকে সেদিন গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আমি আমার সন্তান হত্যার বিচার চাই।
চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোনাফ বলেন, আদলতের নির্দেশে লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। পরে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। নিহতের প্রায় ২ মাস পর ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর হাবিবুর রহমান ছেলেকে জুলাই শহীদের স্বীকৃতির জন্য প্রশাসন আবেদন করেন এবং পরে শহীদ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন। পরে আবার তার জুলাই শহীদের স্বীকৃতি স্থগিত করা হয়।
চাটখিল পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি লোকমান হোসেন জানান, ৫ আগস্ট বিকেলে স্থানীয় মন্সির রাস্তা সংলগ্ন তার খালি ভিটায় আত্মঘাতী হয়ে ইমতিয়াজ নিহত হয়েছেন বলে তিনি জেনেছেন।
- বিষয় :
- মরদেহ উত্তোলন
