ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ড্রেন নির্মাণে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার, ক্ষোভ

আক্কেলপুর পৌরসভা

ড্রেন নির্মাণে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার, ক্ষোভ
×

আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৮:১৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের ৩০টি পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পের আওতায় জয়পুরহাটের আক্কেলপুর পৌরসভার ড্রেন নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তবে ড্রেন নির্মাণে যাচাইকৃত ও অনুমোদিত উপকরণের পরিবর্তে ভিন্ন ও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ক্ষোভ জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
বিশ্বব্যাংক ও এডিবির অর্থায়নে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। 

পৌরসভার সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় পৌর এলাকার পাঁচটি স্থানে মোট ২ হাজার ৯০১ মিটার ড্রেন নির্মাণের কাজ চলছে। এ কাজে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা। প্রথম পর্যায়ে সাকলাইন মাহমুদ তরফদার নামে এক ঠিকাদার কার্যাদেশ পান। তিনি ২০২১ সালের ১২ ডিসেম্বর কার্যাদেশ পেয়ে আক্কেলপুর-বদলগাছী সড়কের আলিশান হোটেল থেকে পশ্চিম আমুট্ট সেতু পর্যন্ত ৮৫৭ মিটার ড্রেন নির্মাণের কাজ করেন। চুক্তি অনুযায়ী ২০২২ সালের ১২ আগস্টের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না করে ঠিকাদার কাজ ফেলে রেখে চলে যান। পরবর্তী সময়ে আংশিক কাজের জন্য আবার দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে ৫ কোটি ৪৬ লাখ ৩৩ হাজার টাকা চুক্তিমুল্যে বগুড়ার সোনাতলার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সালেক পাওয়ার লিমিটেড কাজটি পায়। তারা গত বছরের জুলাই মাসে প্রাণিসম্পদ মোড় থেকে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ভবনের সামনে প্রায় ৪০০ মিটার ড্রেন নির্মাণ কাজ শুরু করে। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রথমদিকে যাচাইকৃত মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার করা হলেও পরে ভিন্ন ও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। এ কারণে সাবেক পৌর প্রশাসক এবং ইউএনও মনজুরুল আলম একপর্যায়ে প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কার্যাদেশে অনুমোদিত সিমেন্ট ও রড না দিয়ে ভিন্ন সিমেন্ট-রড দিয়ে ড্রেনের স্ল্যাব নির্মাণ করা হচ্ছে। 
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল আলিম অভিযোগ করে বলেন, ড্রেন নির্মাণে শুরুতে এক ধরনের রড ও সিমেন্ট ব্যবহার করা হলেও পরে বারবার ব্র্যান্ড পরিবর্তন করা হচ্ছে। এতে কাজের মান নিয়ে তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করলে এই ড্রেন বেশি দিন টিকবে না। সরকারি অর্থ ব্যয় হলেও যদি কাজ টেকসই না হয়, তাহলে সাধারণ মানুষেরই ক্ষতি হবে।
স্থানীয় দোকানি শাহীনুর রহমান বলেন, ঠিকাদার নির্ধারিত উপকরণ না দিয়ে নির্মাণকাজ করছেন। এতে কাজ ভালো হচ্ছে না।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি আবু তাহের বলেন, ল্যাব টেস্ট করার পরে নির্ধারিত উপকরণ দিয়েই কাজ করা হচ্ছিল। বর্তমানে বাজারে নির্ধারিত উপকরণ পাওয়া যাচ্ছে না। তাই মান ঠিক রেখে ভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ সঠিক নয়। 

এ বিষয়ে উপজেলা জনস্বাস্থ্য কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী একরামুল বারী বলেন, তিনি এখানে যোগদানের আগেই কাজ শুরু হয়েছে। চলতি মাসে কাজের মেয়াদ শেষ হলেও এখনও অনেক কাজ বাকি রয়েছে। ঠিকাদার সময় বাড়ানোর আবেদন করেছেন। নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, ড্রেন নির্মাণে যে উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটি কার্যাদেশে উল্লিখিত মানের। তবে কোন ব্র্যান্ড ব্যবহার করা হচ্ছে সেটি তাঁর জানা নেই।
আক্কেলপুর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. নুরুজ্জামান বলেন, ড্রেন নির্মাণে যাচাইকৃত উপকরণের ব্যবহার করা হচ্ছে না এটি সঠিক 
নয়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ঠিকাদার কোন ব্র্যান্ডের সিমেন্ট ও রড ব্যবহার করছেন 
সেটি জানেন না। 
আক্কেলপুর পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্বে আছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা জান্নাত। তিনি বলেন, অনিয়মের বিষয়ে এখনও কোনো অভিযোগ পাননি তিনি। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×