শাকসু নির্বাচন স্থগিত, বিক্ষোভ অবরোধ, শিক্ষক হেনস্তা
প্রশাসনিক ভবনে তালা, উপাচার্য অবরুদ্ধ
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদ এবং যথাসময়ে নির্বাচনের দাবিতে গতকাল সোমবার বিকেলে সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করেন শিবিরের প্যানেলের প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা সম
সিলেট ব্যুরো
প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৮:৩৭ | আপডেট: ২০ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৮:৫৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র ও স্থগিত হওয়ার প্রতিবাদে গতকাল সোমবার ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ হয়েছে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেটের সামনে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করেন ছাত্রশিবির সমর্থিত দুর্বার সাস্টিয়ান প্যানেল ও সাধারণের ঐক্যস্বর প্যানেলের প্রার্থী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সড়ক অবরোধকালে আটকা পড়ে শত শত যানবাহন। ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। সন্ধ্যায় সড়ক ছেড়ে আবার শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ফিরে প্রশাসনিক ভবনের সামনে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করেন। তারা উপাচার্যকে দালাল বলেও স্লোগান দেন। ওই সময় ভবনে প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠকে বসে শাবি প্রশাসন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার পরও তাদের সঙ্গে বৈঠক চলছিল।
শাকসু নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে সকাল থেকে ক্যাম্পাসে আন্দোলন করেন শিবির ও স্বতন্ত্র প্যানেলের প্রার্থীসহ শিক্ষার্থীরা। তারা প্রশাসনিক ভবনে তালা লাগিয়ে সেখানে বিক্ষোভ করেন। এক শিক্ষককে হেনস্তাও করা হয়। দুপুর পর্যন্ত বিক্ষোভকালে শাবি উপাচার্য এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী, সহউপাচার্য মো. সাজেদুল করিম ও কোষাধ্যক্ষ মো. ইসমাইল হোসেন আটকা পড়েন। ক্যাম্পাসে বিক্ষোভকালে বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থীরা হাইকোর্টে রিটকারী স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী মুমিনুর রশীদকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। দুপুর ২টার দিকে ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে সুনামগঞ্জ সড়কে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা।
আজ মঙ্গলবার এই নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। নির্বাচন আয়োজনের শুরু থেকেই নানা নাটকীয়তার জন্ম নেয়। নির্বাচন কমিশন জাতীয় নির্বাচনের আগে আর কোনো নির্বাচন হবে না– এমন আদেশ দেওয়ার পর প্রতিবাদে আন্দোলন করেন শিক্ষার্থীরা। তারা আন্দোলন করে নির্বাচনের অনুমতি আদায়ও করেন। কিন্তু নির্বাচন স্থগিত দাবিতে ভিপি প্রার্থী মুমিনুর রশীদ উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করলে আবার অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। রিটের শুনানি শেষে সোমবার উচ্চ আদালত নির্বাচন চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেন। এতে নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ আপাতত আটকে গেল।
গতকাল ক্যাম্পাসে আন্দোলন চলাকালে শাকসু নির্বাচন কমিশনের ১৫ সদস্যের মধ্যে বিএনপিপন্থি আটজন শিক্ষকের পদত্যাগের খরব ছড়িয়ে পরে। পরে এই শিক্ষকরা সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রশ্নবিদ্ধ আচরণের কারণে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নেই উল্লেখ করে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি আশরাফ উদ্দিন সংবাদ সম্মেলনে জানান, আটজন কমিশনার পদত্যাগ করেছেন। পাশপাশি বিএনপিপন্থি ১০০ থেকে ১৫০ জন শিক্ষকও নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে বিরত থাকবেন। কমিশনারের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগকারী আট শিক্ষকের মধ্যে অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, রেজোয়ান আহমেদ, মো. মাহবুবুল আলম, মো. আশরাফ সিদ্দিকী, মিজানুর রহমান, জি এম রবিউল ইসলামের নাম জানা গেছে।
একই সময়ে ক্যাম্পাসে জামায়াতপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল) সাস্ট চ্যাপ্টারের পক্ষেও সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সংগঠনের সদস্য সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন নিয়ে শঙ্কার কোনো বিষয় নেই। নির্বাচন যথাসময়ে হতে হবে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করে বলেছি, রিটের রায় যদি শাকসু নির্বাচনের বিরুদ্ধে যায়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে দ্রুতই যাতে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।
গত রোববার শাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন মুমিনুর রশীদ শুভসহ তিন শিক্ষার্থী। এ নিয়ে উত্তেজনা ছড়ায় ক্যাম্পাসে। বিভিন্ন প্যানেল আবার আন্দোলন শুরু করে। এ অবস্থায় সোমবার রিটের শুনানি হয়। আদালত নির্বাচনে স্থগিতাদেশ দেন। আইনজীবীরা জানান, নির্বাচন কমিশন শাকসু নির্বাচনের যে অনুমোদন দিয়েছিলেন, তা চার সপ্তাহের জন্য হাইকোর্ট স্থগিত করেছেন। এর ফলে ২০ জানুয়ারি শাকসু নির্বাচন হবে না।
শাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. আবুল মুকিত মোহাম্মদ মোকাদ্দেছ গতকাল সমকালকে বলেন, ‘নির্বাচন স্থগিতের বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। আমার কাছে কোনো কাগজ আসেনি। শাবি কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আমাকে জানাবেন। উচ্চ আদালত থেকে নির্দেশনা প্রশাসন পাবে। সন্ধ্যায় জরুরি সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করা হয়েছে।’
ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ
শাকসু নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ এবং নির্ধারিত সময়ে নির্বাচনের দাবিতে কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবির রাজধানীতে বিক্ষোভ করেছে। এ ছাড়া সিলেট মহানগর ছাত্রশিবির নগরীর চৌহাট্টা মোড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। সমাবেশে নেতারা অভিযোগ করেন, বিএনপি ও ছাত্রদল ছাত্র সংসদ নির্বাচনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এর মাধ্যমে তারা ছাত্র সমাজ ও জুলাই প্রজন্মের বিপক্ষে নিজেদের দাঁড় করিয়েছে।
- বিষয় :
- শাকসু
- শাকসু নির্বাচন
