ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

কেন্দ্রে যাওয়ার প্রস্তুতি কৃষি শ্রমিকদের

কেন্দ্রে যাওয়ার প্রস্তুতি কৃষি শ্রমিকদের
×

ভোটের জন্য দ্রুত জমির কাজ গোছাচ্ছেন তাড়াশের চর হামকুরিয়া গ্রামের কৃষি শ্রমিকরা সমকাল

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৮:৫৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ ও রায়গঞ্জ উপজেলার ফসলি মাঠগুলো এখন কৃষিকাজের মহোৎসবে মুখর। সরিষা ও আলু তোলা, বোরো ধান লাগানো কিংবা রসুন-পেঁয়াজ নিড়ানি, সব মিলিয়ে দম ফেলার ফুরসত নেই কিষান-কিষানিদের। এই ব্যস্ততার মাঝেও এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট।

সিরাজগঞ্জ-৩ (তাড়াশ-রায়গঞ্জ) আসনের মাঠে মাঠে ভোটের গুঞ্জন। ভোট নিয়ে চর হামকুড়িয়া গ্রামের মাঠে কথা হয় ববিতা খাতুন, ছবি পারভীন ও আবুল কালামের মতো শ্রমিকদের সঙ্গে। তারা জানান, বর্তমানে কাজের ভরা মৌসুম হলেও তাদের সব আলাপচারিতা এখন ভোট নিয়ে। কে কোন মার্কায় ভোট দেবেন, গণভোটের নিয়ম কী– এসব নিয়েই কাটছে কাজের ফাঁকের সময়। তাদের কাছে মজুরি নয়, ভোটই বড়। 

এ অঞ্চলে নারী কৃষি শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৩৫০-৪৫০ টাকা এবং পুরুষদের ৫০০ টাকা। কিন্তু উপার্জনের চেয়েও এবার ভোটাধিকার প্রয়োগকে বড় করে দেখছেন তারা। শ্রমিক ছবি পারভীন ও শেফালী খাতুন জানান, বিগত কয়েক বছর ভোট দিতে না পারার আক্ষেপ থেকে এবার তারা বদ্ধপরিকর। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ভোটের দিন কোনোভাবেই মাঠে কাজ করবেন না; বরং সাতসকালে বাড়ির কাজ সেরে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে কেন্দ্রে যাবেন। 

নিমগাছি এলাকার আদিবাসী শ্রমিক মন্দিরা পাহান ও অনন্ত উঁরাও একই সুরে জানান, গৃহস্থ ও ইটভাটা মালিকদের তারা আগেভাগেই ছুটির কথা জানিয়ে দিয়েছেন। নাদোসৈয়দপুর গ্রামের কৃষক আবু সাইদ জানান, শ্রমিকরা ভোটের দিন কাজ না করার সিদ্ধান্ত আগেই জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, ভোট দেওয়া সবার নাগরিক অধিকার, তাই গৃহস্থরাও ওই দিন মাঠে কাজ না রাখার পক্ষেই মত দিচ্ছেন।
সিরাজগঞ্জ-৩ (তাড়াশ-রায়গঞ্জ) আসনে মোট শ্রমজীবীদের প্রায় ৮০ শতাংশই কৃষি শ্রমিক। একসময় এ কাজে পুরুষ ও আদিবাসী নারীদের আধিক্য থাকলেও বর্তমানে সব সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ সমানতালে কাজ করছেন।

নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, রায়গঞ্জ উপজেলায় মোট ভোটার দুই লাখ ৭৩ হাজার ৫২৮ জন (পুরুষ ১,৩৭,৭৩৫; নারী ১,৩৫,৭৯০; তৃতীয় লিঙ্গ ৩)। কেন্দ্র ৯৮টি। তাড়াশে মোট ভোটার এক লাখ ৬৯,৬৪৯ জন (পুরুষ ৮৪,৯৩৫; নারী ৮৪,৭১০)। কেন্দ্র ৬০টি।
এই বিশালসংখ্যক ভোটারের প্রায় অর্ধেক নারী, যা নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের প্রধান নিয়ামক হতে পারে বলে মনে করছেন প্রার্থীরা। বর্তমানে এ আসনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী জোট, জাতীয় পার্টি, স্বতন্ত্রসহ মোট চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
তাড়াশ মহিলা ডিগ্রি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শফিউল হক বাবলু বলেন, ‘দেড় দশক পর শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে ভোট দেওয়ার যে প্রবল আগ্রহ দেখা যাচ্ছে তা ইতিবাচক। উপার্জনের চেয়ে গণতান্ত্রিক অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়াটা সুস্থ রাজনীতির ইঙ্গিত দেয়।’
চলনবিলের এই জনপদে এখন উৎসবের আমেজ। প্রচার-প্রচারণায় মুখরিত চারপাশ জানিয়ে দিচ্ছে, ১২ ফেব্রুয়ারির অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের সাধারণ মানুষ।

আরও পড়ুন

×