দুদিন ধরে রাজবাড়ীর পদ্মায় ঘুরছে কুমির
পদ্মা নদীতে ঘুরছে কুমির। ছবি: সমকাল
রাজবাড়ী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ | ১৭:০৫ | আপডেট: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ | ১৭:১৩
রাজবাড়ী সদরের উড়াকান্দা এলাকায় দুদিন ধরে বিচরণ করছে একটি কুমির। ওই এলাকার ৩০০-৫০০ মিটারের মধ্যে স্থানীয় লোকজন প্রাণীটিকে দেখেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এলাকাবাসী নদীতে নামার বিষয়ে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। রাজবাড়ী জেলা বন বিভাগের কর্মকর্তারাও এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
আজ বুধবার উপজেলার বরাট ইউনিয়নের উড়াকান্দা এলাকার পদ্মা নদীতে দেখা গেছে, ঘাটে সারি সারি নৌকা বাঁধা। নানা বয়সী নারী-পুরুষ নদীতে গোসল করছেন। তাদের ভাষ্য, উড়াকান্দার দেওয়ানপাড়া স্কুলের পেছনে পদ্মা নদীতে কুমির দেখা গেছে বলে শুনেছেন।
রাজবাড়ী সরকারি কলেজের অনার্সের ছাত্র মোহাম্মদ আল মামুনের বাড়িও উড়াকান্দায়। তিনি বলেন, মঙ্গলবার সকালে তিনি শুনতে পান নদীতে কুমির দেখা গেছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রী প্রাণীটিকে দেখেছে। বিষয়টি শোনার পর তিনি নদীতীরে অপেক্ষা করেন। দীর্ঘ সময় পর দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে কুমিরটিকে নদীতে ভেসে ওঠতে দেখেন। তাঁর বর্ণনামতে, কুমিরটি লম্বায় ছয়-সাত ফুট।
মৎস্যজীবী আবুল হোসেনের বয়স ৮০ ছুঁইছুঁই। তিনি জানালেন, জীবনে এই প্রথম শুনলেন তাদের এলাকার পদ্মা নদীতে কুমির আছে।
মনোয়ারা বেগম নামে এক গৃহবধূ নিয়মিতই নদীতে গোসল করেন। কুমিরের কথা শুনে তাদের নদীতে নামতে একটু ভয় ভয় করছে। অনেককে গোসল করতে দেখে ভাবছেন, তিনিও নামবেন।
হাবিবুর রহমান ও নিজাম উদ্দিনসহ কয়েকজনের ভাষ্য, সোমবার নদীতে প্রথম কুমিরটি দেখতে পান স্থানীয় এক নারী। মঙ্গলবারও কুমিরটি ভেসে উঠেছিল। তবে বুধবার আর দেখা যায়নি। তারা বলেন, অনেকে ভয় নিয়ে নদীতে নামছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, যা হবার হবে; কুমিরের পেটে মৃত্যু থাকলে হবে।
উড়াকান্দার বাসিন্দা ইউনুস মণ্ডল বরাট ইউনিয়ন জেলে সমিতির সভাপতি। এক সহকর্মীর কাছে তিনি শুনেছেন, বুধবার সকালে নৌকা নিয়ে মাছ ধরতে গেলে নদীর মাঝখানে পানির গোলাকৃতির বুদবুদ ছাড়তে দেখছেন। তাঁর ধারণা, ওখানে কুমির ছিল। এখন নদীতে নামতে অনেকেই ভয় পাচ্ছেন।
রাজবাড়ীর সহকারী বন সংরক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) সানজিদা সুলতানা জানান, বুধবার তারা উড়াকান্দা এলাকা পরিদর্শন করেছেন। বন বিভাগের লোক সেখানে নজরদারি করছে। বিকেল পর্যন্ত কুমিরটিকে দেখা যায়নি। তারা সতর্কতার জন্য একটি সাইনবোর্ড স্থাপন করছেন।
এ কর্মকর্তার ভাষ্য, কুমির সাধারণত গভীর পানিতে থাকে। যেখানে কুমিরটি দেখা গেছে সেখানে পানির গভীরতা আছে। যেখানে খাবারের পরিমাণ বেশি থাকে, কুমির সাধারণত সেখানে বিচরণ করে। আবার কিছুদিন পরে চলে যায়। খাবারের সন্ধানে হয়তো কুমিরটি এখানে এসেছে।
মঙ্গলবার এ বিষয়ে সংবাদ পেয়েছেন রাজবাড়ী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিরুপমা রায়। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ব্যবস্থা নিতে বন বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন করা হচ্ছে। সেখানে লাল নিশান টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। আপাতত নদীতে না নামার জন্য বলা হয়েছে। বুধবার কুমির দেখা যায়নি।
