স্কুল মাঠ ভাড়া দিয়ে আখ ক্রয়কেন্দ্র
চারঘাটের খোর্দগোবিন্দপুর উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠটি আখ ক্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে সমকাল
সনি আজাদ, চারঘাট (রাজশাহী)
প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৭:২৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার খোর্দগোবিন্দপুর উচ্চবিদ্যালয়ের খেলার মাঠটি গত তিন বছর ধরে আখ ক্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ সময় ধরে খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। মাঠ ভাড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত খোর্দগোবিন্দপুর উচ্চবিদ্যালয়ের পাশেই রয়েছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রাথমিক বিদ্যালয়টির নিজস্ব কোনো খেলার মাঠ না থাকায় উভয় প্রতিষ্ঠানের পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী এই মাঠটির ওপর নির্ভরশীল। সরেজমিনে দেখা যায়, মাঠজুড়ে আখের স্তূপ এবং পরিবহনের জন্য ট্রাক চলাচলের কারণে মাঠ ও এর সংলগ্ন রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা জানায়, বছরের শুরুতে পড়াশোনার চাপ কম থাকায় ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে তারা খেলাধুলার সুযোগ পায়। মাঠ দখল হয়ে থাকায় বাধ্য হয়ে বিপজ্জনক রাস্তায় দৌড়াদৌড়ি করছে তারা। নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে, ‘স্যারদের বারবার অনুরোধ করার পরেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না।’
অভিযোগ উঠেছে, প্রতি বছর নভেম্বর মাস এলেই মাত্র ৮ হাজার টাকার বিনিময়ে মাঠটি সুগার মিলের আখকেন্দ্রের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়। এতে শিক্ষার্থীরা মাঠে খেলাধুলা করতে পারছে না। অভিভাবকরা বলছেন, শিক্ষা অফিসে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো ফল মেলেনি।
আক্ষেপ করে অভিভাবক মশিউর রহমান বলেন, ‘মাত্র আট হাজার টাকার বিনিময়ে আমাদের সন্তানদের শৈশব ও স্বাস্থ্যকে ঝুঁকির মুখে ফেলা হচ্ছে। প্রভাবশালী মহলের কারণে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।’
স্থানীয় বাসিন্দা শাহিনুর রহমান জানান, সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় এখানে মাদকের প্রকোপ বেশি। মাঠ না থাকায় শিক্ষার্থীরা বিকেলে বাজারে আড্ডা দিচ্ছে, যা তাদের বিপথগামী হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
রাজশাহী সুগার মিলের নন্দনগাছী জোনের কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, কৃষকদের স্বার্থেই বার্ষিক ভাড়ায় এই কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। অন্যদিকে, প্রধান শিক্ষক রশিদুল ইসলাম বলছেন, শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সঙ্গে আলোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের কিছুটা সমস্যা হলেও স্থানীয় কৃষকরা উপকৃত হচ্ছেন বলে তিনি মনে করেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) লায়লা আখতার জাহান বিষয়টি জানার পর বিস্ময় প্রকাশ করেন। সমকাল প্রতিবেদককে তিনি বলেন, ‘স্কুল মাঠ ভাড়া দিয়ে আখ ক্রয়কেন্দ্র করার বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি দ্রুত বিষয়টি খোঁজ নেব। সতত্যা পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ। মাত্র কয়েক হাজার টাকার বিনিময়ে কয়েকশ শিক্ষার্থীর খেলাধুলার অধিকার কেড়ে নেওয়া শিক্ষার পরিবেশের পরিপন্থি। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে মাঠটি দখলমুক্ত করে শিক্ষার্থীদের সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে দেওয়া হোক।
- বিষয় :
- আখ
