নির্বাচনী মাঠে নতুন গুঞ্জন
ড. ওসমান ফারুকের সঙ্গে সাক্ষাৎ জাপা নেতাদের
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৮:১৬ | আপডেট: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৯:১৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনে নির্বাচনী উত্তাপের মধ্যে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। জাতীয় পার্টির (জাপা) এক প্রভাবশালী নেতার নেতৃত্বে সাত ইউপি চেয়ারম্যান বিএনপির প্রার্থী ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. ওসমান ফারুকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বুধবার দুপুরে করিমগঞ্জের গুজাদিয়া এলাকায় ওসমান ফারুকের বাসভবনে গিয়ে তারা ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
ওসমান ফারুকের বাড়িতে যাওয়া জাপা নেতারা হলেন– তাড়াইলের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা জাপার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম ভূঁইয়া শাহীন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ধলা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মবিন, ধলা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান সাজেদুর রহমান মিল্টন, জাওয়ার ইউপির চেয়ারম্যান এমদাদুল হক রতন, তাড়াইল-সাচাইল ইউপির চেয়ারম্যান সাঈম দাদ খান নওশাদ, দিগদাইর ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ, দামিহা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া ও তালজাঙ্গা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান।
এই সাক্ষাৎ নিয়ে তাড়াইল ও করিমগঞ্জে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। বিশেষ করে এই আসনের ছয়বারের সাবেক এমপি মুজিবুল হক চুন্নুর ‘সিপাহসালার’ হিসেবে পরিচিত এসব নেতার হঠাৎ বিএনপির প্রার্থীর বাড়িতে যাওয়াকে অনেকেই রহস্যজনক মনে করছেন। এলাকায় আলোচনা রয়েছে যে, মুজিবুল হক চুন্নুর ইশারা বা কোনো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া তারা ওসমান ফারুকের কাছে যাননি।
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মধ্যে এ নিয়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের আশঙ্কা, দীর্ঘ সময় নির্যাতিত হওয়ার পর এখন জাপা নেতারা বিএনপিতে ভিড়লে ভবিষ্যতে তারাই দলের জন্য ‘পথের কাঁটা’ হয়ে দাঁড়াতে পারেন। অনেকেই বলছেন, ওসমান ফারুকের বয়স বর্তমানে ৮৫ বছর। তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ। জল্পনা রয়েছে, ওসমান ফারুকের পর বিএনপিতে তেমন শক্তিশালী নেতৃত্ব নেই। তাই চুন্নু হয়তো ভবিষ্যতে বিএনপিতে ফেরার পথ তৈরি করছেন।
জাওয়ার ইউপি চেয়ারম্যান রতন বলেন, ‘এটি সৌজন্য সাক্ষাৎ। আমরা তাঁর নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছি।’ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার আলম জানান, চুন্নু আগে আওয়ামী লীগের সমর্থনে ছিলেন, এখন হয়তো বিএনপির সঙ্গে ঘেঁষতে চাইছেন। তবে তাদের বিএনপিতে যোগদানের সুযোগ নেই।
সব গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘এসব মানুষের আজগুবি ধারণা। তারা নিজের সিদ্ধান্তে অথবা কোনো ভয় থেকে সেখানে গেছে। আমি জাতীয় পার্টিতেই থাকব।’
এদিকে মুজিবুল হক চুন্নুর প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় এই আসনে এখন ড. ওসমান ফারুকের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা কর্নেল (অব.) ডা. জেহাদ খান। জাপা নেতাদের এই অবস্থানে ধানের শীষের পালে বাড়তি হাওয়া লেগেছে বলে মনে করছেন করিমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজিজুল ইসলাম দুলাল।
- বিষয় :
- নির্বাচনী ব্যবস্থা
