ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সুন্দরগঞ্জেও রমজানে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি

সুন্দরগঞ্জেও রমজানে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি
×

নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। ক্রেতারা বাজারে এসে দর-দাম করে চলে যাচ্ছেন। ছবিটি বৃহস্পতিবার সুন্দরগঞ্জ বাজার থেকে তোলা সমকাল

 সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৮:৪৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

সুন্দরগঞ্জের বাজারে মাছ, মাংস, কাঁচাবাজারসহ মুদি দোকানের বিভিন্ন পণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। সারাদিন সিয়াম সাধনার পর একটু ভালো খাবারের আশায় বাজারে গিয়ে পণ্যের ঊর্ধ্বমুখী দাম 
দেখে বিমুখ হয়ে ফিরে আসছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের সাধারণ ক্রেতারা। 

এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী কারসাজি করে এসব পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সাধারণ ক্রেতাদের দাবি, প্রশাসন থেকে বাজার নিয়মিত মনিটর করা প্রয়োজন।
পৌরসভার অটোচালক শাহ আলম মিয়া তাঁর কষ্টের কথা জানিয়ে বলেন, সারাদিন রিকশা চালিয়ে যা রোজগার হয়, তা দিয়ে কোনোমতে চাল, ডাল, লবণ আর তেল কেনা সম্ভব। 
ভরা মৌসুমেও কাঁচাবাজারে যাওয়ার সাধ্য নেই তাঁর মতো অনেকের। মাছ, মাংস বা দুধ কেনা তো দূরের কথা, রমজান মাসে ভালো খাবারের কোনো সুযোগ নেই। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, 
যে হারে প্রতিদিন সবজিসহ প্রতিটি জিনিসের দাম বাড়ছে, তাতে মাসে একদিনও মাছ বা মাংস কেনা সম্ভব হবে না।

কালিতলা বাজারে আসা ৮৫ বছর বয়সী মোজাহার আলী তাঁর ফেলে আসা দিনগুলোর কথা মনে করে বলেন, এক সময় এক কেজি আলু ২৫ পয়সা, বেগুন ২০ পয়সা, পটোল ১৫ পয়সা 
আর মরিচ ৩০ পয়সায় কিনেছিলেন। অথচ আজ সেই আলু ১২ থেকে ২০ টাকা, বেগুন ৪০ থেকে ৬০ টাকা, মুলা ও কুমড়া ৬০ টাকা, করলা ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং কাঁচামরিচ ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৬০ টাকা, শিম ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং শসা ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে। তাঁর মতে, এভাবে দাম বাড়তে থাকলে গরিব মানুষের পক্ষে বাজার করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে গরুর মাংস, খাসির মাংস, মুরগি ও মাছের দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়ে গেছে। মুদি দোকানে সেমাই, চিনি, বুট, খেজুর, মুড়ি, চিড়া ও কলার দামও রমজান উপলক্ষে চড়া। 

সুন্দরগঞ্জ বাজারের সবজি ব্যবসায়ী হামিদুল ইসলাম জানান, স্থানীয়ভাবে শুধু সামান্য বেগুন, আলু, শিম ও কপি ছাড়া আর কিছু পাওয়া যাচ্ছে না। অধিকাংশ সবজি রাজশাহী, বগুড়া ও দিনাজপুর থেকে আনতে হচ্ছে, যার ফলে পরিবহন খরচের কারণে সবজির দাম একধাপ বেড়ে 
গেছে। পাইকার আসাদুল ইসলামও একই কথা বলেন, জেলা শহর থেকে সবজি আনতে দ্বিগুণ পরিবহন খরচ দিতে হচ্ছে।
অন্যদিকে, শান্তিরাম গ্রামের সবজি চাষি পলাশ চন্দ্র জানান, হাল চাষ থেকে শুরু করে বীজ, সার এবং দিনমজুরের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদের উৎপাদিত পণ্য বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে, অন্যথায় লোকসান গুনতে হবে। তবে তাঁর অভিযোগ, আড়তদার এবং পাইকাররা কৃষকের কাছ থেকে পণ্য কেনার পর কারসাজি করে বেশি দামে বিক্রি করছে। 
মুদি দোকানদার কেশব চন্দ্রের মতে, ডিলাররা দাম বাড়ালে খুচরা বিক্রেতাদের কিছু করার থাকে না। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান তুলি বলেন, রমজানে সকলকে সহনশীল থাকতে হবে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই বাজার মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে।
 

আরও পড়ুন

×