নড়াইলের দুটি আসনে জামানত হারালেন ১১ প্রার্থী
লোহাগড়া (প্রতিনিধি) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৪:২৩
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নড়াইলের দুটি আসনে ১৬ প্রার্থীর মধ্যে ১১ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নড়াইল জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আব্দুল ছালামের স্বাক্ষরিত ভোটের ফলাফলপত্র যাচাই করে এ তথ্য জানা গেছে।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়,একটি নির্বাচনী এলাকায় যত ভোট পড়ে তার শতকরা সাড়ে ১২ শতাংশ ভোট কোনো প্রার্থী যদি না পান, তাহলে তার জামানতের টাকা বাজেয়াপ্ত হয়। সে হিসেবে এবার নড়াইলের দুটি আসনে ৫ প্রার্থী ব্যতীত বাকি ১১ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
এর মধ্যে নড়াইল-১ আসনে ১১২টি কেন্দ্রে (পোস্টাল ভোট সহ) মোট ভোট প্রদান করেন ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭৫৫ জন ভোটার। যা মোট ভোটের ৬৪ দশমিক ১৭ শতাংশ। ওই ভোটের সাড়ে ১২ শতাংশ হিসেবে সমীকরণ দাঁড়ায় ২৩ হাজার ৫৯৪ ভোট। তবে আসনে আটজন প্রার্থী নিবার্চন করেন, তার মধ্যে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে ৬ জনের।
তারা হলেন- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী আব্দুল আজিজ (হাতপাখা)। তিনি পেয়েছেন ৬ হাজার ৩৫২ ভোট। জাতীয় পার্টি মনোনীত লাঙল প্রতীকের প্রার্থী মিল্টন মোল্যা পেয়েছেন মাত্র ৪৬১ ভোট। কলস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী বি এম নাগিব হোসেন পেয়েছেন ১ হাজার ১১৩ ভোট। ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী লে. কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) এস এম সাজ্জাদ হোসেন পেয়েছেন ৮৯৮ ভোট। হরিণ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী উজ্জ্বল মোল্যা পেয়েছেন ২৩০ ভোট। ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সুকেশ সাহা আনন্দ পেয়েছেন ৮৬৪ ভোট। এ আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম ৯৯ হাজার ৯৭৫ ভোট পেয়ে বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. ওবায়দুল্লাহ ৭৫ হাজার ২২৫ ভোট পেয়েছেন।
নড়াইল-২ আসনে ১৪৮টি কেন্দ্রে (পোস্টাল ভোটসহ) মোট ভোট প্রদান করেন ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৮১ জন, যা মোট ভোটের ৬৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ সংগৃহীত হয়। ওই ভোটের সাড়ে ১২ শতাংশ সমীকরণ দাঁড়ায় ৩১ হাজার ৫৯৭ ভোট। এই আসনে ৮ জন প্রার্থী নির্বাচন করেন। তার মধ্যে ৫ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
তারা হলেন- জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী খন্দকার ফায়েকুজ্জামান ফিরোজ। তিনি পেয়েছেন মাত্র ৬৮৮ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মো. তাজুল ইসলাম পেয়েছেন ৪ হাজার ৭২৯ ভোট। গণঅধিকার পরিষদ মনোনীত ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী মো. নূর ইসলাম পেয়েছেন মাত্র ৩৩৯ ভোট। বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট মনোনীত ছড়ি প্রতীকের প্রার্থী শোয়েব আলী পেয়েছেন মাত্র ২২০ ভোট। জাহাজ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ফরিদা ইয়াসমিন পেয়েছেন ২১৯ ভোট।
নড়াইল-২ আসনে জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান বাচ্চু ১ লাখ ১৮ হাজার ১৪২ ভোট পেয়ে বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী কলস প্রতীকের অঅরহাজ মনিরুল ইসলাম ৭৮ হাজার ৪৫৭ ভোট পেয়েছেন। ধানের শীষের প্রার্থী এ জেড এম ফরিদুজ্জামান পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৪৬৩ ভোট।
