ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

প্রখ্যাত বাউলশিল্পী সুনীল কর্মকার আর নেই

প্রখ্যাত বাউলশিল্পী সুনীল কর্মকার আর নেই
×

সুনীল কর্মকার। ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ

প্রকাশ: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৬:৫৩ | আপডেট: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ২২:০৬

প্রখ্যাত বাউলশিল্পী ও যন্ত্রসংগীত সাধক সুনীল কর্মকার আর নেই। শুক্রবার ভোরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। শিল্পী সুনীল কর্মকারের প্রয়াণে বাউল সমাজে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

জনপ্রিয় বাউল শিল্পী মুক্তা সরকার সামাজিক মাধ্যমে শোক প্রকাশ করে লেখেন, “আহা সুনীল কাকা! কণ্ঠ শুনলেই বুঝতেন আমি আসছি। ‘মা’ বলে ডাকতেন। পালাগানের মঞ্চে কত স্মৃতি... ওপারে ভালো থাকবেন শ্রদ্ধেয় গুণীশিল্পী।”

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুই সন্তানের জনক। তাঁর বড় ছেলে প্রসেনজিৎ কর্মকার একজন রাজস্ব কর্মকর্তা এবং ছোট ছেলে বিশ্বজিৎ কর্মকার বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে এ কর্মরত।

বড় ছেলে প্রসেনজিৎ কর্মকার সমকালকে বলেন, স্পাইনাল কর্ডের সমস্যা, রক্তে ইনফেকশনজনিত সমস্যা, ডায়াবেটিস ও প্রেশারসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় গত চারদিন আগে তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। শুক্রবার ভোর ছয়টায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। দুপুর আড়াইটায় তার মরদেহ ময়মনসিংহ নগরীর শহীদ মিনার চত্বরে সর্বস্তরের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে। তার ইচ্ছা অনুযায়ী ময়মনসিংহের কলতাপাড়ায় তাঁকে সমাধিস্থ করা হবে।

১৯৫৯ সালের ১৫ জানুয়ারি নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়া থানার বার্ণাল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সুনীল কর্মকার। শৈশবেই টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে তিনি তার দৃষ্টিশক্তি হারান। কিন্তু চোখের আলো নিভলেও হৃদয়ের আলোয় তিনি জয় করেছিলেন সুরের বিশ্ব। তাঁর পিতা মৃত দীনেশ কর্মকার এবং মাতা কমলা কর্মকার। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের আশ্রয় শিবিরে তিনি তাঁর বাবা ও ছোট ভাইকে হারান।

তার ভক্ত অনুরাগীরা বলেন, মাত্র সাত বছর বয়স থেকেই সংগীতের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ তৈরি হয়। কিংবদন্তি গীতিকবি জালাল উদ্দিন খাঁর গানের আসরে নিয়মিত যাতায়াত ছিল তাঁর। পরবর্তী সময়ে তিনি বাউল গায়ক ইস্রাইল মিয়ার কাছে শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। গুরু তাঁকে নিজের সন্তানের মতো লালন-পালন করেন এবং সংগীতের তালিম দেন।

তারা বলেন, সুনীল কর্মকার কেবল কণ্ঠশিল্পীই ছিলেন না, বরং এক বিস্ময়কর যন্ত্রশিল্পীও ছিলেন। তিনি একতারা, দোতারা, স্বরাজ, হারমোনিয়ামের পাশাপাশি খমক, খুঞ্জুরী, ঢোল ও ঢোলক বাজাতে সমভাবে পারদর্শী ছিলেন। তিনি লক্ষ্ণৌ ঘরানার মীর হোসেনের কাছে বেহালা এবং প্রতিবেশী গোবিন্দ কর্মকারের কাছে তবলার তালিম নেন।

ময়মনসিংহের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ইমতিয়াজ আহমেদ সমকালকে বলেন, জালাল উদ্দিন খাঁর অসংখ্য গানে সুরারোপ করার পাশাপাশি সুনীল কর্মকার নিজে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০টি গান রচনা করেছেন। লোকসংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২২ সালে তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পদক লাভ করেন। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে ভারত ও আমেরিকার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চেও তিনি বাংলা লোকগানকে তুলে ধরেছেন।

আরও পড়ুন

×