জীবন বিপন্ন হলেও সীমান্তে মানুষ মারার চেষ্টা রুখব: ফেলানীর ভাই
আরফান হোসেন
সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ | ১৯:৫৩
সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সৈনিক হিসেবে শপথ নিয়েছেন বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে গুলিতে নিহত কিশোরী ফেলানী খাতুনের ছোট ভাই আরফান হোসেন। আজ বুধবার চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বাইতুল ইজ্জতে বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজের (বিজিটিসিঅ্যান্ডসি) বীরউত্তম মজিবুর রহমান প্যারেড গ্রাউন্ডে বাহিনীর ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনীতে শপথ নেন তিনি। এর আগে আরফান হোসেন বিজিবির ১০৪ রিক্রুট ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজেও অংশ নেন।
কুচকাওয়াজ শেষে সৈনিক আরফান বলেন, ‘আমার বোনকে যখন গুলি চালিয়ে হত্যা করে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখা হয়, তখন আমার বয়স ছয় অথবা সাত বছর। তখন আমার পুরো পরিবার ভেঙে পড়েছিল। সেই তখন থেকে মা-বাবার ইচ্ছে ছিল আমাকে দেশের সেবার জন্য বিজিবিতে যোগদান করাবেন। তাদের ইচ্ছেকে বাস্তব রূপ দিতে বিজিবিতে যোগদানের জন্য নিজেকে গড়ে তুলি। বিজিবিতে যোগদানের পর থেকে আমি ও আমার পুরো পরিবার খুশি। আমার বিশ্বাস, চাকরি জীবনে সততা ও দক্ষতার স্বাক্ষর রাখতে পারব। নিজের জীবন বিপন্ন করে হলেও সীমান্তে পাখির মতো গুলি করে মানুষ মারার চেষ্টা রুখে দেব।
আরফান হোসেন আরও বলেন, ‘সীমান্তে আমার বোনের মতো কাউকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হোক সীমান্তরক্ষী বাহিনীর একজন সৈনিক হিসেবে, তা আমি চাইব না। আমার বোনের মতো আর কারও মা-বাবা যেন তাদের সন্তান না হারায়। এ জন্য সীমান্তে পাহারায় সব সময় সতর্ক দৃষ্টি রাখব।’
এর আগে আরফান গত বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৫ বিজিবি আয়োজিত সিপাহি নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে উত্তীর্ণ হন। ২০২২ সালে তিনি স্থানীয় নাখারগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। ২০২৪ সালে স্থানীয় একটি ডিগ্রি কলেজ থেকে শেষ করেন এইচএসসি।
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ির অনন্তপুর সীমান্তে ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি বিএসএফের গুলিতে নিহত হওয়ার পর কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল বাংলাদেশি কিশোরী ফেলানী খাতুনের মরদেহ। এ ঘটনার প্রায় ১৫ বছর পর ফেলানীর ছোট ভাই বিজিবিতে নিয়োগ পেলেন।
এদিকে বিজিটিসিঅ্যান্ডসিতে কুচকাওয়াজ শেষে আরফানসহ মোট তিন হাজার ২৩ জন নবীন শপথ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সৈনিক জীবনে পদার্পণ করেন। স্বরাষ্ট্র ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নবীন সৈনিকদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ পরিদর্শন এবং অভিবাদন গ্রহণ করেন। এ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি, বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং বিজিটিসিঅ্যান্ডসির কমান্ড্যান্ট উপস্থিত ছিলেন।
অভিবাদন গ্রহণ শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নবীন সৈনিকদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দেন। বক্তব্যের শুরুতে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী তৎকালীন ইপিআরের ৮১৭ জন অকুতোভয় বীর শহীদকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানে শহীদ ছাত্র-জনতাকেও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন এবং আহতদের আশু আরোগ্য কামনা করেন।
মনোবল, ভ্রাতৃত্ববোধ, শৃঙ্খলা ও দক্ষতা বিজিবির এই চার মূলমন্ত্রে উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত হয়ে অর্পিত যে কোনো দায়িত্ব সুশৃঙ্খল ও সুচারুরূপে পালনের জন্য বাহিনীর সদস্যদের নির্দেশ দেন তিনি।
