ফুলবাড়ী উপশহর প্রকল্প গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর
আজিজুল হক সরকার, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর)
প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৮:৪৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
দীর্ঘ ৪৬ বছর ধরে ঝুলে থাকার পর দিনাজপুরের ফুলবাড়ী হাউজিং এস্টেট প্রকল্পটি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়নের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। জমি অধিগ্রহণ, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং চিঠিপত্র চালাচালির দীর্ঘ পথ পেরিয়ে সম্প্রতি জমিটি জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষক নেতা নাজিম উদ্দিন মণ্ডল বলেন, ৪৬ বছরের অবহেলার অবসান ঘটিয়ে ফুলবাড়ী হাউজিং এস্টেট এখন নতুন রূপ পাওয়ার অপেক্ষায়। কৃষিজমির অপচয় রোধ এবং আবাসন সংকট নিরসনে দ্রুত বাস্তবায়নই এখন মূল লক্ষ্য।
১৯৭৯ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সরকার ফুলবাড়ী উপজেলাকে মহকুমা (সাব-ডিভিশন) করার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই লক্ষ্যে সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসনের জন্য শহরের প্রাণকেন্দ্রে ১১ দশমিক ৬৯ একর জমি অধিগ্রহণ করে ‘উপশহর প্রকল্প’ গ্রহণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে মৃত হাজি সুলতান হোসেন ১১২ শতাংশ, মৃত দেলোয়ার হোসেনের ৭৫ শতাংশ জমি ছাড়াও মৃত রহমতুল্লাহ, মৃত সিদ্দিক মিয়া, মৃত আ. জব্বার, মোন্নাফ কমিশনার, মৃত জুবু উদ্দিনসহ অনেকের কাছ থেকে ১১.৬৯ একর জমি নেওয়া হয়। জমির মূল্য বাবদ ৫ লাখ ৭৭ হাজার ২৬০ টাকা পরিশোধ করা হয় জমির মালিকদের। ১৯৮০ সালের দিকে ৯১টি প্লট, রাস্তা এবং বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ শুরু হলেও সরকার পরিবর্তনের পর ১৯৮৪ সালে পুরো প্রকল্পটি থমকে যায়। এতে লোকসানের মুখে পড়ে কৃষি ও জননিরাপত্তা।
জমিদাতারা সমকাল প্রতিবেদককে জানান, তৎকালীন সময়ে অত্যন্ত কম মূল্যে (বিঘাপ্রতি ১৪ হাজার টাকা) তারা জমি দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। তাও আবার কিস্তিতে। বর্তমানে এসব জমির দাম শতকপ্রতি চার থেকে ছয় লাখ টাকা।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, গত ৪৬ বছরে এই ১২ একর জমিতে চাষাবাদ হলে প্রায় ৩ হাজার ৯৮ টন ধান উৎপাদন হতো, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ১০ কোটি টাকা। দীর্ঘ
সময় পতিত থাকায় জায়গাটি মাদকসেবী ও অপরাধীদের আস্তানায় পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন মুহুরিসহ স্থানীয়রা। বর্তমানে কিছু স্থানীয় বেকার যুবক অনাবাদি জমিতে ধান চাষ করছেন। তবে তারা জানিয়েছেন, কর্তৃপক্ষ কাজ শুরু করলেই তারা জমি ছেড়ে দেবেন।
সাবেক পৌর মেয়র মাহমুদ আলম লিটন জানান, জায়গার অভাবে পৌরসভা পার্ক বা খেলার মাঠ করতে পারছে না, অথচ এত বড় জমি অব্যবহৃত পড়ে আছে। স্থানীয় বিএনপি নেতা ও অধ্যক্ষ খুরশিদ আলম মতি শহীদ জিয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে দ্রুত প্রকল্পটি দৃশ্যমান করার দাবি জানান।
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের দিনাজপুর ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী বাদল কুমার মণ্ডল জানান, গত ৫ নভেম্বর জেলা প্রশাসন জমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে। পুরো এলাকা সার্ভে করে নকশা অনুমোদনের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। দ্রুতই লটারির মাধ্যমে প্লট বরাদ্দ দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হবে।
- বিষয় :
- গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়
