ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বিএনপির ইশতেহার প্রত্যাখ্যান করল ইউপিডিএফ

বিএনপির ইশতেহার প্রত্যাখ্যান করল ইউপিডিএফ
×

ফাইল ছবি

রাঙামাটি অফিস

প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ২২:০৪

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ইশতেহারে পার্বত্য চট্টগ্রামের মৌলিক দাবি পূরণের প্রতিশ্রুতি নেই দাবি করেছে আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)। পাশাপাশি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারকে প্রত্যাখ্যান করেছে সংগঠনটি।

শনিবার সংগঠনটির প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগের প্রধান নিরন চাকমার স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানা হয়েছে।

এতে বলা হয়, ৬ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করা বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের মৌলিক দাবি পূরণের কোনো প্রতিশ্রুতি নেই। এতে বাঙালি ভিন্ন অন্য জাতিসত্তাগুলোর স্বীকৃতি, মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার মৌলিক বিষয় স্থান পায়নি। জাতি হিসেবে ভিন্ন ভিন্ন, যেমন বাঙালি, চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো, মণিপুরি, সাঁওতাল ইত্যাদি নাগরিক হিসেবে সবাই বাংলাদেশি। বাংলাদেশি পরিচয় নাগরিকত্বের পরিচয়, জাতীয়তার পরিচয় নয়। তবে এ সত্য ও বাস্তবতা স্বীকার না করে সংখ্যালঘু জাতিগুলোর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। 

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিএনপির ইশতেহারে উল্লিখিত পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কিত প্রতিশ্রুতি অন্তঃসারশূন্য। পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যাকে রাজনৈতিকভাবে সমাধানের প্রতিশ্রুতি না থাকার মধ্যে এই ইঙ্গিত স্পষ্ট যে, বিএনপি তার আগের অবস্থান পরিবর্তন করেনি। আশির দশকে তারা পাহাড়ে সেটলার পুনর্বাসন করেছিল ও দমন নীতি জারি রেখেছিল, তা থেকে সরে এসেছে এমন সুস্পষ্ট অঙ্গীকার করতে বিএনপি ব্যর্থ হয়েছে। ইশতেহারে ‘টেকসই শান্তি স্থাপনের’ জন্য যে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়েছে তা অস্পষ্ট ও মূল সমস্যাকে পাশ কাটানোর চেষ্টা মাত্র। এছাড়া ইশতেহারে জনগণের মৌলিক দাবি স্বায়ত্তশাসন, ভূমি অধিকার, বেসামরিকীকরণ ও গণতন্ত্রায়ন, মানবাধিকার, সেটলারদের সমতলে পুনর্বাসন, জাতিসত্তার সাংবিধানিক স্বীকৃতি, গণহত্যার বিচার এবং এমনকি সাম্প্রতিক সময়ে গুইমারা, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও দীঘিনালায় সংঘটিত ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক হামলার বিচার করার প্রতিশ্রুতি পর্যন্ত নেই।

ইশতেহারে ‘নৃ-গোষ্ঠী উন্নয়ন অধিদপ্তর’ ও বেসরকারি উদ্যোগে ‘এক্সক্লুসিভ ট্যুরিজম জোন’ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতিকে চটকদার বুলি আখ্যায়িত করে বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার কারণ অর্থনৈতিক অনুন্নয়ন নয়। বরং এখানে উন্নয়নকে অধিকারহীন জাতিগুলোকে নিপীড়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাই অতীতে যেভাবে তথাকথিত পর্যটনের জন্য নিরীহ গ্রামবাসীকে উৎখাত হতে হয়েছে, তাদের ভূমি বেদখল করা হয়েছে, ভবিষ্যতে এক্সক্লুসিভ ট্যুরিজম জোন গঠন করা হলে একই ঘটনারই পুনরাবৃত্তি আরও বড় আকারে ঘটবে।

ইশতেহারকে প্রত্যাখ্যান করে তিন পার্বত্য জেলায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের ভোট না দিয়ে খাগড়াছড়িতে স্বতন্ত্র প্রার্থী ধর্ম জ্যোতি চাকমা ও রাঙামাটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমাকে ভোট দিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে বিবৃতিতে। 

আরও পড়ুন

×