ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

চট্টগ্রাম

এলপি গ্যাস বিক্রি বন্ধে বাসাবাড়ি-হোটেলে রান্নায় ভোগান্তি  

এলপি গ্যাস বিক্রি বন্ধে বাসাবাড়ি-হোটেলে রান্নায় ভোগান্তি  
×

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ | ১৫:০৮ | আপডেট: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ | ১৫:৩৯

চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া কল্পলোক আবাসিক এলাকার আলী ম্যানসনের বাসিন্দা জাহেদুল ইসলাম। কয়েকদিন আগে তার বাসায় এলপিজি সিলিন্ডারের গ্যাস শেষ হয়ে যায়। পুরো এলাকা তন্নতন্ন খুঁজেও তিনি গ্যাস ভর্তি সিলিন্ডার পাননি। গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়ার আশায় বৃহস্পতিবার সকালে কালামিয়া বাজার এলাকায় দোকানে গিয়ে শোনেন সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ। এতে বিপাকে পড়ে তার পরিবার।

এই সংকট শুধু তার পরিবারে নয়, একই ভবনের আরও ১২ পরিবারের। সরকার আবাসিক গ্যাস সংযোগ বন্ধ রাখায় এই আবাসিক এলাকার কয়েকশ ভবনের বাসিন্দা এলপিজি গ্যাসের উপর নির্ভরশীল।

এমনিতেই এলপিজি গ্যাসের সরবরাহে সংকট চলছিল। তার ওপর বৃহস্পতিবার থেকে বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গৃহস্থালি কাজে ব্যবহারকারী, হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির ডাকে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই চট্টগ্রামের বিভিন্ন ডিলার পয়েন্ট ও খুচরা দোকানে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ দেখা গেছে। নগরের বাকলিয়া, চকবাজার, বহদ্দারহাট, হালিশহর ও পতেঙ্গা এলাকার একাধিক দোকানদার জানিয়েছেন, সমিতির নির্দেশনা অনুযায়ী তারা সিলিন্ডার উত্তোলন ও বিক্রি দুটোই বন্ধ রেখেছেন। তবে কেউ কেউ বেশি দামে এক দুইটি বিক্রি করছেন।

চকবাজারের খুচরা বিক্রেতা তসলিম উদ্দিন বলেন, দোকান খুলেছি। কিন্তু সিলিন্ডার বিক্রি করছি না।

গ্রাহক পরিচয়ে গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে চাইলে বহদ্দারহাটের খুচরো বিক্রেতা শ্যামবাবু বলেন, 'এখন সিলিন্ডার পাবেন না। বিকালে পাবেন। তবে ১২ কেজি ওজনের গ্যাস সিলিন্ডার ১ হাজার ৬০০ টাকা দিতে হবে।' অথচ চলতি জানুয়ারি মাসের জন্য ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

এদিকে, হঠাৎ করে এলপিজি বিক্রি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন গ্রাহক। নগরের বহদ্দারহাট এলাকার বাসিন্দা গৃহিণী শামীমা আক্তার বলেন, সিলিন্ডার প্রায় শেষ। আজ সকালে নতুন করে নিতে এসে দেখি কোথাও গ্যাস নেই। বাসার রান্না নিয়ে বড় দুশ্চিন্তায় আছি।

কল্পলোক আবাসিকের আলী ম্যানসনের নিরাপত্তাকর্মী আবুল বশর বলেন, প্রতিটি ফ্ল্যাটে বাসিন্দাদের গ্যাস সিলিন্ডার শেষ হয়ে গেছে। দ্বিগুণ দামেও কয়েকদিন ধরে সিলিন্ডার পাইনি।

সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে চট্টগ্রামের হোটেল-রেস্তোরাঁ খাত। বহদ্দারহাটের খাজা হোটেলের ব্যবস্থাপক আব্দুন রশিদ জানান, ‌‘এলপিজি ছাড়া রান্না বন্ধ হয়ে যাবে। কয়েকদিন এমন চললে ব্যবসা বন্ধ রাখা ছাড়া উপায় থাকবে না।’

এলপিজি ব্যবসায়ী সমিতি জানিয়েছে, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) থেকে নতুন করে এলপিজির মূল্য সমন্বয়, পরিবেশক ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক হয়রানি ও জরিমানা বন্ধসহ একাধিক দাবিতে তারা এই কর্মসূচি নিয়েছে। বুধবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সংবাদ সম্মেলনে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হলেও দাবি পূরণ না হওয়ায় সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে বিক্রি বন্ধের নোটিশ জারি করা হয়।

আরও পড়ুন

×