শীতে বাক্স থেকে বের হচ্ছে না মৌমাছি, লোকসানের শঙ্কা
মির্জাপুরে সরিষা ক্ষেতে মধু সংগ্রহ করছেন মৌ চাষিরা। গত বুধবার তোলা ছবি সমকাল
মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৭:৩৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
মির্জাপুরে এ বছর মৌচাষিদের মধু সংগ্রহে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশা। সরিষার ভরা মৌসুমেও আশানুরূপ মধু মিলছে না। মৌমাছির চেম্বার (বাক্স) স্থাপন করে সপ্তাহে একবার মধু সংগ্রহের কথা থাকলেও দীর্ঘ ২২ দিনে মাত্র একবার মধু সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। তবুও একেকজন মৌচাষি ৫ কেজির বেশি মধু পাননি।
স্থানীয় কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি বছর মির্জাপুরে ১৪ হাজার ৭৯০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছে। এই সরিষা চাষ ঘিরে অন্যান্য বছরের মতো এবারও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মির্জাপুরে এসেছেন মৌচাষিরা। সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন ইউনিয়নে ১০ চেম্বারের দুই হাজারের বেশি বাক্স স্থাপন করেছেন। কিন্তু শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশা মধু সংগ্রহের পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাঝেমধ্যেই দিনের বেলায় সূর্যের দেখা না মেলায় এবং প্রচণ্ড শীতের কারণে বাক্স থেকে বের হচ্ছে না মৌমাছি। ফলে সপ্তাহে একবার মধু সংগ্রহ করার কথা থাকলেও তিন সপ্তাহে সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে মাত্র একবার।
গত বুধবার দুপুরে পোষ্টকামুরী গ্রামের আলহাজ শফি উদ্দিন মিঞা অ্যান্ড একাব্বর হোসেন টেকনিক্যাল কলেজের পশ্চিম পাশে গিয়ে দেখা গেছে, ২১ দিন আগে সাতক্ষীরা থেকে আসা মৌচাষি শরিফুল ইসলামসহ কয়েকজন সরিষাক্ষেতের পাশে ১৮০টি মৌবাক্স স্থাপন করেছেন। ২১ দিনের মধ্যে মাত্র একবার মধু সংগ্রহ করতে পেরেছেন তারা। তাও মাত্র ৫ কেজি।
একই অবস্থা দেখা গেছে সরিষাদাইড় গ্রামে। সেখানেও সাতক্ষীরা থেকে আসা মৌচাষি বিশ্বজিৎ মণ্ডল সরিষা ক্ষেতের পাশে ১০ চেম্বারের ৪০টি মৌবাক্স স্থাপন করে ২২ দিন ধরে মধু সংগ্রহের জন্য অপেক্ষা করছেন। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার জন্য ৫ কেজি মধুও সংগ্রহ করতে পারেননি।
মৌচাষি শরিফুল ইসলাম জানান, মধু সংগ্রহের উদ্দেশে ২১ দিন আগে এখানে ১৮০টি মৌবাক্স স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিদিন অন্তত ৫ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। সপ্তাহে যেখানে একবার মধু সংগ্রহ করার কথা, সেখানে বৈরী আবহাওয়ার কারণে মাত্র একবার ৫ কেজি মধু সংগ্রহ করা হয়েছে; যা বিক্রি করে এক দিনের খরচও উঠবে না।
বিশ্বজিৎ মণ্ডলের ভাষ্য, মধু সংগ্রহের ভরা মৌসুম হলো সরিষা চাষের এই সময়। কিন্তু প্রচণ্ড ঠান্ডা, ঘন কুয়াশা ও মাঝেমধ্যেই সূর্যের আলো না থাকায় মৌমাছি বাক্স থেকে বের হচ্ছে না। ২২ দিনে পাঁচ কেজি মধুও সংগ্রহ করতে পারেননি। এ বছর ব্যবসা লোকসানের পথে। তিনি বলেন, সারাবছর মৌমাছির খাদ্য ও ওষুধসহ ৪০টি বাক্সে কয়েক লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এ বছর খরচের অর্ধেকও মধু বিক্রি করতে পারবেন না বলে জানান তিনি।
- বিষয় :
- মৌমাছি
