ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ফল বিশ্লেষণ

৪৭ বছরের বৃত্ত ভাঙতে ব্যর্থ বিএনপি

সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসন

৪৭ বছরের বৃত্ত ভাঙতে ব্যর্থ বিএনপি
×

শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি 

প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৯:১৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনে জামায়াতের প্রার্থী নজরুল ইসলাম এক লাখ পাঁচ হাজার ২৬২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী ড. মো. মনিরুজ্জামান পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৮০৫ ভোট। 

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির উপদেষ্টা পরিতোষ মণ্ডল অভিযোগ করছেন, ভোটের একদিন আগে বিএনপির অন্তত চারজন নেতা ভোটকেন্দ্রে যেতে তাদের (হিন্দু সম্প্রদায়) নিষেধ করেছেন। পরিতোষ মণ্ডলের দাবি, বিএনপি প্রার্থী পাস করলে ইফতেখার আলী ও আব্দুল ওয়াহেদ নামে জেলা ও উপজেলা বিএনপির দু’নেতার ক্যারিয়ার ধ্বংস হবে বলে তাদের ভোটকেন্দ্রে না যেতে অনুরোধ করা হয়।   

উপজেলার ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি আব্দুর রউফের ভাষ্য, মাসুদুল আলমের বাবা আব্দুল ওয়াহেদ মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার ক্ষোভে তারা নিজেদের কর্মী-সমর্থকদের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিতে উৎসাহ দিয়েছেন।   

উপজেলার কৈখালী ইউনিয়ন জামায়াত কর্মী সফি গাজীর ভাষ্য, উপজেলা বিএনপির এক শীর্ষ নেতা ও তাঁর অনুসারী ইউনিয়ন বিএনপির কয়েকজন নেতা জামায়াতকে সমর্থন দিয়েছেন। 

উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সোলায়মান কবির আক্ষেপ করে বলেন, মনোনয়নবঞ্চিত হওয়ার ক্ষোভে বিএনপির একটি অংশের নেতৃবৃন্দ ও তাদের অনুসারীরা বিরোধী পক্ষকে সমর্থন দেওয়ায় বিএনপির জন্য সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হলো। 

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মাসুদ আলমের দাবি, তাঁর এক নিকটাত্মীয় জামায়াতের এক প্রথম সারির নেতা তাঁকে জানান যে, বিএনপির একটি অংশ তাদের সমর্থন দিয়েছে। 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে মাসুদুল আলমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তাঁর বাবা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, এসব ফালতু কথা। আমার মতো দায়িত্বশীল মানুষের পক্ষে এসব কথা বলার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। 

সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইফতেখার আলী বলেন, একই দিনে দুটি কর্মসূচি থাকার কারণে ৯ ফেব্রুয়ারি শ্যামনগর জনসভায় যেতে পারিনি। এ কারণে তাঁকে শ্যামনগরের বিষয়ে টানা একদম উচিত না। 

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. মো. মনিরুজ্জামান বলেন,  বিএনপির কিছু নেতার গোপন বিরোধিতায় তাদের নিশ্চিত জয় হাতছাড়া হয়েছে। ইতিমধ্যে সংগৃহীত কিছু তথ্য-প্রমাণ কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে পৌঁছানো হয়েছে। সর্বশেষ ১৯৭৯ সালে বিএনপির টিকিটে সাতক্ষীরা শ্যামনগর আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন ডা. আফতাবুজ্জামান। পরে তাঁকে সরকারের বস্ত্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

×