ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

পুলিশকে আবার স্বমহিমায় দাঁড় করানোর চেষ্টা করছি: আইজিপি

পুলিশকে আবার স্বমহিমায় দাঁড় করানোর চেষ্টা করছি: আইজিপি
×

রংপুর অফিস

প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৫:৪১

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেছেন, বিগত ১৫ বছরে পুলিশ দলীয় পুলিশ হিসেবে গড়ে উঠেছিল। নানান ধরনের বিচ্যুতি ছিল আমাদের মধ্যে। আমরা অনেক গণবিরোধী কাজ করেছি। এগুলো থেকে বেরিয়ে এসে বাংলাদেশ পুলিশকে আবার স্বমহিমায় দাঁড় করানো, তাদের মনোবল বৃদ্ধি করে আবার তাদের কাজে ফিরিয়ে আনতেই চেষ্টা করছি।

শনিবার দুপুরে রংপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

আইজিপি বলেন, ‘সারাদেশে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সেই অভিযানে শত শত না হলেও দুই একটা করে অস্ত্র ধরা হচ্ছে। এগুলো পুলিশের হারিয়ে যাওয়া অস্ত্র। তার বাইরে অনেক অবৈধ অস্ত্র আসছে, সেগুলাও ধরা হচ্ছে। তবে স্বল্প সময়ে সব উদ্ধার করা সম্ভব নয়। আসন্ন নির্বাচনে সারাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে ২৪ হাজার। সহিংসতা এড়াতে এবং সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা না হয় এজন্য ঝুঁকিপূর্ণ এসব কেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের বডিওর্ন ক্যামেরা দেওয়া হবে। যা দিয়ে সব কিছু তদারকি করা সম্ভব হবে। তবে বাধাহীনভাবে পুলিশ কাজ করতে না পারলে এবং সমাজের সম্পূর্ণ সমর্থন না পেলে নির্বাচন করা সম্ভব নয়। কেননা পুলিশের ভেতর কোনো ভয় থাকলে তো কাজ করা সম্ভব হবে না।’ এসময় আইজিপি পুলিশের কাজে সবাইকে সহযোগিতার জন্য অনুরোধ জানান।

বাহারুল আলম বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে যে দুঃখজনক ঘটনাগুলো ঘটেছে, বিপুল পরিমাণ আন্দোলনকারী প্রাণ দিয়েছেন, শহীদ হয়েছেন। এসব ঘটনার ফলে পুলিশের যারা লোভী, দলকানা কিছু নেতৃবৃন্দ এবং সদস্যের কারণে আমাদের সবার ওপরে দায়ভার এসেছে। গত এক বছরের ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় বলবো না শতভাগ সফল হয়েছি, তবে আমাদের চেষ্টার কোনো কমতি নেই।’

শতভাগ অপরাধ নিয়ন্ত্রণ কোনো জায়গায় করা যায় না জানিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক বলেন, আমাদের দেশের গত ১৫ থেকে ২০ বছরের অপরাধ পরিসংখ্যান যদি নেন, প্রতি বছরই সাড়ে তিন হাজার থেকে চার হাজার হত্যা সংঘটিত হয়ে থাকে। আমাদের অবশ্যই চেষ্টা থাকবে-একজন লোকও যেন মারা না যায়। সেটাই আমাদের লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, ওসমান হাদির ঘটনা, মাজারে যাওয়ার সময় হামলা, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলাসহ নানান ঘটনা ঘটেছে। সেই ঘটনার পর মামলা হয়েছে এবেং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন পরবর্তী মামলায় অনেক নাম দেওয়া হয়েছে। সেই মামলাগুলোর সঙ্গে যারা জড়িত ছিল না, তাদের মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থীদের উদ্বেগের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, অবশ্যই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা এবং নির্বাচনের উপযোগী রাখা আমাদের দায়িত্ব। এখানে শুধু পুলিশ, বাংলাদেশ পুলিশ একা না, এখানে পুলিশের সঙ্গে নির্বাচনের দিন বিপুল পরিমাণ, প্রায় ছয় লাখেরর মতো আনসার সদস্য থাকবেন। এখন নির্বাচনে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, প্রতিরক্ষা বাহিনী আমাদের সঙ্গে আছে। বর্ডার গার্ড আছে, ইভেন কোস্ট গার্ড এবং নেভি উপকূলীয় অঞ্চলে এখন আইনশৃঙ্খলা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

এর আগে পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ অডিটোরিয়ামে রংপুর রেঞ্জের বিভিন্ন পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিশেষ কল্যাণ সভা করেন আইজিপি বাহারুল আলম।

আরও পড়ুন

×