নিজের প্রতীকে ভোট দেওয়ার ইচ্ছাপূরণ হচ্ছে আলী বেপারীর
আব্দুল আলী বেপারীর হাতে প্রতীক তুলে দেন জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা সমকাল
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৮:০৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
নিজের ভোট নিজের প্রতীকে দেওয়ার ইচ্ছা পূরণ হতে যাচ্ছে মানিকগঞ্জ-১ (ঘিওর, দৌলতপুর ও শিবালয়) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল আলী বেপারীর। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের দুই সপ্তাহ আগে হরিণ প্রতীক হাতে পেয়েছেন তিনি। গত সোমবার সন্ধ্যার পর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা উচ্চ আদালতের নির্দেশে তাঁকে প্রতীক বরাদ্দ দেন। তাঁকে নিয়ে এই আসনে মোট সাতজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ঘিওর উপজেলার বেড়াডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল আলী বেপারী পেশায় কৃষক। তিনি ২০১১, ২০১৬ ও ২০২১ সালে ঘিওরের সিংজুরি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে প্রতিবারই পরাজিত হন। গত দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। কিন্তু এক শতাংশ ভোটারের তথ্যে গরমিল থাকায় তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যায়। ওই সময় তিনি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন ও মাটিতে গড়াগড়ি করেন। এই দৃশ্য গণমাধ্যমের কল্যাণে ছড়িয়ে পড়লে তিনি সারাদেশে পরিচিতি লাভ করেন।
এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। কিন্তু সেই একই ইস্যুতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা সেটি বাতিল ঘোষণা করেন। এবার কান্নাকাটি না করলেও নির্বাচনের এই বিধিকে কালো আইন ও শেখ হাসিনার আইন বলে আখ্যা দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু হাল না ছেড়ে ৬৭ বছর বয়সী এই কৃষক দ্বারস্থ হন উচ্চ আদালতের। সেখানেই এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরের গ্যাড়াকল থেকে মুক্তি মিলে তাঁর। গত বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট আব্দুল আলী বেপারীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে প্রতীক বরাদ্দের নির্দেশ দেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তাকে। উচ্চ আদালতের রায়ের কপি হাতে পাওয়ার পর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা সোমবার সন্ধ্যায় তাঁকে হরিণ প্রতীক বরাদ্দ দেন।
হলফনামা অনুযায়ী, মানিকগঞ্জ-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল আলী বেপারী প্রাইমারি স্কুলে পড়েই ‘বড়’ ওয়ান পাস দেখিয়েছেন। তাঁর নামে কোনো মামলা মোকদ্দমা নেই। কৃষিজমি রয়েছে ৬৪১ শতাংশ। যা থেকে বার্ষিক গড় আয় দুই লাখ ৯০ হাজার টাকা। বার্ষিক ব্যয় দুই লাখ ৪০ হাজার টাকা।
প্রতীক পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় আব্দুল আলী বেপারী বলেন, ইচ্ছা ছিল এমপি পদে আমার নিজের ভোট নিজের প্রতীকে দেব। কিন্তু গতবারের মতো এবারও মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। নির্বাচনের আগেই বিভিন্ন কারণে দুই লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। ভেবেছিলাম নিজের ভোট নিজেকে আর দিতে পারব না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আদালতের মাধ্যমে আমি প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছি। পছন্দের প্রতীক হাতি ছিল। কিন্তু হাতি না পেলেও হরিণ প্রতীক পেয়েছি। এখন নির্বাচনের দিন আমি আমার হরিণ প্রতীকে নিজের ভোট দিতে পারব, এর চেয়ে আর আনন্দ নেই।
- বিষয় :
- প্রতীক বরাদ্দ
