ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

গভীর রাতে ডিবি পরিচয়ে হানা, নারী কর্মীদের হেনস্তা

গভীর রাতে ডিবি পরিচয়ে হানা, নারী কর্মীদের হেনস্তা
×

ছবি-সিসি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে নেওয়া

ফরিদপুর অফিস

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ২১:১২ | আপডেট: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ২১:৩১

ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, চরভদ্রাসন ও সদরপুর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এ এ এম মুজাহিদ বেগের সমর্থকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি-ধমকির অভিযোগ উঠেছে। সোমবার বিকেলে এসব অভিযোগ তুলেছেন ফুটবল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা এই প্রার্থী।

তিনি বলেছেন, গভীর রাতে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তাঁর সমর্থকদের বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। প্রচারে অংশ নেওয়া নারী কর্মীদেরও হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে।

এমন বেশ কিছু ঘটনা সিসি ক্যামেরার ফুটেজেও ধরা পড়েছে। রোববার রাত আড়াইটার দিকে ভাঙ্গা উপজেলার কাউলিবেড়া ইউনিয়নের পুটিয়া গ্রামে আবদুস সামাদ মাতুব্বরের বাড়িতে ডিবি পরিচয়ে হানা দেয় দুর্বৃত্তরা। ওই বাড়ির সিসি ক্যামেরায় দেখা যায়, রাত ২টা ১৮ মিনিটে একটি প্রাইভেটকার ও দুটি মাইক্রোবাসে করে আসে ১০ জন লোক। তারা বাড়ির ভেতরে ঢুকে দরজায় শব্দ করতে থাকে। এ সময় দুজনের কাঁধে ঝোলানো অবস্থায় শটগান দেখা যায়। এ সময় বলতে শোনা যায়, ‘এই বাবুল (সামাদ মাতুব্বরের ছেলে), দরজা খোল; আমরা থানা থেকে আসছি।’ প্রায় ১০ মিনিট অবস্থানের পর ২টা ২৮ মিনিটে ওই ব্যক্তিরা চলে যায়। 

এ বিষয়ে বাবুল মাতুব্বর বলেন, ‘আমি মুজাহিদ ভাইকে ভালোবেসে তাঁর নির্বাচন করতেছি। কিন্তু প্রতিনিয়ত বিএনপির লোকজন আমাকে হুমকি দিতেছে। এর মধ্যে গতকাল (রোববার) রাত আড়াইটার দিকে তিনটি গাড়িতে করে অনেক লোক আসে। তারা আমাকে ডাকতে থাকে। তারা থানা থেকে এসেছে বলে জানায়। তখন আমি ও আমার পরিবার আতঙ্কিত হয়ে চুপ থাকি। তারা দরজার বাইরে থেকে আমাকে বলে– তুই ফুটবলের সঙ্গে থাকলে গুলি করে মেরে ফেলব।’

তাঁর অভিযোগ, আগেও দুই রাতে তাদের বাড়িতে এভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে।

রোববার রাতে থানা থেকে কোনো পুলিশ সদস্য পুটিয়া গ্রামে যায়নি বলে জানিয়েছেন ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল আলিম। তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি আমার জানা নেই। থানায় কেউ অভিযোগও দেননি।’

সোমবার বিকেলে চরভদ্রাসনের দুটি এলাকায় ফুটবল প্রতীকের পক্ষে প্রচারে যাওয়া নারী কর্মীদের হেনস্তা করা হয়। এ বিষয়ে আসনটির নির্বাচন ও বিচারিক কমিটির কাছে অভিযোগ দিয়েছেন মুজাহিদ বেগের সমর্থক মাকসুদা বেগম। এতে বলা হয়, মুজাহিদ বেগের কর্মী হিসেবে লিফলেট নিয়ে চরভদ্রাসনের মৌলভীরচর বেলতলা এলাকায় প্রচার করছিলেন। এ সময় কৃষক দলের নেতা কামরুল হাসান ফিরোজের নেতৃত্বে তাদের হেনস্তা করা হয়।

একই দিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলা সদরের স্বাধীনতা চত্বরে চরভদ্রাসন ডিজিটাল হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে ১২ নারী সমর্থককে আটকে রাখা হয়। এ সময় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রাশেদ আল ফারুকের নেতৃত্বে ১০-১২ যুবক ওই নারীদের মোবাইল ফোনচোর আখ্যা দিয়ে হেনস্তা করে। হাসপাতালের সিসি ক্যামেরায়ও বিষয়টি দেখা গেছে। এ বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চরভদ্রাসনের ইউএনও জালাল উদ্দিন বলেন, তিনি বিষয়টি জানেন না। কেউ মৌখিক বা লিখিত অভিযোগ দেননি।

এসব ঘটনায় ভোটের পরিবেশ নিয়ে আতঙ্কিত স্বতন্ত্র প্রার্থী মুজাহিদ বেগ। তিনি বলেন, আমার নেতাকর্মী ও সমর্থকদের প্রতিনিয়ত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। প্রচারে বাধা দিচ্ছেন বিএনপির লোকজন। সংশ্লিষ্টদের কাছে প্রমাণসহ একাধিক অভিযোগ দিলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।’

আরও পড়ুন

×