ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

সীমানা নিয়ে পাবনার দুটি আসনে জটিলতা, ইসির বক্তব্যে বিভ্রান্তি

পাবনা-১ ও ২ আসনের প্রার্থী ও ভোটাররা অস্বস্তিতে

সীমানা নিয়ে পাবনার দুটি আসনে জটিলতা, ইসির বক্তব্যে বিভ্রান্তি
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১০ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৮:২৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

সীমানা নির্ধারণ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নতুন সিদ্ধান্তের কারণে পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনে ভোটগ্রহণ বিষয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন প্রত্যাহার করে সংশোধিত সীমানার গেজেট প্রকাশ হয়। পরে সেটি আপিল বিভাগের আরেকটি রায়ে স্থগিত করা হয়েছে। এই অবস্থায় কোন সীমানায় দুই আসনের ভোটগ্রহণ হবে–সে বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী নির্দেশনার দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে ইসিকে। 

আপিল বিভাগের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে এই দুই আসনের নির্বাচনী কার্যক্রম ‘আপাতত স্থগিত’ বলে ইসির ঘোষণায় এ বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। এ নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্তের খবরটি সঠিক নয় বলে জানায় ইসি। নির্বাচন নিয়ে একেক সময় একেক ধরনের খবরে পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের ভোটার ও প্রার্থীরা অস্বস্তিতে রয়েছেন। 
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাস করে নির্বাচন কমিশন গত ৪ সেপ্টেম্বর এ-সংক্রান্ত চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করে। এতে সাঁথিয়া উপজেলার পুরোটা নিয়ে পাবনা-১ আসন এবং সুজানগর ও বেড়া উপজেলাকে মিলিয়ে পাবনা-২ আসন চূড়ান্ত করা হয়। 

ইসির ওই গেজেটের এই দুটি আসন-সংক্রান্ত অংশটুকুর বৈধতা নিয়ে বেড়া উপজেলার বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম এবং সাঁথিয়া উপজেলার বাসিন্দা আবু সাঈদ হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রুল দেন। চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল যথাযথ (অ্যাবসলিউট) ঘোষণা করে গত ১৮ ডিসেম্বর রায় ঘোষণা করেন। তবে পাবনা-১ ও ২ আসনে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন আপিল আবেদন করলেও হঠাৎ তা প্রত্যাহার করে নেয়। পরে হাইকোর্টের রায়ের আলোকে ২৪ ডিসেম্বর পাবনা-১ ও ২ এবং ফরিদপুর-২ আসনের সীমানায় পরিবর্তন এনে গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এতে সাঁথিয়া উপজেলার পাশাপাশি বেড়া উপজেলার একটি পৌরসভা ও চারটি ইউনিয়ন নিয়ে পাবনা-১ আসন গঠন করা হয়। একইভাবে পাবনা-২ আসনে সুজানগর উপজেলা ও বেড়া উপজেলার ওই পৌরসভা ও চারটি ইউনিয়ন বাদ দেওয়া হয়। 

এরপর গত ৫ জানুয়ারি আপিল বিভাগের রায়ে ইসির ২৪ ডিসেম্বরের সংশোধিত বিজ্ঞপ্তির অংশটুকু স্থগিত করা হয়। এই স্থগিতাদেশ লিভ টু আপিল  করা পর্যন্ত বহাল থাকবে বলে রায় দেন আপিল বিভাগ। এর ফলে নির্বাচন কমিশন ওই দুটি আসনের সীমানায় যে পরিবর্তন এনেছিল, তা বহাল হয়। বৃহস্পতিবার ওই রায়ের অনুলিপি নির্বাচন কমিশনে পৌঁছানোর পরিপ্রেক্ষিতে এ দুটি আসনের নির্বাচন ‘আপাতত স্থগিত’ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ঘোষণা দেন এক নির্বাচন কমিশনার। 
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ওই দুই আসনের নির্বাচন পুরোপুরি স্থগিত করা হয়েছে, তা বলা যাবে না। আমরা আপাতত স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী আদেশ না আসা পর্যন্ত এ দুটি আসনের নির্বাচন স্থগিত থাকবে।’

গতকাল নির্বাচন কমিশন ভবনে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘আদালত আমাদের পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা না করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। আদালতের সেই আদেশ মেনে এই দুই আসনে ভোটের সকল কার্যক্রম আপাতত স্থগিত করেছি।’
তবে পাবনার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহেদ মোস্তফা গণমাধ্যমকে বলেন, নির্বাচন স্থগিত-সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের কোনো নির্দেশনা এখনও পাননি। পেলে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এই পরিস্থিতিতে অধিকাংশ গণমাধ্যম ইসির বরাতে পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের নির্বাচন ‘আপাতত’ স্থগিত-সংক্রান্ত খবর প্রকাশ করে। তবে দুপুরের আগে ইসির পরিচালক (জনসংযোগ) স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের নির্বাচন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন, এ মর্মে ইসির উদ্ধৃতি দিয়ে যে সংবাদ প্রচার হচ্ছে তা সঠিক নয়। প্রচারিত সংবাদটি বন্ধ রাখার জন্য অনুরোধ করা হলো।’  

শুক্রবার বিকেলে নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদের সঙ্গে বৈঠক করতে নির্বাচন কমিশন ভবনে আসেন দায়িত্বপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আরশাদুর রউফ। ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশন ছেড়ে যান তিনি। এই বৈঠকের বিষয়ে কারও বক্তব্য জানা যায়নি। তবে সীমানা নির্ধারণ নিয়ে সৃষ্ট আইনি জটিলতায় ইসির করণীয় বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের সীমানা নির্ধারণ নিয়ে ২৪ ডিসেম্বরের সংশোধিত বিজ্ঞপ্তির ওপর আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করার বিষয়ে ইসি চিন্তাভাবনা করছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
পাবনা অফিস জানায়, সীমানা নির্ধারণ নিয়ে জটিলতার কারণে পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের নির্বাচন নিয়ে একেক সময় একেক ধরনের খবরে দুই নির্বাচনী এলাকার মানুষ বেশ অস্বস্তিতে পড়েছে। বেড়া, সাঁথিয়া ও সুজানগর উপজেলার প্রায় ৯ লাখ ভোটার, ১১ জন প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যেও নানা বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। 
 

আরও পড়ুন

×