সেতু জোড়াতালি দিয়ে চলাচল, দুর্ঘটনার ঝুঁকি
কচুয়া উপজেলার সাচার ইউনিয়নের শুয়ারুল গ্রামে ভাঙা সেতুর ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল। ছবি: সমকাল
কচুয়া (চাঁদপুর) সংবাদদাতা
প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৯:৫৬
কয়েক বছর ধরে ভাঙাচোরা সেতু জোড়াতালি দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন কচুয়া উপজেলার সাচার ইউনিয়নের শুয়ারুল গ্রামের বাসিন্দারা। যার ওপর দিয়ে ভারী কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারে না। ছোট যানবাহন ও হেঁটে চলাচল করছেন স্থানীয়রা। মাঝেমধ্যেই ঘটছে দুর্ঘটনা। সেতুটি মেরামতে সরকারি কোনো উদ্যোগ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুয়ারুল গ্রামসহ আশপাশের প্রায় ১০ থেকে ১৫টি গ্রামের মানুষ প্রতিদিন এই সেতু ব্যবহার করে যাতায়াত করতেন। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে বৃষ্টি, ভাঙন ও অবহেলায় সেতুটি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে যে, এখন ভারী যানবাহন দূরের কথা, হালকা যান চলাচলও প্রায় অসম্ভব। ফলে অনেকে বাধ্য হয়ে বিকল্প পথে ঘুরে যাচ্ছেন, আবার কেউ কেউ জীবনের ঝুঁকি নিয়েই পার হচ্ছেন।
এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, একাধিকবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত নিজেরাই ভাঙাচোরা কাঠামোর ওপর কাঠের তক্তা বসিয়ে কোনো মতে চলাচলের ব্যবস্থা করেছেন তারা। তবে এটি স্থায়ী সমাধান নয়; বরং প্রতিদিনই বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা।
সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। শুয়ারুল গ্রামে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকলেও ভাঙা সেতুর কারণে অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না। স্কুলশিক্ষক শাহ আলম পাটোয়ারী জানান, এই সেতু পারাপার হতে গিয়ে বহুবার শিক্ষার্থীরা পড়ে গেছে। অনেকে গুরুতর আহত হয়েছে। অভিভাবকরাও ভয়ে সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে চান না।
শিক্ষার্থীরা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি ভাঙা থাকায় আতঙ্ক নিয়ে চলাফেরা করছে তারা। ভাঙা সেতুর ওপর দিয়ে হাঁটতেই ভয় লাগে। দ্রুত নতুন সেতু না হলে তাদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হবে।
যানবাহন চালকরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, শুয়ারুল গ্রামে যেতে হলে বাধ্য হয়েই এই ভাঙা সেতু ব্যবহার করতে হয়। কেউ গুরুতর অসুস্থ হলে তাকে এই সেতু পার করে হাসপাতালে নেওয়া প্রায় অসম্ভব। সব সময় মৃত্যুর ঝুঁকি থেকেই যায়।
কচুয়া উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল আলীম লিটন জানান, সেতুটি পুনর্নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।
