চবিতে ঘুরতে এসে ছিনতাই-হেনস্তার শিকার দর্শনার্থী, আটক ২ রিকশাচালক
ফাইল ছবি
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ২০:৪২ | আপডেট: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ২১:১৬
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) এলাকায় ঘুরতে এসে ছিনতাই ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন একদল দর্শনার্থী। বুধবার বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ ক্যাম্পাস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই সহোদর রিকশাচালককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
আটকরা হলেন- মো. লোকমান আলী (৩২) ও মো. রাশেদ (৩০)। তারা স্থানীয় একটি চক্রের সদস্য বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ।
বিশ্ববিদ্যালয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, হাটহাজারী এলাকা থেকে চারজন তরুণ ও তিনজন তরুণী চবি ক্যাম্পাসে বেড়াতে আসেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেট থেকে জিরো পয়েন্টে যাওয়ার জন্য তারা লোকমান আলীর রিকশায় ওঠেন। তবে গন্তব্যে না নামিয়ে লোকমান কৌশলে তাদের দক্ষিণ ক্যাম্পাসের নির্জন এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর লোকমান তার ভাই রাশেদকে ডেকে আনেন। দুই ভাই মিলে দর্শনার্থীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে মোবাইল ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেন এবং সঙ্গে থাকা তরুণীদের হেনস্তা করেন। এক পর্যায়ে তাদের আটকে রেখে ভয় দেখিয়ে ১০ হাজার টাকা দাবি করে।
ভুক্তভোগী মো. সাকিব ও সায়েম উদ্দিন সিয়াম বলেন, আমরা বন্ধু-বান্ধবীরা মিলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘোরাঘুরির উদ্দেশ্য আসি। পথিমধ্যে ১নং গেইট থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে আসার জন্য রিকশায় উঠেছিলাম। পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট এলাকায় রিকশাওয়ালার সঙ্গে আমাদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ ক্যাম্পাসের দিকে নিয়ে গিয়ে রিকশাওয়ালা তার ভাইকে (মো. রাশেদ) ডেকে আনে। এবং আমাদের মোবাইল ও মানিব্যাগের সব টাকা জোরপূর্বক নিয়ে নেয়। আমাদের সঙ্গে আসা মেয়েদেরকেও হেনস্তা করে। পরবর্তীতে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা দপ্তরের হাতে তুলে দিবে বলে হুমকি দেয় এবং দশ হাজার টাকা দাবি করে।
অভিযুক্ত মো. লোকমান আলী বলেন, আমার রিকশাতে ছেলেমেয়েগুলো উঠার পর অশ্লীল কর্মকাণ্ড শুরু করে এবং সেটা আমি প্রথমে রিকশার লুকিং গ্লাসে লক্ষ্য করি। জিরো পয়েন্ট এলাকায় আসার পরে তাদের সাথের বন্ধুদের আসার তাগাদা দেই এবং আমি তাদের দুজনকে নিয়ে দক্ষিণ ক্যাম্পাসের দিকে যাই। তার পরিবারকে ঘটনা জানানোর উদ্দেশ্যে মোবাইল নিয়েছিলাম। তারা যে অভিযোগ তুলছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
নিরাপত্তা প্রহরী মো. দিদারুল ইসলাম এবং মো. সুমন জানায়, আমরা ২ জন বিকেলে টহলে বেরিয়েছিলাম। কাটা পাহাড়ের রাস্তার মাঝে লক্ষ্য করি দর্শনার্থী ৩ জন মেয়ে ও ৪ জন ছেলের সাথে দুইজন রিকশাওয়ালার বাকবিতণ্ডা চলছে। ঘটনা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় হওয়ার তাদেরকে (দর্শনার্থী) আমাদের কাছে হস্তান্তর করতে বললে লোকমান (রিকশাওয়ালা) বলেন আপনারা কে? আপনাদের কাছে কেনো দেব? এবং একইসাথে লোকমান এবং রাশেদ আমাদের হুমকি দেয়। তখন কৌশলে আমরা অন্য একটি রিকশায় দর্শনার্থী ২ জনকে তুলে বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে জিরো পয়েন্ট হয়ে নিরাপত্তা দপ্তরে নিয়ে আসি। এসময় আমাদের সাথে দুই রিকশা চালককে আসতে বলি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, এ ধরণের একটি চক্র দ্বারা বিগত সময়ে দর্শনার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও হেনস্থার শিকার হয়েছে। আমরা অনেক দিন থেকে এই চক্রটাকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছিলাম।
তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তা দপ্তর বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে এবং ভুক্তভোগীদের (দর্শনার্থী) মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার প্রক্রিয়া চলমান। অভিযুক্ত ২ জনকে ফাঁড়ি পুলিশের মারফতে হাটহাজারী থানায় পাঠানো হয়েছে।
হাটহাজারী থানা সাব ইন্সপেক্টর মো. শামীম উদ্দিন সমকালকে জানায়, আমরা আসামিদের থানায় নিয়ে এসেছি। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আগামীকাল সকালে তাদেরকে কোর্টে চালান করা হবে।
