রংপুর-ময়মনসিংহ বিভাগে যেসব উপজেলা ভোটের ‘ফ্যাক্টর’ হতে পারে
রংপুর বিভাগে উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে আছেন এটিএম আজহারুল ইসলাম, শামীম হায়দার পাটোয়ারী, সারজিস আলম। ছবি: সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৪:৪৯ | আপডেট: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৪:৫১
কেবল একটি উপজেলা নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের আসনগুলোতে দলীয় প্রার্থীর জয়-পরাজয়ের নির্ধারক হতে পারেন স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহীরা। দুই ও এর বেশি উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনের ক্ষেত্রে ব্যবধান গড়ে দিতে পারে চারটি বিষয়। এগুলো হলো– নারী ভোটার, নতুন ভোটার, প্রার্থীর নিজ এলাকার বাইরের উপজেলায় তাঁর ভোটব্যাংক ও দলীয় প্রভাব।
দেশের আট বিভাগের ১৬৭টি আসন থেকে সমকালের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে কোন আসনে কোন বিষয়গুলো ফলাফল নির্ধারণে প্রভাবক হতে পারে, তা বের করার চেষ্টা করেছে সমকাল। এ নিয়ে বিস্তারিত পড়তে ক্লিক করুন: ১০১ আসনে প্রভাব ফেলতে পারে ১১৬ উপজেলার ভোট
রংপুর বিভাগ: মোট আসন ৩৩ (তথ্য সংগ্রহ ২২টির)
সিটি করপোরেশনের একাংশ ও গঙ্গাচড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত রংপুর-১ আসনে বিএনপি, জামায়াত, জাপার প্রার্থীরা গঙ্গাচড়ার স্থানীয়। এ উপজেলার ২ লাখ ৫১ হাজারের মধ্যে অধিকাংশ ভোট যে প্রার্থীর পক্ষে যাবে তিনি এগিয়ে থাকবেন। রংপুর-২ এ প্রার্থী হয়েছেন জামায়াতের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলাম। তিনিসহ বিএনপি ও জাপার প্রার্থী এ উপজেলার স্থানীয়। ফলে প্রভাবক হতে পারে আরেক উপজেলা তারাগঞ্জ। ভোটার সংখ্যা বিবেচনায় রংপুর-৪ এ কাউনিয়ার বিপরীতে মুখ্য হতে পারে পীরগাছার ২ লাখ ৯৫ হাজার ৫৫৪ ভোট।
তিন উপজেলা নিয়ে গঠিত পঞ্চগড়-১ আসনে তেঁতুলিয়া ও আটোয়ারীর বিপরীতে সদর এবং পঞ্চগড়-২ এ বোদার বিপরীতে প্রভাবক হতে পারেন দেবীগঞ্জের ৩ লাখ ৪ হাজার ৮৪৬ ভোটার। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও কেন্দ্রের পল্লি উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক ফরহাদ হোসেন আজাদের বিপক্ষে লড়বেন সাবেক এমপি আজহার হোসেনের ছেলে মাহমুদ হোসেন সুমন। দুজনেরই বাড়ি বোদা উপজেলায়।
এ ছাড়া ভোটার সংখ্যা বিবেচনায় লালমনিরহাট-১ আসনে পাটগ্রামের বিপরীতে হাতীবান্ধা, লালমনিরহাট-২ এ আদিতমারীর বিপরীতে কালীগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও-২; হরিপুর ও রাণীশংকৈলের দুটি ইউনিয়ন, ঠাকুরগাঁও-৩; পীরগঞ্জ, নীলফামারী-১; ডিমলা এবং নীলফামারী-৪ আসনে প্রভাবক হতে পারে কিশোরগঞ্জ উপজেলার ভোট।

ময়মনসিংহ বিভাগ: মোট আসন ২৪ (তথ্য সংগ্রহ ১৬টির)
কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর নিয়ে গঠিত নেত্রকোনা-১ আসনের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা দুর্গাপুর। ভোটার ২ লাখ ১১ হাজার ৯৯৭ জন। বিএনপির প্রার্থী ও কেন্দ্রের আইন সম্পাদক কায়সার কামাল কলমাকান্দার স্থানীয়। জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি গোলাম রব্বানী খেলাফত মজলিসের হয়ে নির্বাচন করছেন। তিনিও এ উপজেলার স্থানীয় ও ১৯৮৮ সালে জাপার হয়ে এমপি হয়েছিলেন। ফলে কলমাকান্দার ২ লাখ ৪৪ হাজার ১৮৫ ভোট একই দলের সাবেক ও বর্তমান দুই নেতার মধ্যে ভাগাভাগি হলে ‘ফ্যাক্টর’ হতে পারে দুর্গাপুর। কলমাকান্দার আরেক স্থানীয় প্রার্থী কমিউনিস্ট পার্টির আলকাস উদ্দীন মীর।
নেত্রকোনা-২ আসনে মোট ৫ প্রার্থীর চারজনই সদরের স্থানীয়। প্রভাবক হতে পারেন বারহাট্টার ১ লাখ ৬৬ হাজার ৭১১ ভোটার। নেত্রকোনা-৩ এও মোট ৬ প্রার্থীর চারজন কেন্দুয়ার। বিএনপির দলীয় প্রার্থী রফিকুল ইসলাম হেলালীর প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারেন বিদ্রোহী ও জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া। ভোটের প্রভাবক হতে পারে আটপাড়া উপজেলা। ১৯৯৬ সালের পর নেত্রকোনা-৪ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের বিপরীতে বিএনপি জয় পায় কেবল ২০০১ সালে। এমপি হন লুৎফুজ্জামান বাবর। পরে তিনি স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীও হয়েছিলেন। মদন উপজেলার স্থানীয় বাবর এবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভোটার সংখ্যা বিবেচনায় এ আসনে প্রভাবক হতে পারে মোহনগঞ্জ উপজেলা; ভোটার ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩৮১ জন।
ময়মনসিংহ জেলার ১১টি আসনের মধ্যে ৯টি এক উপজেলাকেন্দ্রিক। দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনগুলোর মধ্যে ময়মনসিংহ-১ এ প্রভাবক হতে পারে ধোবাউড়া। বিএনপির দলীয়, বিদ্রোহী ও খেলাফত মজলিসের প্রার্থীরা হালুয়াঘাটের স্থানীয়। ময়মনসিংহ-২ এ বিএনপির দলীয়, বিদ্রোহী, জাতীয় পার্টির প্রার্থী তারাকান্দার স্থানীয়। অপরদিকে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী আসনের বাইরের উপজেলার। ফলে তারাকান্দার ভোট যখন ভাগাভাগি হবে তখন আসনটির ফুলপুর উপজেলার ৩ লাখ ১৭ হাজার ভোট ‘ফ্যাক্টর’ হতে পারে।
