শাকসু নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা, অঙ্গীকার দিতে দ্বিমত প্রার্থীদের
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ। ফাইল ছবি
সিলেট ব্যুরো
প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ | ০১:৩৮
জাতীয় নির্বাচনের আগে কোনো নির্বাচন করা যাবে না-নির্বাচন কমিশনের এমন সিদ্ধান্তের পর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন আয়োজনে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সোমবার রাতে ও মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। এ অবস্থায় নির্বাচন আয়োজনে প্রাথীর্দের কাছ থেকে অঙ্গীকারনামা চেয়েছে নির্বাচন কমিশন। তিনটি বিষয়ে প্রার্থীরা অঙ্গীকার করলে নির্দিষ্ট তারিখ ২০ জানুয়ারি নির্বাচনের অনুমতি দিতে পারে কমিশন। কিন্তু অঙ্গীকার করে নির্বাচন করতে রাজি নন প্রার্থীরা। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্যর সঙ্গে মঙ্গলবার রাত ১১টার পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনিক ভবনে বৈঠক করেন বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থীরা।
নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে অঙ্গীকারের তিনটি বিষয় হচ্ছে-শাকসু নির্বাচনের সঙ্গে জাতীয় নির্বাচনের সম্পৃক্ততা থাকবে না, শাকসু নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনে কোনো প্রতিক্রিয়া ফেলবে না এবং শাকসু নির্বাচনকালীন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবে না। মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে শাকসু নির্বাচন নিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের এসব অঙ্গীকারের কথা জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাজেদুল করিম।
কিন্তু অঙ্গীকার করে নির্বাচন আয়োজনে রাজি নন ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও সাধারণ শিক্ষার্থী প্যানেলের প্রার্থীরা। তারা শর্ত ছাড়াই নির্দিষ্ট তারিখে নির্বাচন চান। এসব শর্তের বিষয়ে রাত ১১টা পর্যন্ত উপ-উপাচার্য সাজেদুল করিমের সঙ্গে আন্দোলনকারীরা বৈঠক করেন।
বৈঠকে তিনটি বিষয়ে অঙ্গীকার দেওয়ার বিষয়টা শিক্ষার্থীরা প্রত্যাখ্যান করলেও স্মারকলিপির কথা ভাবছেন তারা। প্রার্থীদের নির্বাচন আয়োজন করার দাবি করে শাকসু নির্বাচন কমিশনকে স্মারকলিপি প্রদান করার কথা রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ রাজিক মিয়া বলেছেন, প্রার্থীরা স্মারকলিপি প্রদান করলে আমরা তা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে জাতীয় নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়ে দিবো। নির্বাচন আয়োজন করার ব্যাপারে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।
অঙ্গীকার বিষয়ে শিবির সমর্থিত প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী দেলোয়ার হোসেন শিশির বলেন, প্রশাসন আমাদের আশ্বস্ত করেছে ২০ তারিখ নির্বাচন আয়োজন করবে। আমরা স্মারকলিপি দিবো। কিন্তু স্মারকলিপি গৃহীত না হলে, নির্বাচন না হলে আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে যথাযথ কর্মসূচি দিবো।
ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী মোস্তাকিম বিল্লাহ বলেন, আমরা স্মারকলিপি দিতে রাজি। তবে অঙ্গীকার বা শর্তের ব্যাপার গুলো উল্লেখ না করে। নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে আশাবাদী।
