হামলায় প্রাণ বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ দেওয়া যুবক দুইদিনেও উদ্ধার হয়নি, পরিবারের উৎকণ্ঠা
হালদার বিভিন্ন পয়েন্টে নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল সাব্বিরকে উদ্ধারে কাজ করতে দেখা যায়। ছবি: সমকাল
রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৪:০১ | আপডেট: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৪:০৪
চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার মার্দাশা এলাকার একটি উরস থেকে হালদা নদীতে নৌকাযোগে রাউজান ফেরার পথে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় প্রাণ বাঁচাতে হালদা নদীতে ঝাঁপ দেওয়া মো. সাব্বিরকে (২১) এখনও উদ্ধার করা যায়নি।
আজ সোমবার দুপুর ১টার দিকে হালদার বিভিন্ন পয়েন্টে নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল সাব্বিরকে উদ্ধারে কাজ করতে দেখা যায়। নিখোঁজ হওয়ার দুইদিন অতিবাহিত হলেও উদ্ধার তৎপরতা নিয়ে তার পরিবারের উৎকণ্ঠা বাড়ছে।
নিখোঁজ যুবক সাব্বির রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মইশকরম এলাকার মানু উল্ল্যাহ চৌধুরী বাড়ির আব্দুল মান্নানের ছেলে। তিনি পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি।
সাব্বিরের স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, গত শনিবার দিবাগত রাতে বন্ধুদের সাথে নিয়ে সাব্বির পাশ্ববর্তী উপজেলা হাটহাজারীর মাদার্শা এলাকার হযরত আবদুল করিম শাহ (রা.) এর বার্ষিক ওরস শরীফে যান। সেখানে ওরসের মেলায় কিছু যুবকের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি হয়। রাত আনুমানিক ১২টার দিকে হাটহাজারী উপজেলার মাদার্শা ইউনিয়নের রামদাশ মুন্সির হাট এলাকার হালদা নদীর খেয়াঘাটে ওরশ থেকে নৌকাযোগে হালদা নদী পারাপারের সময় নৌকায় লাঠিসোটা ও ইটের টুকরো দিয়ে অতর্কিত হামলা করে ২০/২৫ জনের একটি কিশোর গ্যাং। এ সময় প্রাণ বাঁচাতে নৌকায় তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন বন্ধু হালদা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতরে নিরাপদ স্থানে যেতে পারলেও সাব্বির নদীর স্রোতে তলিয়ে যায়।
গতকাল রোববার সকাল থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদলের দুটি ইউনিট, নৌ পুলিশের রামদাশহাট হাট ফাঁড়ির এএসআই রমজান আলীর নেতৃত্বে একটি টিম হালদা নদীর কয়েকটি পয়েন্টে তল্লাশি চালিয়েও তার খোঁজ পাওয়া যায়নি বলে জানান।
ঘটনার দুইদিন অতিবাহিত হওয়ার পরও আদরের সন্তানের খোঁজ না পাওয়ায় বাবা আবদুল মান্নান ও মা মনোয়ারা বেগমের আহাজারি থামছে না। হালদা পাড়ে ছেলের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায় তাদেরকে।
নৌ পুলিশ হাটহাজারীর রামদাসহাট ফাঁড়ির ইনচার্জ এএসআই রমজান আলী জানান, নিখোঁজ সাব্বিরের খোঁজে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।
