ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

ভোট দেওয়ায় তালাক, গৃহবধূর পাশে দাঁড়ালো বিএনপি

ভোট দেওয়ায় তালাক, গৃহবধূর পাশে দাঁড়ালো বিএনপি
×

ছবি: সমকাল

ফেনী প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৯:০২

ফেনী সদর উপজেলায় স্বামীর আদেশ অমান্য করে জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে যাওয়ায় স্ত্রীকে তালাক দেন ৯ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন কাওসার। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। পরে এ ঘটনায় ওই গৃহবধূর পাশে দাঁড়িয়েছে বিএনপি নেতারা।

স্থানীয়রা জানায়, ধর্মপুর ইউনিয়নের নয় নম্বর ওয়ার্ডের স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন কাওসার তার স্ত্রী জহুরাকে মৌখিকভাবে তালাক দেন। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে স্বামীর নিষেধ অমান্য করে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

ঘটনার পর স্থানীয়দের তোপের মুখে এলাকা ছাড়েন কাওসার। পরে শুক্রবার দুপুরে বাড়িতে ফিরে স্থানীয়দের চাপে নিজের ভুল স্বীকার করেন। তিনি জানান, একজন মুফতির পরামর্শ নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে পুনরায় সংসার করতে চান। বর্তমানে ওই গৃহবধূ তার শাশুড়ি ও তিন সন্তানসহ স্বামীর বাড়িতেই অবস্থান করছেন।

এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যায় গৃহবধূর সঙ্গে দেখা করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মশিউর রহমান বিপ্লব, ফেনী পৌরসভা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন ভূঞা এবং ধর্মপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তারসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তারা গৃহবধূ ও তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।

মশিউর রহমান বিপ্লব বলেন, ভোট দিতে যাওয়া ওই গৃহবধূর সংসার পুনর্বাসন, পরিচালনা ও সন্তানদের ভরণ পোষণে বিএনপি পাশে থাকবে। ফেনী জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি আবদুস ছাত্তার জানান, তাকে আইনি ও সামাজিক সহায়তা দেওয়া হবে।

ভুক্তভোগী গৃহবধূ বলেন, জীবনের প্রথম ভোট তিনি ধানের শীষ প্রতীকে দেন। এ কারণে তাকে মৌখিকভাবে তালাক দেওয়া হয়। তিনি ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে সমাধানের মাধ্যমে স্বামীর সংসারেই থাকতে চান। অন্যদিকে, কাওসারের মা শরীফা খাতুন বলেন, তার ছেলে অপরাধ করে থাকলে তাকে শাস্তি পেতে হবে। স্ত্রী-সন্তানদের মর্যাদা না দিলে তাকে ঘরে জায়গা দেয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন

×